🛍️

Islamic Shopping

ইসলামিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সুন্দর পণ্য

View All →
Featured Islamic Prayer Mat

Premium Islamic Prayer Mat

আরামদায়ক ও সুন্দর ডিজাইনের নামাজের জায়নামাজ।

Check Price →
Popular Digital Tasbih

Digital Tasbih

দৈনন্দিন জিকির গণনার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল তাসবিহ।

Check Price →
Wooden Quran Stand

Wooden Quran Stand

কুরআন পড়ার সময় ব্যবহারের জন্য সুন্দর কাঠের স্ট্যান্ড।

Check Price →
Gift Islamic Gift

Islamic Gift Collection

পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য সুন্দর ইসলামিক উপহার।

Check Price →
Affiliate Disclosure: এই Shopping Section-এর কিছু লিংক affiliate link হতে পারে। আপনি এসব লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কিনলে আপনার অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই আমরা কমিশন পেতে পারি।

নামাজের রাকাত সংখ্যা | ৫ ওয়াক্ত নামাজের পূর্ণ তালিকা

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রাকাত সংখ্যা - ফরজ, সুন্নত ও নফল সহ সম্পূর্ণ তালিকা

নামাজের রাকাত সংখ্যা:৫ ওয়াক্ত নামাজের পূর্ণ তালিকা ও বিস্তারিত

ভূমিকা

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ এবং ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন যে নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত দাও (সূরা বাকারা: ৪৩)। তবে অনেক নতুন মুসলমান এবং যারা নামাজ শিখতে চান তাদের জন্য প্রতি ওয়াক্তে কত রাকাত নামাজ পড়তে হয় এটি জানা অত্যন্ত জরুরি। ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব এবং এশা - এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ফরজ, সুন্নত এবং নফল মিলিয়ে মোট রাকাত সংখ্যা ভিন্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এই নামাজগুলো আদায় করে আমাদের শিখিয়ে গেছেন এবং তাঁর অনুসরণ করা আমাদের দায়িত্ব। এই লেখায় আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রাকাত সংখ্যা, ফরজ-সুন্নত-নফলের বিস্তারিত তালিকা এবং প্রতিটি ওয়াক্তের বিশেষত্ব সহজ ভাষায় আলোচনা করব যাতে প্রতিটি মুসলমান সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেন বলে আশা করা যায়।

ফজরের নামাজ: রাকাত সংখ্যা ও বিধান

ফজরের নামাজ দিনের প্রথম নামাজ এবং অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। মোট রাকাত: ফজরের নামাজ মোট ৪ রাকাত। এর মধ্যে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং ২ রাকাত ফরজ। সুন্নতের গুরুত্ব: ফজরের ২ রাকাত সুন্নত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) এটি কখনো ছাড়তেন না। হাদিসে এসেছে যে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত দুনিয়া ও তার মধ্যে যা আছে তার চেয়ে উত্তম (সহিহ মুসলিম: ৭২৫)। ফরজ: ২ রাকাত ফরজ নামাজ জামাতে পড়া উৎসাহিত করা হয়েছে। সময়: ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয় সুবহে সাদিক থেকে এবং সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত। তবে সূর্যোদয়ের আগেই পড়ে নেওয়া উচিত। বিশেষত্ব: ফজরের নামাজ জোরে পড়তে হয় এবং এতে লম্বা কিরাত পড়া সুন্নত। ফজিলত: ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করলে সারা রাত নফল নামাজ পড়ার সওয়াব পাওয়া যায় (সহিহ মুসলিম: ৬৫৬)। নিয়মিততা: ফজর নামাজ নিয়মিত পড়া মুনাফিকদের থেকে আলাদা হওয়ার চিহ্ন।

ফজরের নামাজ দিনের শুরুতে আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং সারা দিনের জন্য বরকত নিয়ে আসে বলে আশা করা যায়।

