🛍️

Islamic Shopping

ইসলামিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সুন্দর পণ্য

View All →
Featured Islamic Prayer Mat

Premium Islamic Prayer Mat

আরামদায়ক ও সুন্দর ডিজাইনের নামাজের জায়নামাজ।

Check Price →
Popular Digital Tasbih

Digital Tasbih

দৈনন্দিন জিকির গণনার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল তাসবিহ।

Check Price →
Wooden Quran Stand

Wooden Quran Stand

কুরআন পড়ার সময় ব্যবহারের জন্য সুন্দর কাঠের স্ট্যান্ড।

Check Price →
Gift Islamic Gift

Islamic Gift Collection

পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য সুন্দর ইসলামিক উপহার।

Check Price →
Affiliate Disclosure: এই Shopping Section-এর কিছু লিংক affiliate link হতে পারে। আপনি এসব লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কিনলে আপনার অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই আমরা কমিশন পেতে পারি।

অপচয় না করার ইসলামিক শিক্ষা: কুরআন ও হাদীসের আলোকে

 অপচয় না করার ইসলামিক শিক্ষা: কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে মধ্যপন্থার জীবন

opochoy na korar islamic shikkha - kather tebile poriskar thala, khejur o pani


ভূমিকা

বিয়ের দাওয়াত শেষে ডেকোরেটরের লোকেরা যখন প্যান্ডেল খুলছে, তখন এক কোণে বড় বড় ডেকচিতে পড়ে থাকে অর্ধেক খাওয়া বিরিয়ানি, প্লেটে প্লেটে ফেলে রাখা মাংসের টুকরো। অথচ সেই একই শহরের অন্য কোথাও কেউ হয়তো সেদিন রাতে না খেয়ে ঘুমাতে যাচ্ছে।

শুধু খাবার নয়। খালি ঘরে চলতে থাকা ফ্যান-লাইট, অজুর সময় পুরো খুলে রাখা কল, আলমারিভর্তি না-পরা জামা, আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিং, অপচয় আমাদের জীবনে এত স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে আমরা প্রায় টেরই পাই না।

ইসলাম এ বিষয়ে খুব স্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ একটি শিক্ষা দেয়: অপচয়ও নয়, কৃপণতাও নয়, বরং মধ্যপন্থা। এই লেখায় কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপচয় এড়ানোর সেই শিক্ষা এবং এর বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরা হলো।

১. অপচয় কী: ইসরাফ ও তাবজির

কুরআনে অপচয় বোঝাতে মূলত দুটি শব্দ এসেছে, আর দুটির মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে।

ইসরাফ: সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া

"ইসরাফ" মানে বৈধ কোনো জিনিসেও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ করা। যেমন খাবার খাওয়া হালাল, কিন্তু প্রয়োজনের অনেক বেশি খাওয়া বা নষ্ট করা ইসরাফ। সূরা আল-আ'রাফের ৩১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।

তাবজির: অনর্থক বা ভুল জায়গায় খরচ

"তাবজির" মানে এমন জায়গায় সম্পদ খরচ করা, যেখানে খরচ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, বা যা অন্যায় ও অনর্থক কাজে ব্যয় হয়। সূরা আল-ইসরার ২৬ নম্বর আয়াতে আত্মীয়, অভাবী ও মুসাফিরের হক আদায়ের কথা বলার পরপরই বলা হয়েছে, আর কোনোভাবেই অপব্যয় করো না।

একটি সহজ উদাহরণ

আলেমগণ একটি উদাহরণ দিয়েছেন: কেউ যদি পুরো সম্পদ ভালো কাজে খরচ করে, তা তাবজির নয়। কিন্তু অনর্থক কাজে সামান্য খরচও তাবজির হতে পারে। অর্থাৎ পরিমাণের চেয়ে উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনই এখানে মূল বিবেচ্য।

২. কুরআনের দৃষ্টিতে মধ্যপন্থা

ইসলাম অপচয়কে নিরুৎসাহিত করে, কিন্তু এর বিপরীতে কৃপণতাকেও উৎসাহিত করে না। কুরআন বারবার মধ্যপন্থার কথা বলে।

রহমানের বান্দাদের বৈশিষ্ট্য

সূরা আল-ফুরকানের ৬৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের একটি গুণ বর্ণনা করা হয়েছে: তারা খরচ করার সময় অপচয়ও করে না, আবার কৃপণতাও করে না, বরং এ দুইয়ের মাঝামাঝি থাকে।

