রোজার ফরজ , ওয়াজিব ও সুন্নাত সমূহ
রোজার ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত: সম্পূর্ণ গাইড এবং বিস্তারিত আলোচনা
ভূমিকা
রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। রোজা সঠিকভাবে পালন করতে হলে এর ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। ফরজ বিষয়গুলো না মানলে রোজা ভেঙে যায়, ওয়াজিব ছুটে গেলে কাফফারা দিতে হয় এবং সুন্নত পালন করলে রোজা পূর্ণতা পায়। অনেকে রোজার মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় ভুল করে বসেন। এই লেখায় আমরা কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে রোজার ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা করব যা আপনার রোজা পালনে সহায়ক হবে এবং ইবাদতকে আরও অর্থবহ করে তুলবে।
রোজার ফরজ কাজসমূহ
রোজার মূলত দুটি ফরজ রয়েছে যেগুলো ছাড়া রোজা সম্পূর্ণ হয় না। প্রথম ফরজ হলো নিয়ত করা। রমজানের প্রতিটি রোজার জন্য রাতে বা সুবহে সাদিকের আগে নিয়ত করা ফরজ। নিয়ত মূলত অন্তরের বিষয়, তবে মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। হাদিসে বর্ণিত আছে যে সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেকে তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে।
দ্বিতীয় ফরজ হলো পানাহার ও রোজা ভঙ্গকারী সকল বিষয় থেকে বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার, পানীয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মিলন থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খেলে বা পান করলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হবে।
এছাড়া রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা, ইনজেকশন বা স্যালাইনের মাধ্যমে পুষ্টি গ্রহণ করা এবং ধূমপান করা রোজা ভঙ্গের কারণ। তবে ভুলে কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙে না, এটি আল্লাহর রহমত। মনে পড়ার সাথে সাথে পানাহার বন্ধ করে দিলেই রোজা বহাল থাকে।
রোজার ফরজ পালন করা প্রতিটি রোজাদারের দায়িত্ব। এই দুটি ফরজ সঠিকভাবে পালন করলে রোজা আদায় হয়ে যায় বলে আশা করা যায়। তবে পূর্ণাঙ্গ রোজার জন্য ওয়াজিব ও সুন্নত বিষয়গুলোও গুরুত্বের সাথে পালন করা উচিত।
আরো পড়ুন: রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া আরবি ও বাংলা উচ্চারণ সহ
রোজার ওয়াজিব বিষয়সমূহ
রোজার ওয়াজিব হলো সেই কাজগুলো যা ছুটে গেলে রোজা ভাঙে না কিন্তু কাফফারা বা ফিদইয়া দিতে হয়। প্রথম ওয়াজিব হলো সাহরি খাওয়া বন্ধ করা। সুবহে সাদিকের আগেই সেহরি শেষ করতে হবে। যদি সুবহে সাদিকের পরে খাওয়া চালিয়ে যাওয়া হয় তাহলে সেই রোজা কাজা করতে হবে।
দ্বিতীয় ওয়াজিব হলো ইফতার তাড়াতাড়ি করা। সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নত এবং বিলম্ব না করা উচিত। হাদিসে বলা হয়েছে যে মানুষ যতদিন তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন কল্যাণে থাকবে। অনেকে সতর্কতার জন্য সূর্যাস্তের পরেও দেরি করেন যা ঠিক নয়।
তৃতীয় ওয়াজিব হলো রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা। শুধু পানাহার নয়, বরং মিথ্যা কথা, গীবত, অশ্লীল কথাবার্তা এবং সকল প্রকার পাপকাজ থেকে দূরে থাকা রোজার অংশ। হাদিসে বর্ণিত আছে যে যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী আমল পরিত্যাগ করল না, তার পানাহার পরিত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।
চতুর্থ ওয়াজিব হলো রমজানের পূর্ণ মাস রোজা রাখা। কোনো ওজর ছাড়া রোজা ভাঙা বা ছেড়ে দেওয়া কবিরা গুনাহ। যদি কেউ অসুস্থতা বা সফরের কারণে রোজা রাখতে না পারে, তাহলে পরে কাজা আদায় করতে হবে। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েরা যদি নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তাহলে রোজা না রেখে পরে কাজা করতে পারবেন।
রোজার সুন্নত কাজসমূহ
রোজার সুন্নত বলতে সেই কাজগুলো বোঝায় যা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে করেছেন এবং উম্মতকে করতে উৎসাহিত করেছেন। প্রথম সুন্নত হলো সেহরি খাওয়া। হাদিসে সেহরিকে বরকতময় খাবার বলা হয়েছে এবং রাসুল (সা.) বলেছেন যে সেহরি খাও কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে। সেহরি খেলে সারাদিন রোজা রাখা সহজ হয় এবং শারীরিক শক্তি পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় সুন্নত হলো খেজুর দিয়ে ইফতার করা। রাসুল (সা.) তাজা বা শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। খেজুরের পুষ্টিগুণ বেশি এবং এটি দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। ইফতারের সময় দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময়, তাই এই মুহূর্তে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।
তৃতীয় সুন্নত হলো ইফতারের সময় দোয়া পড়া। "আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু" এই দোয়া পড়ে ইফতার করা সুন্নত। এছাড়া "যাহাবাজ জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া ছাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ" এই দোয়াও পড়া যায়।
চতুর্থ সুন্নত হলো রোজা অবস্থায় বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা, তারাবির নামাজ পড়া এবং দান-সদকা করা। রমজান মাসে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় তাই এই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। রাসুল (সা.) রমজানে অধিক পরিমাণে দান করতেন এবং কুরআন তিলাওয়াত করতেন।
আরো পড়ুন: রমজানে কোন আমল আল্লাহ সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন?
রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ
রোজা ভঙ্গের কিছু নির্দিষ্ট কারণ আছে যা সম্পর্কে প্রতিটি রোজাদারের জানা উচিত। ইচ্ছাকৃত পানাহার করা রোজা ভঙ্গের প্রধান কারণ। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যায়। তবে ভুলে খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙে না এবং রোজা চালিয়ে যেতে হয়।
ইচ্ছাকৃত বমি করলে রোজা ভাঙে। তবে অনিচ্ছায় বমি হলে রোজা ভাঙে না। যদি বমি এমনভাবে আসে যে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে রোজা বহাল থাকে। কিন্তু ইচ্ছা করে গলায় আঙুল দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে বমি করলে রোজা ভেঙে যায়।
স্বামী-স্ত্রীর মিলন রোজা ভঙ্গের কারণ এবং এর জন্য কঠোর কাফফারা রয়েছে। রমজানের দিনে ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করলে একাধারে ৬০ দিন রোজা রাখতে হয় বা ৬০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হয়। তাই এ ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।
মহিলাদের হায়েজ-নেফাস শুরু হলে সাথে সাথে রোজা ভেঙে যায়। এই অবস্থায় রোজা রাখা জায়েজ নেই এবং পরে কাজা আদায় করতে হবে। অসুস্থতা বা সফরের কারণে রোজা ভাঙলে শুধু কাজা আদায় করলেই চলবে, কাফফারা লাগবে না। ইসলাম সহজ ধর্ম এবং আল্লাহ বান্দার উপর সাধ্যাতীত বোঝা চাপান না।
আরো পড়ুন: রোজা রাখার নিয়ম ও নিয়ত
রোজার মাকরুহ ও মুস্তাহাব বিষয়
রোজা অবস্থায় কিছু কাজ মাকরুহ যেগুলো না করাই উত্তম। অতিরিক্ত কুলি করা বা নাকে পানি নেওয়া মাকরুহ কারণ এতে পেটে পানি যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে ওজু করার সময় স্বাভাবিকভাবে কুলি ও নাকে পানি দেওয়া যায়। শুধু সতর্ক থাকতে হবে যাতে গলায় বা পেটে পানি না যায়।
কোনো কিছু চেখে দেখা মাকরুহ যদি না একান্ত প্রয়োজন হয়। যেমন রান্নায় লবণ কম না বেশি তা বুঝতে সামান্য চেখে দেখা যায়, তবে গিলে ফেলা যাবে না। ব্রাশ করা বা টুথপেস্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে যাতে কিছু পেটে না যায়। অনেক আলেম রোজা অবস্থায় মিসওয়াক ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
অহেতুক কথাবার্তা, গীবত, মিথ্যা বলা এবং ঝগড়া-বিবাদ করা রোজার জন্য ক্ষতিকর। হাদিসে বলা হয়েছে যে রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়, বরং মিথ্যা ও অসৎ কাজ থেকেও বিরত থাকা। কেউ রোজাদারকে গালি দিলে বা ঝগড়া করতে চাইলে বলা উচিত "আমি রোজাদার" এবং প্রতিক্রিয়া না দেখানো।
মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় কাজের মধ্যে রয়েছে সেহরি দেরিতে খাওয়া এবং ইফতার তাড়াতাড়ি করা। অন্যকে ইফতার করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। হাদিসে বলা হয়েছে যে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, সে রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে। তাই পরিবার, প্রতিবেশী বা গরিব-মিসকিনদের ইফতার করানোর চেষ্টা করা উচিত।
রোজা কাজা ও কাফফারা
রোজা কাজা করার নিয়ম জানা প্রয়োজন। যদি কোনো ওজরের কারণে রমজানে রোজা রাখতে না পারা যায়, তাহলে পরে কাজা আদায় করতে হবে। অসুস্থতা, সফর, হায়েজ-নেফাস এবং গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানের কারণে রোজা ছাড়া যায় এবং পরে কাজা করতে হয়। কাজা রোজা পরবর্তী রমজান আসার আগেই আদায় করা উচিত।
যদি পরবর্তী রমজান এসে যায় এবং আগের রমজানের কাজা বাকি থাকে, তাহলে প্রতিটি রোজার জন্য একজন মিসকিনকে খাবার দিতে হবে এবং কাজাও আদায় করতে হবে। তবে যদি কেউ অসুস্থতার কারণে কাজা করতে না পারে, তাহলে শুধু ফিদইয়া দিলেই চলবে।
কাফফারা হলো রমজানের দিনে ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙলে যে শাস্তি দিতে হয়। স্বামী-স্ত্রীর মিলন বা ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে কাফফারা ওয়াজিব হয়। কাফফারা হলো একাধারে ৬০ দিন রোজা রাখা। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়াতে হবে।
