🛍️

Islamic Shopping

ইসলামিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সুন্দর পণ্য

View All →
Featured Islamic Prayer Mat

Premium Islamic Prayer Mat

আরামদায়ক ও সুন্দর ডিজাইনের নামাজের জায়নামাজ।

Check Price →
Popular Digital Tasbih

Digital Tasbih

দৈনন্দিন জিকির গণনার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল তাসবিহ।

Check Price →
Wooden Quran Stand

Wooden Quran Stand

কুরআন পড়ার সময় ব্যবহারের জন্য সুন্দর কাঠের স্ট্যান্ড।

Check Price →
Gift Islamic Gift

Islamic Gift Collection

পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য সুন্দর ইসলামিক উপহার।

Check Price →
Affiliate Disclosure: এই Shopping Section-এর কিছু লিংক affiliate link হতে পারে। আপনি এসব লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কিনলে আপনার অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই আমরা কমিশন পেতে পারি।

অজুর গুরুত্ব ও সঠিক নিয়ম: কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে

 অজুর গুরুত্ব ও শুদ্ধতা: কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে সঠিক নিয়ম, ফজিলত ও সাধারণ ভুল

ojur gurutvo o shothik niyom - masjider ojukhanay pitoler kol theke porishkar pani

ভূমিকা

ছোটবেলায় অনেকেই দাদা বা বাবার পাশে বসে প্রথম অজু শিখেছি। হাত ধোয়া, কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া, একে একে সব। তারপর বছরের পর বছর অভ্যাসে অজু করে গেছি, কিন্তু একবারও হয়তো ভেবে দেখিনি, ঠিকমতো হচ্ছে তো?

অজু শুধু হাত-মুখ ধোয়ার একটি নিয়ম নয়। এটি নামাজের চাবি, আর হাদীসে এর এমন কিছু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যা জানলে প্রতিটি অজু আরও যত্ন নিয়ে করতে ইচ্ছা করবে।

এই লেখায় আমরা কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে দেখব, অজুর গুরুত্ব কতখানি, এর ফরজ ও সুন্নাতগুলো কী, রাসূল ﷺ কীভাবে অজু করতেন, আর অজুতে আমরা সাধারণত কোন ভুলগুলো করে ফেলি। উদ্দেশ্য একটাই: যেন আমাদের প্রতিদিনের অজু আরও শুদ্ধ ও অর্থবহ হয়।

১. অজু কী এবং কুরআনে এর বিধান

"অজু" শব্দটি আরবি "ওয়াদাআহ" থেকে এসেছে, যার অর্থ উজ্জ্বলতা ও পরিচ্ছন্নতা। শরিয়তের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট অঙ্গগুলো পানি দিয়ে ধোয়া ও মাসেহ করাকে অজু বলে।

অজুর মূল বিধান এসেছে সরাসরি কুরআনে। সূরা আল-মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বলেছেন, যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন মুখমণ্ডল ধুয়ে নাও, কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধুয়ে নাও, মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত দুই পা ধুয়ে নাও।

একই আয়াতের শেষে একটি সুন্দর কথা আছে। আল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি মানুষের ওপর কষ্ট চাপিয়ে দিতে চান না, বরং তিনি চান মানুষকে পবিত্র করতে এবং তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করতে, যাতে মানুষ কৃতজ্ঞ হয়।

এই আয়াতটি তাই শুধু একটি নিয়ম নয়, বরং আল্লাহর দয়ার একটি প্রকাশ। দিনে কয়েকবার অজু করা মানে কয়েকবার নিজেকে পরিচ্ছন্ন করে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া। পানি সহজলভ্য না হলে তায়াম্মুমের বিকল্প ব্যবস্থার কথাও একই আয়াতে এসেছে, যা ইসলামের সহজতারই প্রমাণ।

২. নামাজের জন্য অজু কেন অপরিহার্য

অজু ছাড়া নামাজ হয় না, এ বিষয়ে সব আলেম একমত। হাদীসেও এটি স্পষ্টভাবে এসেছে।

সহিহ মুসলিমের ২২৪ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, পবিত্রতা ছাড়া কোনো নামাজ গ্রহণযোগ্য নয়। সহিহ বুখারী (১৩৫) ও সহিহ মুসলিমের (২২৫) হাদীসেও এসেছে, যার অজু ভেঙে গেছে, অজু না করা পর্যন্ত তার নামাজ গ্রহণ করা হয় না।

সহিহ মুসলিমের ২২৩ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ আরও একটি গভীর কথা বলেছেন: পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।

একটু ভাবুন, ঈমানের অর্ধেক! আলেমগণ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, বাহ্যিক পবিত্রতা যেমন শরীরকে পরিচ্ছন্ন করে, তেমনি এটি মানুষের ভেতরেও পরিচ্ছন্নতার একটি অনুভূতি তৈরি করে।

