রোজা রাখার নিয়ম ও নিয়ত | কুরআন হাদীসের আলোকে
রোজা রাখার সঠিক নিয়ম ও নিয়ত | কুরআন ও হাদীসের আলোকে
ভূমিকা
রোজা ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। প্রতিবছর রমজান মাসে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান এই ইবাদত পালন করে থাকেন। তবে রোজা শুধু খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের একটি মাধ্যম। রোজা সঠিকভাবে পালন করতে হলে এর নিয়ম-কানুন ও শর্তাবলী জানা অত্যাবশ্যক। অনেকেই রোজার মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন। এই লেখায় আমরা কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে রোজা রাখার সঠিক নিয়ম, নিয়তের পদ্ধতি এবং রোজার শর্তাবলী বিস্তারিত আলোচনা করব, যা আপনার রমজানকে আরও অর্থবহ করে তুলতে সাহায্য করবে।
রোজার সংজ্ঞা ও গুরুত্ব
রোজার আরবি শব্দ 'সিয়াম' বা 'সওম', যার অর্থ বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় রোজা হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পানাহার ও অন্যান্য রোজা ভঙ্গকারী বিষয় থেকে বিরত থাকা।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন যে, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পার। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীরুতা অর্জন করা।
রোজা মুসলমানদের ধৈর্য, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায়। এটি ধনী-গরিবের মধ্যে সমতা সৃষ্টি করে এবং গরিবদের কষ্ট অনুভব করার সুযোগ দেয়। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এই ফজিলত অর্জনের জন্য রোজা সঠিক নিয়মে পালন করা অপরিহার্য।
রোজা ফরজ হওয়ার শর্তাবলী
রোজা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম (ভ্রমণে নয়) মুসলমানের উপর ফরজ। তবে কিছু শর্ত পূরণ হতে হয়। প্রথম শর্ত হলো মুসলমান হওয়া। দ্বিতীয়ত, বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া। ছোট শিশুদের উপর রোজা ফরজ নয়, তবে অভ্যাস গড়ার জন্য অভিভাবকরা তাদের রোজা রাখতে উৎসাহিত করতে পারেন।
তৃতীয় শর্ত হলো সুস্থ থাকা। যারা অসুস্থ এবং রোজা রাখলে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে, তারা পরে কাজা আদায় করবেন। চতুর্থ শর্ত মুকিম বা নিজ শহরে অবস্থান করা। শরিয়ত অনুযায়ী নির্ধারিত দূরত্বে সফররত ব্যক্তি রোজা না রাখার অনুমতি পেতে পারেন।
মহিলাদের ক্ষেত্রে হায়েজ-নেফাস থেকে পবিত্র থাকা শর্ত। এই অবস্থায় রোজা রাখা বৈধ নয় এবং পরে কাজা করতে হয়। আকল বা জ্ঞানসম্পন্ন হওয়াও একটি শর্ত। মানসিকভাবে অসুস্থ বা জ্ঞানহীন ব্যক্তির উপর রোজা ফরজ নয়। এই শর্তগুলো মেনে রোজা পালন করলে তা আশা করা যায় যে আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে।
আরো পড়ুন: রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া আরবি ও বাংলা উচ্চারণ সহ
রোজার নিয়ত: পদ্ধতি ও সময়
নিয়ত ইসলামী শরিয়তের একটি মৌলিক বিষয়। হাদিসে বর্ণিত আছে যে সকল কাজের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভর করে। রোজার নিয়ত মূলত অন্তরের সংকল্প, তবে মুখে উচ্চারণ করা উত্তম বলে অনেক আলেম মনে করেন।
রমজানের রোজার নিয়ত রাতে করতে হয়, সুবহে সাদিকের আগে। সেহরি খাওয়ার সময়ই নিয়ত করা যায়। অনেকে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে যান, এতেও নিয়ত হয়ে যায় যদি রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সেহরি করা হয়। তবে স্পষ্টভাবে নিয়ত করা উত্তম।
নিয়তের আরবি দোয়া রয়েছে: "নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রামাদানাল মুবারাকি ফারদাল লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি"। যারা আরবি মুখস্থ করতে পারেন না, তারা বাংলায় বলতে পারেন: "হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল তোমার সন্তুষ্টির জন্য রমজানের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম।"
নফল রোজার ক্ষেত্রে দিনের বেলায়ও নিয়ত করা যায়, তবে ফরজ রোজার নিয়ত রাতেই করতে হয়। প্রতিদিন আলাদা নিয়ত করা উত্তম, যদিও একবার নিয়ত করে পুরো মাস রোজা রাখা যায় বলে কিছু মত আছে। তবে সতর্কতার জন্য প্রতিদিন নিয়ত করা উচিত।
