🛍️

Islamic Shopping

ইসলামিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সুন্দর পণ্য

View All →
Featured Islamic Prayer Mat

Premium Islamic Prayer Mat

আরামদায়ক ও সুন্দর ডিজাইনের নামাজের জায়নামাজ।

Check Price →
Popular Digital Tasbih

Digital Tasbih

দৈনন্দিন জিকির গণনার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল তাসবিহ।

Check Price →
Wooden Quran Stand

Wooden Quran Stand

কুরআন পড়ার সময় ব্যবহারের জন্য সুন্দর কাঠের স্ট্যান্ড।

Check Price →
Gift Islamic Gift

Islamic Gift Collection

পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য সুন্দর ইসলামিক উপহার।

Check Price →
Affiliate Disclosure: এই Shopping Section-এর কিছু লিংক affiliate link হতে পারে। আপনি এসব লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কিনলে আপনার অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই আমরা কমিশন পেতে পারি।

প্রকৃত সম্পদ কী? যা মৃত্যুর পরও সঙ্গে থাকে

প্রকৃত সম্পদ কী? কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে যা মৃত্যুর পরও সঙ্গে থাকে

prokrito sompod ki - kather tebile khola quran, tasbih o kichu poyosa


ভূমিকা

একজন মানুষ সারা জীবন খেটে একটি বাড়ি বানালেন। প্রতিটি ইট নিজে দেখে কিনেছেন, প্রতিটি জানালার রং নিজে বেছেছেন। একদিন তাঁর জানাজা সেই বাড়ির উঠান থেকেই বের হলো। বাড়িটা রয়ে গেল, তিনি চলে গেলেন।

আমরা সবাই জানি, মৃত্যুর পর টাকা-পয়সা, জমি, গাড়ি কিছুই সঙ্গে যায় না। তবু জীবনের বেশিরভাগ সময় এগুলোর পেছনেই কেটে যায়। প্রশ্ন হলো, তাহলে সঙ্গে যায় কী?

রাসূল ﷺ একটি ছোট্ট হাদীসে এর খুব স্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন। এই লেখায় আমরা সেই হাদীস এবং কুরআনের আলোকে দেখব, ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত সম্পদ কী, প্রকৃত ধনী কে, আর দুনিয়ার সম্পদকে কীভাবে এমনভাবে ব্যবহার করা যায়, যাতে তা আখিরাতের সম্পদে পরিণত হয়।

১. একটি হাদীস, যা চোখ খুলে দেয়

সহিহ বুখারী (৬৫১৪) ও সহিহ মুসলিমের (২৯৬০) হাদীসে রাসূল ﷺ একটি গভীর সত্য খুব সহজ ভাষায় বলেছেন। মৃত ব্যক্তির পেছনে পেছনে তিনটি জিনিস যায়: তার পরিবার, তার সম্পদ এবং তার আমল। এর মধ্যে দুটি ফিরে আসে, আর একটি তার সঙ্গে থেকে যায়। পরিবার ও সম্পদ ফিরে আসে, থেকে যায় শুধু আমল।

একটু চোখ বন্ধ করে দৃশ্যটা কল্পনা করুন। জানাজার পর কবরস্থানে প্রিয়জনরা দাঁড়িয়ে আছেন। দাফন শেষ হলে তাঁরা একে একে বাড়ি ফিরে যান। সম্পদও বাড়িতেই পড়ে থাকে, যা পরে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। কবরে মানুষটির সঙ্গে আর কিছু নেই, শুধু তার জীবনের আমল।

এই হাদীসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, যা সঙ্গে থাকে, সেটাই আসল সম্পদ। বাকি সব আমানত, যা কিছুদিনের জন্য আমাদের হাতে দেওয়া হয়েছে।

তবে এখানে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং আশার কথা হলো, এই "আমল" নামের সম্পদ আমরা প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে বাড়াতে পারি, আর এর জন্য বড় কোনো পুঁজির প্রয়োজন নেই।

২. "আমার সম্পদ" আসলে কতটুকু আমার

আমরা খুব সহজে বলি, "আমার টাকা", "আমার বাড়ি", "আমার জমি"। কিন্তু রাসূল ﷺ এই "আমার" শব্দটিকে নতুনভাবে বুঝতে শিখিয়েছেন।

সহিহ মুসলিমের ২৯৫৮ নম্বর হাদীসে এসেছে, আদম সন্তান বলে, "আমার সম্পদ, আমার সম্পদ।" অথচ তার সম্পদ থেকে তার নিজের বলতে আছে শুধু তিনটি জিনিস: যা সে খেয়ে শেষ করেছে, যা পরে পুরোনো করেছে, আর যা সে দান করে আগে পাঠিয়ে দিয়েছে। বাকি সব সে রেখে যাবে অন্যদের জন্য।

কার সম্পদ বেশি প্রিয়?