নামাজকে যদি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ ধরি, তাহলে অজু হলো সেই সাক্ষাতের আগে নিজেকে প্রস্তুত করা। আমরা গুরুত্বপূর্ণ কারও সঙ্গে দেখা করতে গেলে যেমন পরিপাটি হয়ে যাই, অজু তেমনি আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর আদব।

৩. অজুর আধ্যাত্মিক ফজিলত

অজুর সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া দিকটি হলো এর মাধ্যমে গুনাহ মাফের সুসংবাদ।

গুনাহ ঝরে যাওয়া

সহিহ মুসলিমের ২৪৪ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, একজন মুমিন যখন অজুতে মুখ ধোয়, তখন চোখ দিয়ে করা গুনাহগুলো পানির সঙ্গে বের হয়ে যায়। হাত ধোয়ার সময় হাতের গুনাহ, পা ধোয়ার সময় পায়ের গুনাহ ঝরে যায়, একসময় সে গুনাহ থেকে পরিচ্ছন্ন হয়ে বের হয়। আলেমগণ বলেছেন, এখানে মূলত ছোট গুনাহের কথা বলা হয়েছে।

সহিহ মুসলিমের ২৪৫ নম্বর হাদীসে এসেছে, যে সুন্দরভাবে অজু করে, তার গুনাহ শরীর থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি নখের নিচ থেকেও।

কিয়ামতের দিনের উজ্জ্বলতা

সহিহ বুখারী (১৩৬) ও সহিহ মুসলিমের (২৪৬) হাদীসে রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, কিয়ামতের দিন তাঁর উম্মতকে অজুর চিহ্নের কারণে উজ্জ্বল মুখ ও হাত-পা নিয়ে ডাকা হবে। এই উজ্জ্বলতা দিয়েই তিনি নিজের উম্মতকে চিনবেন বলে অন্য বর্ণনায় এসেছে।

প্রতিদিনের সাধারণ অজুর সঙ্গে এমন সম্মানের আশা জড়িয়ে আছে, এটা ভাবলে অজুর প্রতিটি ধাপ আরও যত্নের হয়ে ওঠে।

৪. অজুর ফরজ ও সুন্নাতসমূহ

অজু শুদ্ধ হওয়ার জন্য কিছু কাজ অবশ্যই করতে হয়, আর কিছু কাজ সুন্নাত, যা অজুকে পূর্ণাঙ্গ ও সুন্দর করে। নিচে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী তুলে ধরা হলো, যা বাংলাদেশে বেশি প্রচলিত।

অজুর ফরজ (৪টি)

সূরা আল-মায়েদার ৬ নম্বর আয়াত অনুযায়ী:

  1. পুরো মুখমণ্ডল ধোয়া: কপালের চুলের গোড়া থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত, এক কানের লতি থেকে অন্য কানের লতি পর্যন্ত।
  2. দুই হাত কনুইসহ ধোয়া।
  3. মাথার এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা।
  4. দুই পা টাখনুসহ ধোয়া।

এর কোনো একটি বাদ পড়লে বা কোনো অংশ শুকনো থেকে গেলে অজু শুদ্ধ হয় না।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুন্নাত

  • নিয়ত করা এবং "বিসমিল্লাহ" বলে শুরু করা (সুনানে আবু দাউদ ১০১)।
  • প্রথমে দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধোয়া।
  • মিসওয়াক করা (সহিহ বুখারী ৮৮৭)।
  • কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া।
  • প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধোয়া।
  • পুরো মাথা ও দুই কান মাসেহ করা।
  • হাত-পায়ের আঙুল খিলাল করা।
  • ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং ডান দিক থেকে শুরু করা।

শাফেয়ি মাযহাবে নিয়ত ও ধারাবাহিকতাকে ফরজ গণ্য করা হয়, তাই এগুলো যত্নের সঙ্গে মেনে চলা উত্তম।

৫. রাসূল ﷺ যেভাবে অজু করতেন: ধাপে ধাপে

সহিহ বুখারী (১৫৯) ও সহিহ মুসলিমের (২২৬) হাদীসে উসমান (রা.) একবার পানি আনিয়ে সবার সামনে অজু করে দেখিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, তিনি রাসূল ﷺ-কে এভাবেই অজু করতে দেখেছেন। সেই বর্ণনা ও অন্যান্য সহিহ হাদীসের আলোকে অজুর ধাপগুলো:

  1. মনে মনে অজুর নিয়ত করে "বিসমিল্লাহ" বলুন।
  2. দুই হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিন।
  3. তিনবার কুলি করুন, সম্ভব হলে মিসওয়াক করুন।
  4. তিনবার নাকে পানি দিয়ে বাম হাতে পরিষ্কার করুন।
  5. পুরো মুখমণ্ডল তিনবার ধুয়ে নিন। দাড়ি থাকলে আঙুল দিয়ে খিলাল করুন।
  6. প্রথমে ডান হাত, তারপর বাম হাত কনুইসহ তিনবার ধুয়ে নিন।
  7. ভেজা হাতে একবার পুরো মাথা মাসেহ করুন, সঙ্গে দুই কান।
  8. প্রথমে ডান পা, তারপর বাম পা টাখনুসহ তিনবার ধুয়ে নিন, আঙুলের ফাঁক খিলাল করুন।

অজুর পরের দোয়া

সহিহ মুসলিমের ২৩৪ নম্বর হাদীসে এসেছে, যে ভালোভাবে অজু করে এই সাক্ষ্য দেয়, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, যেটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

উচ্চারণ: আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।

অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

জামে তিরমিযীর (৫৫) বর্ণনায় এর সঙ্গে আরেকটি অংশ এসেছে: "আল্লাহুম্মাজ আলনী মিনাত তাওয়াবীনা ওয়াজ আলনী মিনাল মুতাতাহহিরীন" (হে আল্লাহ, আমাকে তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন)।

৬. অজুতে সাধারণ কিছু ভুল

অভ্যাসের বশে তাড়াহুড়া করে অজু করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় কিছু ভুল করে ফেলি। এগুলো জানা থাকলে সহজেই এড়ানো যায়।

গোড়ালি শুকনো থেকে যাওয়া

সহিহ বুখারী (৬০) ও সহিহ মুসলিমের (২৪১) হাদীসে এসেছে, রাসূল ﷺ কিছু সাহাবির গোড়ালি শুকনো দেখে গুরুত্বের সঙ্গে সতর্ক করেছিলেন। তাই পা ধোয়ার সময় গোড়ালি ও টাখনুর পেছনের অংশে হাত দিয়ে পানি পৌঁছে দিন।

পানি পৌঁছাতে বাধা

নখপালিশ, শক্ত আঠা, রং বা মোমের মতো কিছু ত্বকে লেগে থাকলে পানি নিচে পৌঁছায় না, ফলে অজু শুদ্ধ হয় না বলে আলেমগণ উল্লেখ করেছেন। আঁটসাঁট আংটি থাকলে একটু ঘুরিয়ে নিচে পানি পৌঁছানো উচিত।

পানির অপচয়

সহিহ বুখারী (২০১) ও সহিহ মুসলিমের (৩২৫) হাদীস অনুযায়ী, রাসূল ﷺ খুব অল্প পানিতে, প্রায় এক মুদ (দুই হাতের অঞ্জলি ভরা পরিমাণ) পানিতে অজু করতেন। কল ছেড়ে রেখে অজু করা অপচয়ের মধ্যে পড়তে পারে।

কনুই ও মুখের সীমা বাদ পড়া

হাত ধোয়ার সময় কনুই পর্যন্ত না ধোয়া, কিংবা মুখ ধোয়ার সময় কানের পাশের অংশ বা থুতনির নিচ শুকনো থেকে যাওয়া, এগুলোও সাধারণ ভুল।

৭. যেসব কারণে অজু ভেঙে যায়

অজু করার পর কিছু কাজে তা ভেঙে যায়। তখন নামাজের জন্য আবার অজু করতে হয়। হানাফি মাযহাব অনুযায়ী প্রধান কারণগুলো:

  • প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কিছু বের হওয়া: যেমন প্রস্রাব, পায়খানা বা বাতাস।
  • শরীর থেকে রক্ত, পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।
  • মুখ ভরে বমি হওয়া।
  • শুয়ে বা হেলান দিয়ে গভীরভাবে ঘুমানো।
  • বেহুঁশ হওয়া বা জ্ঞান হারানো।
  • নামাজের মধ্যে শব্দ করে হাসা (প্রাপ্তবয়স্কের রুকু-সিজদাওয়ালা নামাজে)।

কিছু বিষয়ে মাযহাবগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে। যেমন শাফেয়ি মাযহাবে রক্ত বের হলে অজু ভাঙে না, তবে লজ্জাস্থান সরাসরি হাত দিয়ে স্পর্শ করলে অজু ভেঙে যায়, যার ভিত্তি সুনানে আবু দাউদের (১৮১) হাদীস। নিজের মাযহাবের নিয়ম মেনে চলাই উত্তম।

সন্দেহ হলে

সহিহ বুখারী (১৩৭) ও সহিহ মুসলিমের (৩৬১) হাদীস অনুযায়ী, অজু ভেঙেছে কি না এমন সন্দেহ হলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অজু আছে বলেই ধরা হয়। এই হাদীস অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণদের জন্য বড় স্বস্তি।

৮. অজুর পর দুই রাকাত ও সব সময় অজু অবস্থায় থাকা

অজুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আরও দুটি সুন্দর আমল আছে, যা অনেকের অজানা।