কাফফারা অত্যন্ত কঠিন তাই রমজানে রোজা ভাঙা থেকে সর্বদা বিরত থাকা উচিত। তবে ভুলবশত বা অনিচ্ছাকৃত কোনো কারণে রোজা ভাঙলে শুধু কাজা করলেই চলবে, কাফফারা লাগবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং তিনি বান্দার ভুল ক্ষমা করে দেন যদি তওবা করা হয়।
উপসংহার
রোজা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং এর ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত সঠিকভাবে পালন করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। নিয়ত করা এবং পানাহার থেকে বিরত থাকা রোজার দুটি ফরজ যা অবশ্যই পালন করতে হবে। ওয়াজিব কাজগুলো ছুটে গেলে কাফফারা দিয়ে ত্রুটি পূরণ করা যায়। সুন্নত কাজগুলো পালন করলে রোজা পূর্ণতা পায় এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি হয়।
আসুন, আমরা রোজার সকল বিধান মেনে পূর্ণাঙ্গভাবে রোজা পালন করি। শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা নয়, বরং সকল প্রকার পাপ ও অসৎ কাজ থেকে দূরে থাকি। রোজা আমাদের তাকওয়া শেখায় এবং আত্মসংযমের প্রশিক্ষণ দেয়। এই শিক্ষা আমরা সারা বছর জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করি।
রোজা রাখার পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং নেক আমল বৃদ্ধি করুন। মানুষের সেবা করুন এবং অন্যকে ইফতার করান। আল্লাহ আমাদের সবার রোজা কবুল করুন এবং রমজানের পূর্ণ বরকত দান করুন। আমীন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. রোজার নিয়ত কি প্রতিদিন আলাদা করতে হয়?
হ্যাঁ, রমজানের প্রতিটি রোজার জন্য আলাদা নিয়ত করা উত্তম। নিয়ত রাতে বা সুবহে সাদিকের আগে করতে হয়। নিয়ত মূলত অন্তরের বিষয়, তবে মুখে উচ্চারণ করা উত্তম। যদি কেউ রাতে নিয়ত করতে ভুলে যায়, তাহলে দিনের বেলায় সূর্য ঢলার আগপর্যন্ত নিয়ত করা যায় তবে রাতে নিয়ত করাই সর্বোত্তম। নিয়তের সময় এই মনে মনে বলা যায় যে আগামীকাল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রমজানের ফরজ রোজা রাখব।
২. ভুলে কিছু খেয়ে ফেললে রোজা কি ভেঙে যাবে?
না, ভুলে কিছু খেয়ে বা পান করে ফেললে রোজা ভাঙে না। এটি আল্লাহর বিশেষ রহমত। হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে আল্লাহ তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন। তবে মনে পড়ার সাথে সাথে পানাহার বন্ধ করতে হবে এবং রোজা চালিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে কাজা বা কাফফারা কোনোটিই প্রয়োজন নেই। তাই ভুল হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, শুধু সতর্ক হয়ে রোজা চালিয়ে যান।
৩. রোজা অবস্থায় ইনজেকশন নেওয়া যাবে কি?
সাধারণ চিকিৎসার জন্য যে ইনজেকশন দেওয়া হয় তা নিলে রোজা ভাঙে না বলে অধিকাংশ আলেমের মত। তবে পুষ্টিকর ইনজেকশন বা স্যালাইন যা খাবারের বিকল্প হিসেবে দেওয়া হয়, সেগুলো নিলে রোজা ভেঙে যায়। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ইনজেকশন নেওয়া যায় এবং পরে কাজা করা যায়। তবে যদি রমজানের পরে চিকিৎসা করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটাই উত্তম। জীবন রক্ষা সর্বাধিক প্রাধান্য পায় ইসলামে।
৪. গর্ভবতী মায়েরা কি রোজা রাখতে পারবে?
গর্ভবতী মায়েরা যদি নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তাহলে রোজা না রেখে পরে কাজা আদায় করতে পারবেন। ইসলাম সহজ ধর্ম এবং কষ্টের সময় ছাড় দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যদি স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রোজা রাখতে কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে রোজা রাখা যায়। স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। মা ও শিশুর সুস্থতা প্রথম অগ্রাধিকার।
৫. রোজা কাজা কখন আদায় করতে হবে?
রমজানের পরে যেকোনো সময় রোজা কাজা আদায় করা যায়, তবে পরবর্তী রমজান আসার আগেই শেষ করা উচিত। কাজা রোজা একসাথে রাখার প্রয়োজন নেই, বিভিন্ন সময়ে রাখা যায়। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজা আদায় করা উত্তম। যদি পরবর্তী রমজান এসে যায় এবং কাজা বাকি থাকে, তাহলে প্রতিটি রোজার জন্য ফিদইয়া দিতে হবে এবং কাজাও আদায় করতে হবে। শাওয়াল মাসে কাজা রোজা রাখা অনেকে পছন্দ করেন।