সহিহ বুখারীর ৬৪৪২ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ সাহাবিদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমাদের মধ্যে কে আছে, যার কাছে নিজের সম্পদের চেয়ে উত্তরাধিকারীর সম্পদ বেশি প্রিয়? সবাই বললেন, আমাদের প্রত্যেকের কাছে নিজের সম্পদই বেশি প্রিয়। তখন রাসূল ﷺ বললেন, মানুষের নিজের সম্পদ হলো যা সে আগে পাঠিয়েছে, আর যা রেখে গেছে, তা আসলে উত্তরাধিকারীর সম্পদ।

এই হাদীস আমাদের হিসাবটাই উল্টে দেয়। ব্যাংকে জমানো টাকা হয়তো আসলে অন্যের, আর আজ যে টাকা একজন অভাবীর হাতে দিলাম, সেটাই হয়তো সত্যিকারের "আমার"।

৩. কুরআনের দৃষ্টিতে দুনিয়ার সম্পদ

কুরআন দুনিয়ার সম্পদকে অস্বীকার করে না, তবে এর প্রকৃত স্থান কোথায়, তা স্পষ্ট করে দেয়।

সূরা আল-কাহফের ৪৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, সম্পদ ও সন্তান দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য। কিন্তু স্থায়ী সৎকর্মগুলো তোমার রবের কাছে প্রতিদান ও আশার দিক থেকে অনেক উত্তম। তাফসিরবিদগণ "স্থায়ী সৎকর্ম" বলতে নামাজ, জিকির, দান এবং সব ধরনের নেক আমল বুঝিয়েছেন।

প্রতিযোগিতার ফাঁদ

সূরা আত-তাকাসুরের শুরুতেই আল্লাহ বলেছেন, প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের উদাসীন করে রেখেছে, যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছাও। আজকের দিনে এর উদাহরণ চারপাশে। কার গাড়ি বড়, কার ফ্ল্যাট সুন্দর, কার সন্তান কোন স্কুলে পড়ে, এই তুলনায় জীবনের মূল্যবান সময় চলে যায়।

সূরা আল-হাদীদের ২০ নম্বর আয়াতে দুনিয়ার জীবনকে বৃষ্টির পর গজানো সবুজ ফসলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা কিছুদিন পর হলুদ হয়ে খড়কুটোয় পরিণত হয়।

এই আয়াতগুলো সম্পদকে ঘৃণা করতে বলে না, বরং মনে করিয়ে দেয়, এর মোহে যেন আসল লক্ষ্য হারিয়ে না যায়।

৪. প্রকৃত ধনী কে?

সমাজের চোখে ধনী মানে যার অনেক টাকা আছে। কিন্তু রাসূল ﷺ ধনী হওয়ার একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন।

সহিহ বুখারী (৬৪৪৬) ও সহিহ মুসলিমের (১০৫১) হাদীসে এসেছে, প্রাচুর্য মানে সম্পদের আধিক্য নয়, বরং প্রকৃত প্রাচুর্য হলো মনের প্রাচুর্য।

একটু ভাবুন। এমন অনেক মানুষ আছেন, যাদের কোটি টাকা থাকার পরও আরও চাই, আরও চাই, এই অস্থিরতা কখনো যায় না। আবার এমন মানুষও আছেন, যাদের সামান্য আয়, কিন্তু মন শান্ত, কৃতজ্ঞ, অন্যকে দিতেও প্রস্তুত। হাদীসের দৃষ্টিতে দ্বিতীয়জনই প্রকৃত ধনী।

সফল মানুষের তিনটি গুণ

সহিহ মুসলিমের ১০৫৪ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, সেই ব্যক্তি সফল, যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, প্রয়োজন মেটানোর মতো রিজিক পেয়েছে, আর আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে তাকে সন্তুষ্ট রেখেছেন।

