অজুর দোয়া | নবীজি ﷺ অজুর শুরুতে, মাঝে ও শেষে কোন দোয়া পড়তেন
অজুর দোয়া | নবীজি ﷺ অজুর শুরুতে, মাঝে ও শেষে কোন দোয়া পড়তেন
কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে গভীর আলোচনা
ভূমিকা
ইসলামে অজু শুধু নামাজের পূর্বপ্রস্তুতি নয়; বরং এটি একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। অজুর মাধ্যমে একজন মুমিন শারীরিক পবিত্রতার পাশাপাশি আত্মিক পরিশুদ্ধতা অর্জন করে। অনেকেই প্রশ্ন করেন—নবীজি ﷺ অজুর সময় কি নির্দিষ্ট দোয়া পড়তেন? অজুর শুরুতে, মাঝে বা শেষে কোন দোয়া পড়া সুন্নত?
এই লেখায় আমরা কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে অজুর দোয়ার বাস্তব ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা করবো—কোনটি সুন্নত, কোনটি জায়েজ, আর কোনটি প্রচলিত হলেও প্রমাণহীন।
কুরআনের আলোকে অজুর ভিত্তি
আল্লাহ তাআলা কুরআনে অজুর ফরজ বিধান দিয়েছেন:
“হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজে দাঁড়াতে চাও, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করো, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধুয়ে নাও।”
(সূরা আল-মায়েদা: ৬)
এই আয়াত প্রমাণ করে—
✔ অজু আল্লাহর নির্দেশ
✔ অজু ছাড়া নামাজ শুদ্ধ নয়
✔ অজু ইবাদতের অংশ
অজুর শুরুতে দোয়া: নবীজি ﷺ কী পড়তেন?
🔹 অজুর শুরুতে “বিসমিল্লাহ” বলা
নবীজি ﷺ অজু শুরু করতেন “বিসমিল্লাহ” বলে।
হাদীস:
“যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ না বলে অজু করে, তার অজু পূর্ণ হয় না।”
(আবু দাউদ, তিরমিজি – হাদীসটি হাসান)
সুন্নত আমল:
📌 নোট:
অজুর শুরুতে দীর্ঘ কোনো দোয়া নবীজি ﷺ থেকে সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয়।
অজুর মাঝে দোয়া: কি পড়তেন নবীজি ﷺ?
❗ গুরুত্বপূর্ণ সত্য
অজুর মাঝে—মুখ ধোয়ার সময়, হাত ধোয়ার সময়, মাথা মাসেহের সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নবীজি ﷺ থেকে সহিহ হাদীসে প্রমাণিত নয়।
বর্তমানে প্রচলিত যেমন—
-
মুখ ধোয়ার দোয়া
-
হাত ধোয়ার আলাদা দোয়া
-
পা ধোয়ার দোয়া
এগুলো নেক নিয়তে পড়া যেতে পারে, কিন্তু এগুলোকে সুন্নত বলা যাবে না।
সঠিক আমল কী?
-
নীরবে আল্লাহর জিকির করা
-
মনে মনে তওবা করা
-
অজুর প্রতি মনোযোগ রাখা
এসব জায়েজ ও উত্তম।
অজুর শেষে দোয়া: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত
অজু শেষ করার পর নবীজি ﷺ একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন—যা সহিহ ও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
অজুর পরের সুন্নত দোয়া (আরবি):
বাংলা উচ্চারণ:
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু,
ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।
অর্থ:
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি—আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
হাদীসের ফজিলত:
“যে ব্যক্তি অজু করে এই দোয়া পড়ে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়।”
(সহিহ মুসলিম)
অজু ও দোয়ার মাধ্যমে গুনাহ মাফ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“অজুর সময় যখন বান্দা মুখ ধোয়, তখন চোখের গুনাহ ঝরে যায়…”
(সহিহ মুসলিম)
👉 অর্থাৎ অজু + দোয়া =
✔ গুনাহ মোচন
✔ আত্মার পরিশুদ্ধতা
✔ আল্লাহর নৈকট্য
প্রচলিত ভুল ধারণা
❌ অজুর প্রত্যেক অঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট দোয়া সুন্নত মনে করা
❌ প্রমাণহীন দোয়াকে হাদীস বলা
❌ অজু দ্রুত শেষ করে গুরুত্ব না দেওয়া
👉 সুন্নত হলো—সহজ, সংক্ষিপ্ত ও প্রমাণভিত্তিক আমল।
উপসংহার
নবীজি ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন—ইবাদতে বাড়াবাড়ি নয়, আবার অবহেলাও নয়।
অজুর ক্ষেত্রে—
-
শুরুতে বিসমিল্লাহ
-
মাঝে নীরব জিকির
-
শেষে শাহাদাতের দোয়া
এই তিনটি আমলই সুন্নত ও নিরাপদ পথ।
আসুন, অজুকে শুধু অভ্যাস নয়—বরং একটি সচেতন ইবাদতে পরিণত করি।