তাহিয়্যাতুল অজু

সহিহ বুখারী (১১৪৯) ও সহিহ মুসলিমের (২৪৫৮) হাদীসে এসেছে, রাসূল ﷺ একবার বিলাল (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর এমন কোন আমল আছে, যার ব্যাপারে তিনি সবচেয়ে বেশি আশাবাদী। কারণ রাসূল ﷺ জান্নাতে নিজের সামনে বিলালের জুতার শব্দ শুনেছিলেন। বিলাল (রা.) জানালেন, দিনে বা রাতে যখনই তিনি অজু করেন, সেই অজু দিয়ে সাধ্যমতো কিছু নামাজ পড়ে নেন।

সহিহ মুসলিমের ২২৬ নম্বর হাদীসে উসমান (রা.)-এর বর্ণনায়ও এসেছে, সুন্দরভাবে অজু করে মনোযোগের সঙ্গে দুই রাকাত নামাজ পড়লে আগের গুনাহ ক্ষমা হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে।

সব সময় অজু অবস্থায় থাকা

সুনানে ইবনে মাজাহর (২৭৭) হাদীসে এসেছে, একজন মুমিন ছাড়া অন্য কেউ অজুর প্রতি যত্নশীল থাকে না। অফিসে, পড়াশোনায় বা বাসার কাজে যতটা সম্ভব অজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করলে নামাজের সময় প্রস্তুতিও সহজ হয়, আর মনেও একটি পরিচ্ছন্নতার অনুভূতি থাকে।

উপসংহার

অজু আমাদের দিনের সবচেয়ে বেশিবার করা ইবাদতগুলোর একটি। অথচ অভ্যাসের কারণে অনেক সময় এটি যান্ত্রিক হয়ে যায়। কুরআন ও সহিহ হাদীস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অজু নামাজের অপরিহার্য শর্ত, ঈমানের অর্ধেকের অংশ, গুনাহ ঝরে যাওয়ার মাধ্যম এবং কিয়ামতের দিনের উজ্জ্বলতার কারণ বলে আশা করা যায়।

আজ থেকে অজুকে আরও শুদ্ধ করতে যা করতে পারেন:

  1. পরের অজুতে ধীরে ধীরে চারটি ফরজ অঙ্গ, বিশেষ করে গোড়ালি ও কনুই, ঠিকমতো ধোয়া হচ্ছে কি না খেয়াল করুন।
  2. অজু শেষে "আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ..." দোয়াটি মুখস্থ করে নিয়মিত পড়ুন।
  3. দিনে অন্তত একবার অজুর পর দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল অজু পড়ার চেষ্টা করুন।

আর পরিবারের ছোটদের অজু শেখানোর সময় শুধু নিয়ম নয়, এর পেছনের ফজিলতগুলোও গল্পের মতো করে বলুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা অর্জনের তাওফিক দান করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. অজুর ফরজ কয়টি ও কী কী?

সূরা আল-মায়েদার ৬ নম্বর আয়াত অনুযায়ী অজুর ফরজ চারটি: পুরো মুখমণ্ডল ধোয়া, দুই হাত কনুইসহ ধোয়া, মাথা মাসেহ করা এবং দুই পা টাখনুসহ ধোয়া। হানাফি মতে মাথার অন্তত এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা ফরজ।

২. অজুর পর কোন দোয়া পড়তে হয়?

সহিহ মুসলিমের (২৩৪) হাদীস অনুযায়ী অজুর পর "আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু" পড়া সুন্নাত। এর ফজিলতে জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়ার সুসংবাদ এসেছে।

৩. নখপালিশ লাগানো অবস্থায় কি অজু হয়?

আলেমগণের মতে, নখপালিশ নখে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাই এ অবস্থায় অজু শুদ্ধ হয় না। অজুর আগে তা তুলে ফেলা প্রয়োজন। মেহেদির রং পানি আটকায় না, তাই তাতে সমস্যা নেই।

৪. অজু ভেঙেছে কি না সন্দেহ হলে কী করব?

সহিহ বুখারী (১৩৭) ও সহিহ মুসলিমের (৩৬১) হাদীস অনুযায়ী, নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শুধু সন্দেহের কারণে অজু ভেঙেছে ধরা হয় না। অজু আছে বলেই গণ্য হবে।

৫. অজুর মাধ্যমে কি গুনাহ মাফ হয়?

সহিহ মুসলিমের (২৪৪ ও ২৪৫) হাদীসে এসেছে, সুন্দরভাবে অজু করলে অঙ্গগুলোর গুনাহ পানির সঙ্গে ঝরে যায়। আলেমগণের ব্যাখ্যায় এখানে মূলত ছোট গুনাহের কথা বলা হয়েছে; বড় গুনাহের জন্য তাওবা প্রয়োজন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url