যোহরের নামাজ: রাকাত সংখ্যা ও বিস্তারিত

যোহর দিনের দ্বিতীয় নামাজ এবং সবচেয়ে বেশি রাকাতের নামাজ। মোট রাকাত: যোহরের নামাজ মোট ১২ রাকাত। এর মধ্যে ৪ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা (আগে), ৪ রাকাত ফরজ, ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা (পরে) এবং ২ রাকাত নফল (ঐচ্ছিক)। প্রথম সুন্নত: ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নত পড়া গুরুত্বপূর্ণ। এটি ২ রাকাত করে দুই সালামে পড়তে হয়। ফরজ: ৪ রাকাত ফরজ নামাজ একসালামে পড়তে হয়। প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলাতে হবে এবং শেষ দুই রাকাতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়লেই হয়। শেষ সুন্নত: ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা পড়তে হয়। নফল: এরপর ২ রাকাত নফল পড়া যায় যা ঐচ্ছিক। সময়: যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয় সূর্য মধ্য আকাশ থেকে পশ্চিম দিকে ঢলে যাওয়ার পর এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। বিশেষত্ব: যোহর ও আসরের নামাজ নীরবে (মনে মনে) পড়তে হয়।

যোহরের নামাজ দিনের মাঝামাঝি সময়ে পড়া হয় এবং এতে সুন্নত-নফল মিলিয়ে বেশি রাকাত পড়ার সুযোগ রয়েছে।

আসরের নামাজ: রাকাত সংখ্যা ও গুরুত্ব

আসরের নামাজ দিনের তৃতীয় নামাজ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোট রাকাত: আসরের নামাজ মোট ৮ রাকাত। এর মধ্যে ৪ রাকাত সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা (ঐচ্ছিক সুন্নত) এবং ৪ রাকাত ফরজ। সুন্নত: ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নত পড়া উত্তম তবে এটি মুয়াক্কাদা নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন আল্লাহ তাকে রহমত করুন যে আসরের আগে চার রাকাত পড়ে (সুনানে আবু দাউদ: ১২৭১, সুনানে তিরমিজি: ৪৩০)। এটি ২ রাকাত করে দুই সালামে পড়া যায়। ফরজ: ৪ রাকাত ফরজ একসালামে পড়তে হয় এবং যোহরের মতো নিয়ম। বিশেষত্ব: আসরের নামাজের পর কোনো নফল নেই এবং সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত নফল পড়া নিষেধ। সময়: আসরের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন যেকোনো বস্তুর ছায়া তার নিজের সমান হয়ে যায় এবং সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত। তবে সূর্য হলুদ হওয়ার আগেই পড়ে নেওয়া উত্তম। ফজিলত: আসরের নামাজ সময়মতো পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ছাড়লে বড় ক্ষতি হয় (সহিহ বুখারি: ৫৫২)।

আসরের নামাজ বিকেলের সময় পড়া হয় এবং এটি সময়মতো আদায় করা জরুরি কারণ এর পরেই সূর্যাস্ত হয়।

মাগরিবের নামাজ: রাকাত সংখ্যা ও বিধান

মাগরিবের নামাজ দিনের চতুর্থ নামাজ এবং সূর্যাস্তের পরপরই পড়তে হয়। মোট রাকাত: মাগরিবের নামাজ মোট ৭ রাকাত। এর মধ্যে ৩ রাকাত ফরজ, ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং ২ রাকাত নফল (ঐচ্ছিক)। ফরজ: ৩ রাকাত ফরজ একসালামে পড়তে হয়। প্রথম দুই রাকাত জোরে পড়তে হয় এবং তৃতীয় রাকাত নীরবে। প্রথম দুই রাকাতে সূরা মিলাতে হবে এবং তৃতীয় রাকাতে শুধু সূরা ফাতিহা। সুন্নত: ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা পড়তে হয়। নফল: এরপর ২ রাকাত নফল পড়া যায়। সময়: মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয় সূর্যাস্তের পরপরই এবং শেষ হয় পশ্চিম আকাশের লাল আভা অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত। তবে সূর্যাস্তের পরপরই পড়া উত্তম। বিশেষত্ব: মাগরিবের নামাজ বিতরের মতো বেজোড় রাকাত এবং জোরে পড়তে হয়। তাড়াতাড়ি পড়া: মাগরিবের নামাজ দেরি না করে তাড়াতাড়ি পড়া সুন্নত কারণ ওয়াক্ত ছোট।

মাগরিবের নামাজ দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণে পড়া হয় এবং এর ওয়াক্ত খুব ছোট তাই দ্রুত পড়া উচিত।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের রাকাত সংখ্যা - ফরজ, সুন্নত ও নফল সহ সম্পূর্ণ তালিকা