হাত গলায় বেঁধো না, পুরোপুরি খুলেও দিও না

সূরা আল-ইসরার ২৯ নম্বর আয়াতে একটি চমৎকার উপমা দেওয়া হয়েছে: তোমার হাত গলায় বেঁধে রেখো না, আবার পুরোপুরি প্রসারিতও করে দিও না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে।

হাত গলায় বাঁধা মানে কৃপণতা, আর পুরো খুলে দেওয়া মানে সব উজাড় করে দেওয়া। দুটোই প্রান্তিকতা।

মধ্যপন্থী উম্মত

সূরা আল-বাকারার ১৪৩ নম্বর আয়াতে মুসলিম উম্মাহকে "উম্মাতান ওয়াসাতা", অর্থাৎ মধ্যপন্থী জাতি বলা হয়েছে। খরচের ক্ষেত্রেও এই মধ্যপন্থা আমাদের পরিচয়ের অংশ।

৩. খাবারের অপচয়: প্রতিটি দানায় বরকত

আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি অপচয় হয় সম্ভবত খাবারে। রেস্টুরেন্ট, দাওয়াত, এমনকি নিজের ঘরেও প্লেটে খাবার ফেলে রাখা খুব সাধারণ বিষয়।

পড়ে যাওয়া লোকমাও তুলে নেওয়া

সহিহ মুসলিমের ২০৩৩ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ বলেছেন, তোমাদের কারও খাবারের লোকমা পড়ে গেলে সে যেন তা তুলে নেয়, ময়লা থাকলে পরিষ্কার করে খেয়ে নেয়, শয়তানের জন্য ফেলে না রাখে। আর খাওয়া শেষে আঙুল চেটে নেয়, কারণ সে জানে না খাবারের কোন অংশে বরকত রয়েছে।

একজনের খাবার দুজনের জন্য

সহিহ মুসলিমের ২০৫৯ নম্বর হাদীসে এসেছে, একজনের খাবার দুজনের জন্য, দুজনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট হয়। এটি ভাগাভাগি করে খাওয়ার প্রতি উৎসাহ দেয়।

পরিমিত খাওয়া

জামে তিরমিযীর ২৩৮০ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ পেট ভরে খাওয়াকে অপছন্দ করেছেন এবং পেটের এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি ও এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখার শিক্ষা দিয়েছেন।

বাস্তব পদক্ষেপ

  • প্লেটে প্রথমে অল্প নিন, প্রয়োজনে পরে আবার নিন।
  • বেঁচে যাওয়া খাবার ফ্রিজে সংরক্ষণ করে পরে খান, বা প্রতিবেশী ও অভাবীদের দিন।
  • দাওয়াতে অতিথির সংখ্যা অনুযায়ী পরিকল্পনা করে রান্না করুন।

৪. পানি ও বিদ্যুতের অপচয়

পানি ও বিদ্যুৎ এমন দুটি নিয়ামত, যার অপচয় আমরা প্রতিদিন না বুঝেই করি।

রাসূল ﷺ-এর অজুর পানি

সহিহ বুখারী (২০১) ও সহিহ মুসলিমের (৩২৫) হাদীসে আনাস (রা.) জানিয়েছেন, রাসূল ﷺ এক মুদ পানি দিয়ে অজু করতেন, আর এক সা থেকে পাঁচ মুদ পর্যন্ত পানি দিয়ে গোসল করতেন। এক মুদ মোটামুটি দুই হাতের অঞ্জলি ভরা পরিমাণ।

ভাবুন, আমরা অনেকে অজু করার সময় কল পুরো খুলে রাখি, আর কয়েক লিটার পানি নষ্ট হয়ে যায়। অথচ রাসূল ﷺ এর একটি ছোট অংশ দিয়েই পূর্ণাঙ্গ অজু করতেন।

আলেমগণ বলেছেন, ইবাদতের মধ্যেও যখন পানির অপচয় অপছন্দনীয়, তখন অন্য ক্ষেত্রে তো আরও বেশি।

বাসায় পানি বাঁচানোর উপায়

  • অজু ও দাঁত মাজার সময় কল মাঝে মাঝে বন্ধ রাখুন।
  • লিক হওয়া কল দ্রুত মেরামত করুন।
  • থালাবাসন ধোয়ার সময় একটি পাত্রে পানি নিয়ে ধুতে পারেন।