রোজা রাখার নিয়ম ও করণীয়
রোজা রাখার জন্য প্রথমে সেহরি খাওয়া সুন্নত। হাদিসে সেহরিকে বরকতময় খাবার বলা হয়েছে। সেহরি যতটা সম্ভব দেরি করে খাওয়া উত্তম, তবে সুবহে সাদিকের আগেই শেষ করতে হবে।
দিনের বেলায় পানাহার, স্বামী-স্ত্রীর মিলন এবং যেকোনো কিছু খাদ্যনালীতে প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকতে হবে। শুধু শারীরিক বিরত থাকা নয়, বরং মিথ্যা কথা, গীবত, অশ্লীল কথাবার্তা এবং সকল প্রকার পাপকাজ থেকে দূরে থাকতে হবে। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী আমল পরিত্যাগ করল না, তার পানাহার পরিত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।
রোজা অবস্থায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করতে হবে। কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া-দরুদ, জিকির-আজকার এবং সৎকাজে বেশি সময় দিতে হবে। রমজান মাসে বেশি বেশি দান-সদকা করা উৎসাহিত করা হয়েছে।
বাস্তব উদাহরণ: রহিম সাহেব একজন ব্যবসায়ী। তিনি রমজান মাসে বিশেষভাবে সতর্ক থাকেন যেন কোনো মিথ্যা বা প্রতারণামূলক কথা না বলেন। এমনকি লাভের জন্যও তিনি গ্রাহকদের সাথে সততার সাথে ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, "রোজা শুধু খালি পেটে থাকা নয়, বরং আত্মাকেও পবিত্র রাখা।" এই মানসিকতা তার ব্যবসায়ে বরকত এনে দিয়েছে এবং মানুষ তাকে বিশ্বাস করে।
আরো পড়ুন: রমজানে কোন আমল আল্লাহ সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন?
রোজা ভঙ্গের কারণ ও কাফফারা
কিছু নির্দিষ্ট কারণে রোজা ভেঙে যায়। ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে রোজা ভাঙে এবং শুধু কাজা নয়, কাফফারাও দিতে হয়। কাফফারা হলো একাধারে ৬০টি রোজা রাখা অথবা ৬০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো। তবে এটি শুধু রমজানের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃত ভাঙলে প্রযোজ্য।
ভুলে কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙে না, এটি হাদিসে স্পষ্ট বলা আছে। মনে পড়ার সাথে সাথে বন্ধ করে দিলেই চলবে। অনিচ্ছাকৃত বমি হলে রোজা ভাঙে না, কিন্তু ইচ্ছাকৃত বমি করলে ভাঙে।
ইনজেকশন নেওয়া যায় কিনা এ বিষয়ে মতভেদ আছে। পুষ্টিকর ইনজেকশন বা স্যালাইন নিলে রোজা ভাঙে বলে অধিকাংশ আলেম মত দেন। তবে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরে কাজা করার সুযোগ আছে।
মহিলাদের হায়েজ-নেফাস শুরু হলে সাথে সাথে রোজা ভেঙে যায় এবং পরে কাজা করতে হয়। অসুস্থতা বা সফরের কারণে রোজা ভাঙলে শুধু কাজা আদায় করলেই হবে, কাফফারা লাগবে না। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মা যদি নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তাহলে রোজা না রেখে পরে কাজা করতে পারবেন।
ইফতার ও সেহরির আদব
ইফতার তাড়াতাড়ি করা সুন্নত। সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। খেজুর না থাকলে পানি দিয়ে ইফতার করা যায়। ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয় বলে হাদিসে উল্লেখ আছে, তাই এই সময়টা দোয়ায় কাটানো উত্তম।
ইফতারের দোয়া: "আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু"। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।
সেহরি খাওয়া সুন্নত এবং এতে বরকত রয়েছে। সেহরিতে পুষ্টিকর ও শক্তি প্রদানকারী খাবার খাওয়া উচিত যাতে সারাদিন সুস্থ থাকা যায়। সেহরি দেরিতে খাওয়া উত্তম, তবে ফজরের আজানের আগেই শেষ করতে হবে।
ইফতারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া উচিত নয়। পরিমিত খাবার গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং তারাবির নামাজে সুবিধা হয়।
বাস্তব উদাহরণ: ফাতিমা বেগম প্রতি রমজানে তার পরিবার ও পাড়ার কিছু গরিব মানুষের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করেন। তিনি নিজেও একই খাবার খান। এতে তার পরিবারে ঐক্য তৈরি হয় এবং সবাই মিলে ইফতারের আগে দোয়া করেন। এই ছোট্ট উদ্যোগ তাদের রমজানকে আরও অর্থবহ করে তোলে এবং দানের সওয়াবও পান।
আরো পড়ুন: রমজানে দোয়া কবুল হওয়ার সেরা সময়
রোজার ফজিলত ও আধ্যাত্মিক লাভ