লক্ষ করুন, এখানে "অনেক সম্পদ" নয়, বলা হয়েছে "প্রয়োজন মেটানোর মতো" আর "সন্তুষ্টি"। এই সন্তুষ্টিই মনের প্রাচুর্য, যা কবর পর্যন্ত সঙ্গী হতে পারে।

৫. প্রথম প্রকৃত সম্পদ: ঈমান ও সুস্থ হৃদয়

আখিরাতে সবচেয়ে বড় সম্পদ কী হবে, সে বিষয়ে কুরআনের একটি আয়াত খুব স্পষ্ট।

সূরা আশ-শুআরার ৮৮ ও ৮৯ নম্বর আয়াতে ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়ার অংশ হিসেবে এসেছে, সেদিন সম্পদ ও সন্তান কোনো কাজে আসবে না, শুধু সে ছাড়া যে আল্লাহর কাছে আসবে একটি সুস্থ হৃদয় নিয়ে।

"কালবুন সালীম" বা সুস্থ হৃদয় বলতে আলেমগণ বুঝিয়েছেন এমন হৃদয়, যা শিরক থেকে মুক্ত, এবং হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার ও লোভের মতো রোগ থেকে যতটা সম্ভব পরিচ্ছন্ন।

হৃদয়ের যত্ন নেওয়ার কিছু উপায়

  • নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও এর অর্থ নিয়ে ভাবা।
  • কারও প্রতি মনে বিদ্বেষ জমতে না দেওয়া, ক্ষমা করার অভ্যাস গড়া।
  • অন্যের সফলতায় হিংসা না করে তার জন্য বরকতের দোয়া করা।
  • নিজের ভুলের জন্য প্রতিদিন ইস্তিগফার করা।

একটি সুস্থ হৃদয় গড়ে তুলতে টাকা লাগে না, লাগে আন্তরিক চেষ্টা। অথচ আখিরাতে এটিই হতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান পুঁজি।

৬. দ্বিতীয় প্রকৃত সম্পদ: নেক আমল ও উত্তম চরিত্র

হাদীসে যে "আমল" কবরে সঙ্গে থাকার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে বড় কাজ যেমন আছে, তেমনি আছে প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো কাজও।

উত্তম চরিত্রের ওজন

জামে তিরমিযীর ২০০২ নম্বর হাদীসে (হাসান সহিহ) রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, কিয়ামতের দিন মুমিনের মিজানে উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী কোনো কিছু থাকবে না।

কী আশ্চর্য! নরম ব্যবহার, সত্য কথা বলা, ধৈর্য, ক্ষমা, প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া, এগুলোই আখিরাতে সবচেয়ে ভারী সম্পদ। আর এগুলো ধনী-গরিব সবার জন্য সমানভাবে অর্জনযোগ্য।

গরিবের জন্যও সদকা

সহিহ মুসলিমের ১০০৬ নম্বর হাদীসে কিছু দরিদ্র সাহাবি দুঃখ করে বলেছিলেন, ধনীরা তো দান করে বেশি সওয়াব নিয়ে যাচ্ছে। রাসূল ﷺ তাদের জানালেন, প্রতিটি সুবহানাল্লাহ সদকা, প্রতিটি আলহামদুলিল্লাহ সদকা, প্রতিটি আল্লাহু আকবার সদকা, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া ও মন্দ থেকে বিরত রাখাও সদকা।

অর্থাৎ যার পকেটে টাকা নেই, তার জন্যও প্রকৃত সম্পদ জমানোর দরজা পুরোপুরি খোলা।

৭. তৃতীয় প্রকৃত সম্পদ: আল্লাহর পথে খরচ করা সম্পদ

আগের হাদীসগুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। দুনিয়ার সম্পদ নিজে কবরে যায় না, কিন্তু সেই সম্পদ থেকে যা আল্লাহর পথে খরচ করা হয়, তা আমলে রূপান্তরিত হয়ে সঙ্গে যায়। অর্থাৎ টাকা নিজে সঙ্গী না হলেও, টাকা দিয়ে করা ভালো কাজ সঙ্গী হতে পারে।