বিদ্যুৎ

রাসূল ﷺ-এর যুগে বিদ্যুৎ ছিল না, কিন্তু অপচয় না করার মূলনীতি এখানেও প্রযোজ্য। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ফ্যান-লাইট বন্ধ করা, প্রয়োজন ছাড়া এসি না চালানো, এগুলো ছোট অভ্যাস, কিন্তু একটি নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।

৫. পোশাক ও কেনাকাটায় অপচয়

অনলাইন শপিং আর "সেল" এর যুগে কেনাকাটায় অপচয় খুব সহজ হয়ে গেছে। প্রয়োজন না থাকলেও শুধু দাম কম দেখে বা অন্যকে দেখে কিনে ফেলা এখন সাধারণ বিষয়।

একটি সুন্দর মূলনীতি

সুনানে নাসায়ীর ২৫৫৯ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ বলেছেন, খাও, পান করো, পরিধান করো এবং দান করো, তবে অপচয় ও অহংকার ছাড়া। মুহাদ্দিসগণ এই হাদীসকে হাসান বলেছেন।

লক্ষ করুন, এখানে উপভোগ নিষেধ করা হয়নি। বরং দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে: অপচয় নয় এবং অহংকার নয়।

সম্পদ নষ্ট করা অপছন্দনীয়

সহিহ বুখারী (১৪৭৭) ও সহিহ মুসলিমের (১৭১৫) হাদীসে এসেছে, আল্লাহ তোমাদের জন্য তিনটি বিষয় অপছন্দ করেন: অনর্থক কথাবার্তা, অতিরিক্ত প্রশ্ন করা এবং সম্পদ নষ্ট করা।

কেনার আগে তিনটি প্রশ্ন

  1. এটা কি সত্যিই আমার প্রয়োজন? নাকি শুধু ভালো লাগছে?
  2. আগে থেকে কি এমন কিছু আছে? আলমারিতে কি একই রকম জামা পড়ে আছে?
  3. এটা কি কাউকে দেখানোর জন্য? উত্তর "হ্যাঁ" হলে একটু থামুন।

আর যে জামাগুলো আর পরা হয় না, সেগুলো আলমারিতে না রেখে অভাবী কাউকে দিয়ে দিন। এতে অপচয়ও এড়ানো যায়, দানের সওয়াবও পাওয়ার আশা থাকে।

৬. বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অপচয়

আমাদের সমাজে বিয়ে, জন্মদিন বা অন্যান্য অনুষ্ঠান অনেক সময় প্রতিযোগিতার মঞ্চ হয়ে ওঠে। কে কত বড় আয়োজন করল, কত পদের খাবার দিল, কত লাইটিং করল, এসব নিয়ে তুলনা চলে।

সুন্নাহর সরলতা

সহিহ বুখারীর ৫১৬৭ নম্বর হাদীসে আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)-এর বিয়ের পর রাসূল ﷺ তাঁকে বলেছিলেন, একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওয়ালিমা করো। অর্থাৎ ওয়ালিমা সুন্নাত, কিন্তু তা সামর্থ্য অনুযায়ী।

সামাজিক চাপ থেকে মুক্তি

অনেক পরিবার ঋণ করে, জমি বিক্রি করে বা সারা জীবনের সঞ্চয় খরচ করে বিয়ের আয়োজন করে, শুধু "মানুষ কী বলবে" এই ভয়ে। অথচ ইসলাম কাউকে সামর্থ্যের বাইরে চাপ দেয় না।

কিছু ভারসাম্যপূর্ণ পরামর্শ

  • অতিথির সংখ্যা ও খাবারের পদ সামর্থ্য অনুযায়ী ঠিক করুন।
  • বেঁচে যাওয়া খাবার আগে থেকে পরিকল্পনা করে এতিমখানা বা অভাবীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।
  • অতিরিক্ত আলোকসজ্জা ও আতশবাজির বদলে সেই অর্থের কিছু অংশ দানে খরচ করতে পারেন।

সরল অনুষ্ঠান মানে কম আনন্দ নয়। বরং ঋণমুক্ত, চাপমুক্ত আনন্দই হয়তো বেশি স্থায়ী।

৭. সময়ের অপচয়: সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ

টাকা হারালে আবার আয় করা যায়, কিন্তু সময় হারালে তা আর কখনো ফিরে আসে না। তাই সময়ের অপচয় হয়তো সবচেয়ে বড় অপচয়।