এশার নামাজ: রাকাত সংখ্যা ও বিতরসহ

এশার নামাজ দিনের শেষ ফরজ নামাজ এবং রাতের প্রথম নামাজ। মোট রাকাত: এশার নামাজ মোট ১৭ রাকাত (বিতরসহ)। এর মধ্যে ৪ রাকাত সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা (ঐচ্ছিক), ৪ রাকাত ফরজ, ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা, ২ রাকাত নফল এবং ৩ রাকাত বিতর ওয়াজিব। প্রথম সুন্নত: ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নত পড়া যায় যা গায়রে মুয়াক্কাদা। ফরজ: ৪ রাকাত ফরজ একসালামে এবং প্রথম দুই রাকাত জোরে পড়তে হয়। শেষ সুন্নত: ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা। নফল: এরপর ২ রাকাত নফল পড়া যায়। বিতর: সবশেষে ৩ রাকাত বিতর পড়া ওয়াজিব যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিতর একসালামে ৩ রাকাত পড়তে হয় এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার পর দোয়া কুনুত পড়তে হয়। সময়: এশার ওয়াক্ত শুরু হয় পশ্চিম আকাশের লাল আভা অদৃশ্য হওয়ার পর এবং শেষ হয় মধ্যরাত পর্যন্ত। তবে ফজরের আগ পর্যন্ত পড়া যায়। তাহাজ্জুদ: এশার পর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

এশার নামাজ দিনের শেষ ফরজ নামাজ এবং বিতরসহ এটি পড়ে ঘুমানো উচিত যাতে রাত বরকতময় হয়।

জুমার নামাজ: বিশেষ বিধান ও রাকাত

জুমার নামাজ শুক্রবারের বিশেষ নামাজ এবং পুরুষদের জন্য ফরজ। রাকাত: জুমার ফরজ নামাজ ২ রাকাত যা ইমামের সাথে জামাতে পড়তে হয়। সুন্নত: জুমার ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নত এবং পরে ৪ রাকাত সুন্নত পড়া উত্তম। কেউ কেউ ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নত পড়েন। খুতবা: জুমার নামাজের আগে দুইটি খুতবা আছে যা শোনা ওয়াজিব। খুতবার সময় কথা বলা বা নামাজ পড়া নিষেধ। সময়: জুমার নামাজ যোহরের ওয়াক্তে পড়তে হয় এবং এটি যোহরের পরিবর্তে। শর্ত: জুমার নামাজ জামাতে পড়তে হয় এবং ইমাম ছাড়া হয় না। পুরুষদের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাতে পড়া ফরজ। বিশেষত্ব: জুমার দিন বিশেষ ফজিলতপূর্ণ এবং এই দিনে বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়া উচিত। নারী: নারীদের জন্য জুমা ফরজ নয় তবে পড়লে সওয়াব পাবে। গোসল: জুমার দিন গোসল করা সুন্নত এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম।

জুমার নামাজ সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামাজ এবং মুসলমানদের সাপ্তাহিক সম্মেলন যেখানে সবাই একসাথে মিলিত হয়।

উপসংহার

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ এবং প্রতি ওয়াক্তে নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাত রয়েছে। সঠিক রাকাত সংখ্যা জানা এবং নিয়মিত আদায় করা আমাদের দায়িত্ব এবং এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ হয় বলে আশা করা যায়।

আসুন, আমরা সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত পড়ি এবং সঠিক রাকাত সংখ্যা মেনে চলি। ফজরে ২+২ মোট ৪ রাকাত পড়ি এবং সকালে উঠে আল্লাহর ইবাদত করি। যোহরে ৪+৪+২+২ মোট ১২ রাকাত পড়ি এবং দিনের কাজের মাঝে আল্লাহকে স্মরণ করি। আসরে ৪+৪ মোট ৮ রাকাত পড়ি এবং সূর্যাস্তের আগেই শেষ করি। মাগরিবে ৩+২+২ মোট ৭ রাকাত পড়ি এবং সূর্যাস্তের পরপরই পড়ি। এশায় ৪+৪+২+২+৩ মোট ১৭ রাকাত (বিতরসহ) পড়ি এবং রাতে শান্তিতে ঘুমাই। জুমার দিন জামাতে গিয়ে জুমার নামাজ পড়ি এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনি। ফরজ নামাজের সাথে সুন্নত ও নফল নামাজ পড়ার চেষ্টা করি যাতে বেশি সওয়াব পাই। শিশুদের ছোট থেকে নামাজ শেখাই এবং নিয়মিত পড়তে উৎসাহিত করি। পরিবারকে একসাথে নামাজ পড়তে উদ্বুদ্ধ করি এবং জামাতে পড়ি। মনে রাখি যে নামাজ আল্লাহর সাথে কথা বলার মাধ্যম এবং দুনিয়া-আখেরাতের সফলতার চাবিকাঠি। ওয়াক্ত মতো নামাজ পড়ি এবং বিলম্ব না করি। মসজিদে গিয়ে জামাতে পড়ার চেষ্টা করি কারণ এতে সওয়াব ২৭ গুণ বেশি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত পড়ার তৌফিক দান করুন এবং সঠিক রাকাত সংখ্যা মেনে সুন্নত অনুযায়ী আদায় করার সামর্থ্য দিন। আমাদের নামাজ কবুল করুন এবং জান্নাত দান করুন। আমীন।


 নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মোট কত রাকাত এবং কীভাবে ভাগ করা?

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ফরজ, সুন্নত এবং নফল মিলিয়ে মোট রাকাত সংখ্যা ভিন্ন। ফজরের নামাজ মোট ৪ রাকাত যার মধ্যে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং ২ রাকাত ফরজ। যোহরের নামাজ মোট ১২ রাকাত যার মধ্যে ৪ রাকাত সুন্নত (আগে), ৪ রাকাত ফরজ, ২ রাকাত সুন্নত (পরে) এবং ২ রাকাত নফল। আসরের নামাজ মোট ৮ রাকাত যার মধ্যে ৪ রাকাত সুন্নত এবং ৪ রাকাত ফরজ। মাগরিবের নামাজ মোট ৭ রাকাত যার মধ্যে ৩ রাকাত ফরজ, ২ রাকাত সুন্নত এবং ২ রাকাত নফল। এশার নামাজ বিতরসহ মোট ১৭ রাকাত যার মধ্যে ৪ রাকাত সুন্নত (আগে), ৪ রাকাত ফরজ, ২ রাকাত সুন্নত (পরে), ২ রাকাত নফল এবং ৩ রাকাত বিতর ওয়াজিব। সব মিলিয়ে ফরজ নামাজ ১৭ রাকাত (ফজর ২ + যোহর ৪ + আসর ৪ + মাগরিব ৩ + এশা ৪) এবং সুন্নত-নফল-বিতরসহ মোট প্রায় ৪৮ রাকাত। তবে মূল গুরুত্বপূর্ণ হলো ফরজ নামাজ এবং সুন্নতে মুয়াক্কাদা নিয়মিত পড়া।

২. ফরজ ও সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজের পার্থক্য কী?

ফরজ নামাজ হলো যা পড়া বাধ্যতামূলক এবং না পড়লে গুনাহ হয়। পাঁচ ওয়াক্তের মোট ১৭ রাকাত ফরজ নামাজ প্রতিটি মুসলমানকে অবশ্যই পড়তে হবে। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং ছেড়ে দিলে বড় পাপ হয়। সুন্নতে মুয়াক্কাদা হলো যা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত পড়তেন এবং খুব কমই ছাড়তেন। এটি পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং না পড়লে তিরস্কার করা হয়েছে তবে গুনাহ হয় না। ফজরের ২ রাকাত সুন্নত, যোহরের আগে ৪ ও পরে ২ রাকাত সুন্নত এবং মাগরিবের পর ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এশার পর ২ রাকাত সুন্নত এবং বিতর ওয়াজিব যা প্রায় ফরজের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ। সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা হলো যা রাসুলুল্লাহ (সা.) মাঝে মাঝে পড়তেন যেমন আসরের আগে ৪ রাকাত এবং এশার আগে ৪ রাকাত। নফল হলো সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক যা পড়লে সওয়াব পাওয়া যায় তবে না পড়লে কোনো সমস্যা নেই। ফরজ ও সুন্নতে মুয়াক্কাদা নিয়মিত পড়া উচিত এবং নফল যথাসম্ভব পড়া উত্তম।