সূরা আল-বাকারার ২৬১ নম্বর আয়াতে আল্লাহর পথে দানকে এমন একটি শস্যদানার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায় এবং প্রতিটি শীষে থাকে একশটি দানা।

কখন দান সবচেয়ে উত্তম

সহিহ বুখারী (১৪১৯) ও সহিহ মুসলিমের (১০৩২) হাদীসে এসেছে, সবচেয়ে উত্তম দান হলো সুস্থ থাকা অবস্থায়, যখন সম্পদের প্রতি মায়া থাকে, দারিদ্র্যের ভয় থাকে এবং ধনী হওয়ার আশা থাকে। শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করতে বলা হয়েছে।

পরিবারের জন্য খরচও সদকা

সহিহ বুখারীর ৫৫ নম্বর হাদীসে এসেছে, কেউ যখন সওয়াবের আশায় নিজের পরিবারের জন্য খরচ করে, সেটাও তার জন্য সদকা। তাই সন্তানের পড়াশোনা, বাবা-মায়ের চিকিৎসা, সংসারের খরচ, সঠিক নিয়তে করলে এগুলোও প্রকৃত সম্পদে পরিণত হতে পারে বলে আশা করা যায়।

সদকায়ে জারিয়ার মতো চলমান দানের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আমাদের আলাদা একটি বিস্তারিত লেখা রয়েছে।

৮. ইসলাম কি সম্পদকে খারাপ বলে? একটি ভারসাম্য

এতক্ষণের আলোচনা পড়ে কারও মনে হতে পারে, তাহলে কি সম্পদ উপার্জন করা খারাপ? উত্তর হলো, না।

ইমাম বুখারীর "আল-আদাবুল মুফরাদ" গ্রন্থের (২৯৯) একটি হাদীসে রাসূল ﷺ বলেছেন, নেককার মানুষের হাতে হালাল সম্পদ কতই না উত্তম! উসমান (রা.) ও আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)-এর মতো ধনী সাহাবিরা তাঁদের সম্পদ দিয়ে ইসলাম ও মানুষের অসাধারণ সেবা করেছেন।

আসল প্রশ্ন: কীভাবে আয়, কোথায় ব্যয়

জামে তিরমিযীর ২৪১৭ নম্বর হাদীসে (হাসান সহিহ) এসেছে, কিয়ামতের দিন বান্দাকে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত সে এক পা-ও নড়তে পারবে না। তার মধ্যে একটি হলো সম্পদ: কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কোথায় খরচ করেছে।

অর্থাৎ ইসলাম সম্পদের পরিমাণ নিয়ে নয়, এর উৎস ও ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করে। হালাল পথে উপার্জন আর সঠিক পথে খরচ, এই দুটি নিশ্চিত হলে দুনিয়ার সম্পদও আখিরাতের পাথেয় হতে পারে।

সূরা আল-মুনাফিকূনের ৯ নম্বর আয়াতে শুধু এটুকু সতর্ক করা হয়েছে, সম্পদ ও সন্তান যেন আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন করে না দেয়।

৯. প্রতিদিনের জীবনে এই দৃষ্টিভঙ্গি

প্রকৃত সম্পদের ধারণা যদি শুধু জানা থাকে, তাহলে তা আমাদের জীবনে বদল আনবে না। কিছু ছোট অভ্যাস এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিদিনের অংশ করে তুলতে পারে।

কেনাকাটার আগে একটি প্রশ্ন

কোনো বড় কেনাকাটার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, এটা কি প্রয়োজন, নাকি অন্যকে দেখানোর জন্য? প্রয়োজন হলে কিনুন, আর বাঁচানো অংশের কিছু দান করুন।

আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করুন

প্রতি মাসে বেতন বা আয় হাতে পাওয়ার দিনই একটি ছোট অংশ দানের জন্য আলাদা করে রাখুন। পরিমাণ যত ছোটই হোক, নিয়মিত হলে তা বড় হয়ে ওঠে।

রাতের হিসাব

ঘুমানোর আগে দুই মিনিট ভাবুন: আজ এমন কী করেছি, যা কবরে সঙ্গে যেতে পারে? একটি নামাজ, একটি ভালো কথা, কারও উপকার, কোনো জিকির?