দুটি নিয়ামত, যাতে অনেকে ঠকে

সহিহ বুখারীর ৬৪১২ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ বলেছেন, দুটি নিয়ামত আছে, যে বিষয়ে অনেক মানুষ ঠকে যায়: সুস্থতা ও অবসর।

অর্থাৎ যখন শরীর সুস্থ থাকে আর হাতে সময় থাকে, তখন অনেকে সেটা কাজে লাগায় না। পরে যখন ব্যস্ততা বা অসুস্থতা আসে, তখন আফসোস করে।

সময়ের হিসাব

জামে তিরমিযীর ২৪১৭ নম্বর হাদীসে এসেছে, কিয়ামতের দিন বান্দাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তার জীবন কোথায় কাটিয়েছে, যৌবন কোথায় ব্যয় করেছে।

ডিজিটাল যুগের সময় অপচয়

একটি ছোট পরীক্ষা করে দেখুন: ফোনের সেটিংসে গিয়ে "স্ক্রিন টাইম" দেখুন। অনেকেই অবাক হন, দিনে কয়েক ঘণ্টা শুধু উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিংয়ে চলে যাচ্ছে।

বিনোদন বা বিশ্রাম ইসলামে নিষেধ নয়। কিন্তু লক্ষ্যহীনভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো সময়ের অপচয়। সেই সময়ের সামান্য অংশও যদি পরিবার, পড়াশোনা, কুরআন বা কোনো উপকারী কাজে দেওয়া যায়, জীবন অনেক বেশি অর্থবহ হতে পারে।

৮. ভারসাম্য: কৃপণতাও নয়

অপচয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কেউ যেন উল্টো প্রান্তে চলে না যান, সেজন্য এই অংশটি জরুরি।

আল্লাহ নিয়ামতের প্রকাশ দেখতে পছন্দ করেন

জামে তিরমিযীর ২৮১৯ নম্বর হাদীসে (হাসান) রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ পছন্দ করেন বান্দার ওপর তাঁর নিয়ামতের চিহ্ন দেখতে।

অর্থাৎ আল্লাহ যাকে সচ্ছলতা দিয়েছেন, তার পরিষ্কার, সুন্দর পোশাক পরা, পরিবারকে ভালো খাওয়ানো, এগুলো অপচয় নয়, বরং নিয়ামতের শুকরিয়া।

সৌন্দর্যও পছন্দনীয়

সহিহ মুসলিমের ৯১ নম্বর হাদীসে এক সাহাবি জানতে চেয়েছিলেন, কেউ যদি সুন্দর পোশাক ও সুন্দর জুতা পছন্দ করে, সেটা কি অহংকার? রাসূল ﷺ বলেছিলেন, আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছ মনে করা।

পরিবারের প্রতি কৃপণতা নয়

অপচয়ের ভয়ে নিজের পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচে কার্পণ্য করা ঠিক নয়। সহিহ বুখারীর ৫৫ নম্বর হাদীস অনুযায়ী, সওয়াবের আশায় পরিবারের জন্য খরচ করাও সদকা।

সারকথা হলো, প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করা, অহংকার ও প্রতিযোগিতা ছাড়া, এটাই ইসলামের মধ্যপন্থা।

৯. রাসূল ﷺ-এর সাদাসিধা জীবন এবং নিয়ামতের প্রশ্ন

নবীজীর ঘরের চিত্র

সহিহ বুখারীর ৬৪৫৯ নম্বর হাদীসে আয়েশা (রা.) তাঁর ভাগনে উরওয়াকে বলেছিলেন, আমরা একের পর এক নতুন চাঁদ দেখতাম, দুই মাসে তিনটি চাঁদ পার হয়ে যেত, অথচ রাসূল ﷺ-এর ঘরে চুলা জ্বলত না। উরওয়া জানতে চাইলেন, তাহলে আপনারা কী খেয়ে থাকতেন? তিনি বললেন, খেজুর আর পানি।

এটি দারিদ্র্যের গল্প নয়, বরং পছন্দের গল্প। রাসূল ﷺ চাইলে অনেক কিছু পেতে পারতেন, কিন্তু তিনি সাদাসিধা জীবন বেছে নিয়েছিলেন এবং যা আসত, তার বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন।