রোজা শুধু একটি ইবাদত নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির একটি প্রশিক্ষণ। এক মাস রোজা রেখে মানুষ ধৈর্য, সহনশীলতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখে। এই গুণগুলো জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাজে লাগে।
হাদিসে বর্ণিত আছে যে জান্নাতে 'রাইয়ান' নামে একটি বিশেষ দরজা আছে যা দিয়ে শুধু রোজাদাররা প্রবেশ করবে। রোজা রাখলে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছরের দূরত্ব তৈরি হয় বলেও হাদিসে উল্লেখ আছে। এই ফজিলত পেতে হলে রোজা সঠিক নিয়মে ও আন্তরিকতার সাথে পালন করতে হবে।
রোজা মানুষকে গরিবের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। যখন একজন ধনী ব্যক্তি সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন যারা নিয়মিত ক্ষুধার্ত থাকে তাদের অবস্থা কেমন। এতে দানশীলতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়।
রোজা স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে। তবে মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, স্বাস্থ্য উপকার তো বোনাস হিসেবে পাওয়া যায়।
উপসংহার
রোজা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যা শুধু শারীরিক নয়, বরং আত্মিক ও নৈতিক উন্নতির মাধ্যম। সঠিক নিয়মে রোজা পালন করলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার আশা করা যায়। নিয়ত, সেহরি, ইফতার এবং দিনের বেলায় সকল প্রকার পাপকাজ থেকে বিরত থাকা রোজার অপরিহার্য অংশ।
আসুন, আমরা এই রমজানে শুধু পানাহার থেকেই নয়, বরং সকল প্রকার অন্যায় ও অসৎ কাজ থেকেও নিজেদের রক্ষা করি। রোজা আমাদের চরিত্রকে সুন্দর করুক, আমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি করুক এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় হোক।
প্রতিটি রোজা যেন আমাদের জীবনে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে। আমরা যেন রোজার শিক্ষা বছরের বাকি মাসগুলোতেও বহন করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সকলের রোজা কবুল করুন এবং রমজানের পূর্ণ বরকত দান করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. রোজার নিয়ত কি প্রতিদিন আলাদা করতে হয়?
হ্যাঁ, ফরজ রোজার ক্ষেত্রে প্রতিদিন আলাদা নিয়ত করা উত্তম এবং নিরাপদ। যদিও কিছু আলেমের মতে মাসের শুরুতে একবার নিয়ত করলেও চলে, তবে সতর্কতা ও নিশ্চিততার জন্য প্রতিদিন রাতে নিয়ত করা উচিত। নিয়ত মূলত মনের সংকল্প, তবে মুখে বলা উত্তম। সেহরির সময়েই নিয়ত করে নেওয়া যায়।
২. ভুলে খেয়ে ফেললে রোজা কি ভেঙে যায়?
না, ভুলে কিছু খেয়ে বা পান করে ফেললে রোজা ভাঙে না। হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে আল্লাহ তায়ালা তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন। তবে মনে পড়ার সাথে সাথে পানাহার বন্ধ করতে হবে এবং রোজা চালিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাজা বা কাফফারা কিছুই লাগবে না।
৩. অসুস্থতার কারণে রোজা ভাঙলে কী করতে হবে?
যদি কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে রোজা রাখতে না পারেন বা রোজা রাখলে অসুস্থতা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে, তাহলে রোজা না রেখে পরে কাজা আদায় করতে হবে। সুস্থ হওয়ার পর যেকোনো সময় এই রোজাগুলো রাখা যায়। দীর্ঘমেয়াদী রোগী যারা আদৌ রোজা রাখতে পারবেন না, তারা প্রতিটি রোজার জন্য ফিদইয়া দেবেন।
৪. সেহরি না খেয়ে কি রোজা রাখা যায়?
হ্যাঁ, সেহরি না খেয়েও রোজা রাখা যায়। সেহরি খাওয়া সুন্নত এবং এতে বরকত আছে, কিন্তু এটি ফরজ নয়। তবে সেহরি খেলে সারাদিন রোজা রাখতে সহজ হয় এবং শারীরিক শক্তি পাওয়া যায়। হাদিসে সেহরি খেতে উৎসাহিত করা হয়েছে, তাই যতটা সম্ভব সেহরি খাওয়া উচিত।
৫. রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট ব্যবহার করা যাবে কি?
টুথপেস্ট ব্যবহার করা যায়, তবে খুব সতর্ক থাকতে হবে যেন পেটে কিছু না যায়। অনেক আলেম রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন কারণ এর স্বাদ গলায় যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে মিসওয়াক ব্যবহার করা যায় যা সুন্নত এবং নিরাপদ। অথবা সেহরির পরে এবং ইফতারের পর ব্রাশ করা যেতে পারে।