তুলনা নয়, কৃতজ্ঞতা

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের জীবন দেখে মন খারাপ না করে নিজের নিয়ামতগুলো গুনুন। প্রতিদিন অন্তত তিনটি নিয়ামতের জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলুন।

সন্তানদের শেখান

সন্তানকে শুধু "বড় হয়ে অনেক টাকা আয় করবে" না বলে বলুন, "বড় হয়ে মানুষের উপকার করবে"। এই দৃষ্টিভঙ্গিই হতে পারে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার।

উপসংহার

পরিবার আর সম্পদ কবরস্থান থেকে ফিরে আসে, থেকে যায় শুধু আমল। এই একটি সত্য আমাদের সম্পদের হিসাব পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। ঈমান ও সুস্থ হৃদয়, উত্তম চরিত্র ও নেক আমল, আর আল্লাহর পথে খরচ করা সম্পদ, এগুলোই সেই প্রকৃত সম্পদ, যা কবরে সঙ্গী হয় বলে কুরআন ও সহিহ হাদীসে আশা দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে সুন্দর কথা হলো, এই সম্পদ জমাতে ধনী হওয়ার প্রয়োজন নেই। একটি সুবহানাল্লাহ, একটি নরম কথা, একটি ছোট দানও এই খাতায় জমা হয়।

আজ থেকেই শুরু করতে পারেন এভাবে:

  1. আজ রাতে ঘুমানোর আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আজ কবরের জন্য কী জমা করলাম?
  2. এই মাসের আয়ের একটি ছোট অংশ, যত ছোটই হোক, নিয়মিত দানের জন্য আলাদা করুন।
  3. আগামী এক সপ্তাহ প্রতিদিন অন্তত একটি সচেতন ভালো কাজ করুন, যা শুধু আল্লাহ জানেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দুনিয়ার সম্পদকে আখিরাতের পাথেয় বানানোর এবং এমন আমল নিয়ে তাঁর কাছে যাওয়ার তাওফিক দান করুন, যা কখনো ফিরে আসে না, সবসময় সঙ্গে থাকে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. মৃত্যুর পর কবরে কী সঙ্গে যায়?

সহিহ বুখারী (৬৫১৪) ও সহিহ মুসলিমের (২৯৬০) হাদীস অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির পেছনে পরিবার, সম্পদ ও আমল যায়। পরিবার ও সম্পদ ফিরে আসে, শুধু আমল তার সঙ্গে থেকে যায়।

২. ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত ধনী কে?

সহিহ বুখারী (৬৪৪৬) ও সহিহ মুসলিমের (১০৫১) হাদীসে বলা হয়েছে, প্রকৃত প্রাচুর্য সম্পদের আধিক্যে নয়, বরং মনের প্রাচুর্যে। যে আল্লাহর দেওয়া রিজিকে সন্তুষ্ট, সে-ই প্রকৃত ধনী।

৩. মানুষের নিজের সম্পদ আসলে কোনটি?

সহিহ মুসলিমের (২৯৫৮) হাদীস অনুযায়ী, মানুষের নিজের সম্পদ হলো যা সে খেয়েছে, যা পরেছে এবং যা দান করে আগে পাঠিয়েছে। বাকি সব সে উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে যায়।

৪. ইসলাম কি ধনী হওয়াকে নিরুৎসাহিত করে?

না। আল-আদাবুল মুফরাদের (২৯৯) হাদীসে নেককার মানুষের হাতে হালাল সম্পদকে উত্তম বলা হয়েছে। ইসলাম সম্পদের পরিমাণ নয়, বরং এর উৎস হালাল কি না এবং তা কোথায় খরচ হচ্ছে, সেদিকে গুরুত্ব দেয় (তিরমিযী ২৪১৭)।

৫. গরিব মানুষ কীভাবে প্রকৃত সম্পদ জমাতে পারে?

সহিহ মুসলিমের (১০০৬) হাদীস অনুযায়ী, প্রতিটি তাসবীহ, তাহমীদ ও তাকবীর সদকা। আর তিরমিযীর (২০০২) হাদীসে উত্তম চরিত্রকে মিজানের সবচেয়ে ভারী আমল বলা হয়েছে। তাই অর্থ ছাড়াও জিকির, সদাচরণ ও মানুষের উপকারের মাধ্যমে প্রকৃত সম্পদ জমানো যায়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url