প্রতিটি নিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন

সূরা আত-তাকাসুরের শেষ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, সেদিন তোমাদের অবশ্যই নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এক গ্লাস ঠান্ডা পানি, এক প্লেট ভাত, মাথার ওপর ছাদ, সবকিছুই নিয়ামত। আর নিয়ামতের সবচেয়ে সুন্দর শুকরিয়া হলো এর যত্ন নেওয়া, অপচয় না করা, এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অংশ অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া।

অপচয় এড়ানো তাই শুধু অর্থনৈতিক বুদ্ধিমত্তা নয়, এটি কৃতজ্ঞতার একটি ইবাদত।

উপসংহার

অপচয় না করার ইসলামিক শিক্ষা আসলে কৃতজ্ঞতার শিক্ষা। খাবারের প্রতিটি দানা, অজুর প্রতিটি ফোঁটা, ঘরের প্রতিটি পয়সা আর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত। কুরআন ও সহিহ হাদীস আমাদের শেখায়, এগুলো উপভোগ করো, কিন্তু অপচয় ও অহংকার ছাড়া; আর কৃপণতাও করো না, বরং মধ্যপন্থায় থাকো।

আজ থেকেই ছোট কিছু পরিবর্তন দিয়ে শুরু করতে পারেন:

  1. আজ রাতের খাবারে প্লেটে প্রথমে অল্প নিন, আর খাওয়া শেষে প্লেট পরিষ্কার করে খাওয়ার সুন্নাতটি পালন করুন।
  2. পরের অজুতে কল অর্ধেক খুলে রাখুন এবং প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার ফাঁকে বন্ধ করুন।
  3. এই সপ্তাহে আলমারি থেকে এমন দুটি জামা বের করুন, যা গত এক বছরে পরা হয়নি, এবং কোনো অভাবী মানুষকে দিয়ে দিন।

আশা করা যায়, এই ছোট অভ্যাসগুলো আমাদের জীবনে বরকত বাড়াবে, আর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতার অনুভূতিও গভীর করবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অপচয় ও কৃপণতা থেকে মুক্ত থেকে মধ্যপন্থী জীবনযাপনের এবং তাঁর প্রতিটি নিয়ামতের যথাযথ শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক দান করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ইসলামে অপচয় সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

সূরা আল-আ'রাফের (৩১) আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না, তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। সূরা আল-ইসরার (২৬–২৭) আয়াতেও অপব্যয় না করার নির্দেশ এসেছে। সহিহ বুখারীর (১৪৭৭) হাদীসে সম্পদ নষ্ট করাকে আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ বলা হয়েছে।

২. ইসরাফ ও তাবজিরের মধ্যে পার্থক্য কী?

ইসরাফ মানে বৈধ কোনো বিষয়েও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ করা, যেমন অতিরিক্ত খাবার নষ্ট করা। আর তাবজির মানে অনর্থক, অযৌক্তিক বা অন্যায় কাজে সম্পদ ব্যয় করা। আলেমগণের মতে দুটিই নিরুৎসাহিত।

৩. ভালো পোশাক পরা বা ভালো খাবার খাওয়া কি অপচয়?

না। সহিহ মুসলিমের (৯১) হাদীসে এসেছে, আল্লাহ সুন্দর এবং সৌন্দর্য পছন্দ করেন। তিরমিযীর (২৮১৯) হাদীস অনুযায়ী আল্লাহ বান্দার ওপর তাঁর নিয়ামতের প্রকাশ দেখতে পছন্দ করেন। শর্ত হলো, সামর্থ্য অনুযায়ী হতে হবে এবং অহংকার বা প্রতিযোগিতা থাকা যাবে না।

৪. অজুতে পানির অপচয় এড়াতে কী করা উচিত?

সহিহ বুখারীর (২০১) হাদীস অনুযায়ী রাসূল ﷺ মাত্র এক মুদ পানি দিয়ে অজু করতেন। তাই অজুর সময় কল পুরো না খুলে রাখা, প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার ফাঁকে কল বন্ধ করা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করা উত্তম।

৫. সময় নষ্ট করাও কি অপচয়?

হ্যাঁ। সহিহ বুখারীর (৬৪১২) হাদীসে সুস্থতা ও অবসরকে এমন দুটি নিয়ামত বলা হয়েছে, যাতে অনেক মানুষ ঠকে যায়। জামে তিরমিযীর (২৪১৭) হাদীস অনুযায়ী কিয়ামতের দিন জীবন কীভাবে কাটিয়েছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। তবে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও বৈধ বিনোদন অপচয় নয়।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url