৩. বিতরের নামাজ কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

বিতরের নামাজ এশার নামাজের পরে পড়া ৩ রাকাত নামাজ যা ওয়াজিব অর্থাৎ ফরজের পরই গুরুত্বপূর্ণ। বিতর শব্দের অর্থ বেজোড় এবং এই নামাজ ৩ রাকাত হওয়ায় বেজোড়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে আল্লাহ বেজোড় এবং বেজোড় পছন্দ করেন তাই তোমরা বিতর পড়ো (সহিহ বুখারি: ৬৪১০, সহিহ মুসলিম: ২৬৭৭)। বিতর একসালামে ৩ রাকাত পড়তে হয় এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা পড়ে রুকুর আগে দোয়া কুনুত পড়তে হয় যা বিশেষ দোয়া। বিতর না পড়লে গুনাহ হয় না কিন্তু ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সফরেও বিতর পড়তেন এবং কখনো ছাড়তেন না। বিতর রাতের শেষ নামাজ হওয়া উচিত তাই যারা রাতে তাহাজ্জুদ পড়েন তারা তাহাজ্জুদের পরে বিতর পড়তে পারেন। যারা তাহাজ্জুদ পড়েন না তাদের এশার পরেই বিতর পড়ে নেওয়া উচিত। বিতরের সময় এশার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত এবং যেকোনো সময় পড়া যায়। বিতর নামাজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ এবং নিয়মিত পড়া উচিত।

৪. জুমার নামাজ কীভাবে আদায় করতে হয় এবং এর রাকাত সংখ্যা কত?

জুমার নামাজ শুক্রবারের বিশেষ নামাজ যা পুরুষদের জন্য ফরজ এবং যোহরের পরিবর্তে পড়তে হয়। জুমার ফরজ নামাজ মাত্র ২ রাকাত যা ইমামের সাথে জামাতে পড়তে হয়। জুমার নামাজের আগে ইমাম দুইটি খুতবা দেন যা শোনা ওয়াজিব এবং এই সময় কথা বলা বা নামাজ পড়া নিষেধ। খুতবার আগে ৪ রাকাত সুন্নত পড়া উত্তম এবং খুতবা শেষে ইমাম ২ রাকাত ফরজ পড়ান। ফরজের পর ৪ রাকাত সুন্নত পড়া উত্তম তবে কেউ কেউ ২ রাকাত পড়েন। জুমার নামাজ জামাতে পড়তে হয় এবং পুরুষদের জন্য মসজিদে গিয়ে পড়া ফরজ। নারীদের জন্য জুমা ফরজ নয় তবে পড়লে সওয়াব পাবে। জুমার দিন গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং সুন্দর কাপড় পরা সুন্নত। জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়া উচিত এবং সূরা কাহফ পড়া ফজিলতপূর্ণ। জুমার খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং এর মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন হয়। জুমার নামাজ মুসলমানদের সাপ্তাহিক সম্মেলন এবং এতে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি পুরুষ মুসলমানের দায়িত্ব।

৫. নামাজে ভুল হলে বা রাকাত ভুলে গেলে কী করতে হবে?

নামাজে ভুল হওয়া স্বাভাবিক এবং এর জন্য শরিয়তে সমাধান রয়েছে। যদি রাকাত সংখ্যা ভুলে যান এবং মনে করতে না পারেন তাহলে নিশ্চিত সংখ্যা ধরে নিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। যেমন ৩ রাকাত না ৪ রাকাত সন্দেহ হলে ৩ রাকাত ধরে নিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে এবং সালামের পরে সাহু সেজদা দিতে হবে। যদি কম রাকাত পড়ে ফেলেন এবং সালাম ফিরিয়ে ফেলেন তারপর মনে পড়লে তাহলে অবশিষ্ট রাকাত পড়ে নিয়ে সাহু সেজদা দিতে হবে। যদি বেশি রাকাত পড়ে ফেলেন তাহলে সালামের পরে সাহু সেজদা দিতে হবে। সাহু সেজদা হলো দুইটি সেজদা যা সালাম ফেরানোর পরে দিতে হয় এবং আবার সালাম ফিরাতে হয়। যদি তাশাহহুদ বা সূরা ফাতিহা ভুলে যান তাহলেও সাহু সেজদা দিতে হবে। যদি নামাজে কথা বলে ফেলেন বা হেসে ফেলেন তাহলে নামাজ ভেঙে যায় এবং নতুন করে পড়তে হবে। নামাজে মনোযোগ রাখা এবং ভুল এড়ানোর চেষ্টা করা উচিত তবে ভুল হলে সাহু সেজদার মাধ্যমে সংশোধন করা যায়। নামাজ শেখার সময় ভুল হওয়া স্বাভাবিক এবং ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url