জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৭টি আমল
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল (কুরআন ও হাদীসের আলোকে)
ভূমিকা
জুমার দিন ইসলামে একটি বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন দিন। এই দিনটি মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন হিসেবে পরিচিত। কুরআন ও হাদীসে জুমার দিনের কিছু নির্দিষ্ট আমলের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো পালন করলে একজন মুসলমান আধ্য়াত্মিক উন্নতি লাভ করতে পারে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। এই লেখায় জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো সহজ ও সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো।
জুমার দিনের গুরুত্ব
ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার দিন অন্যান্য দিনের তুলনায় অধিক মর্যাদাপূর্ণ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।”
— (সহিহ মুসলিম)
এই দিনে মুসলমানরা একত্রিত হয়ে জুমার নামাজ আদায় করে, যা সামাজিক ও আত্মিক বন্ধনকে শক্তিশালী করে।
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৭টি আমল
১. গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।
জুমার দিনে গোসল করা সুন্নত এবং পরিচ্ছন্ন থাকা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা।
হাদীসে এসেছে, জুমার দিনে গোসল করলে তা পবিত্রতা ও ইবাদতের প্রস্তুতি হিসেবে গণ্য হয়। পরিষ্কার পোশাক পরা ও হালকা সুগন্ধি ব্যবহার করাও উত্তম।
২. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া।
জুমার নামাজের জন্য আগে আগে মসজিদে যাওয়া একটি ফজিলতপূর্ণ আমল। এতে নামাজের আগে নফল ইবাদত ও কুরআন তিলাওয়াতের সুযোগ পাওয়া যায়।
৩. সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা।
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সূরা কাহফ পাঠ করা।
— (হাকিম, সহিহ)
৪. দরুদ শরীফ পাঠ করা।
জুমার দিনে নবী ﷺ–এর উপর দরুদ পাঠ করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কেননা “একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা দশটি রহমত নাযিল করেন, দশটি গুনাহ মাফ করেন এবং দশটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।”
— (সহিহ মুসলিম)৫. জুমার নামাজ আদায় করা।
জুমার নামাজ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মুসলমানদের জন্য ফরজ।
কুরআনে বলা হয়েছে:
“হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে অগ্রসর হও।”
— (সূরা আল-জুমুআহ: ৯)
৬. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
খুতবার সময় নীরব থাকা ও মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা জুমার নামাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি আত্মশুদ্ধি ও দ্বীনি জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। এবং খুতবার সময় কথা বলা নিষিদ্ধ। হাদীসে এসেছে,
খুতবার সময় তুমি যদি কাউকে চুপ থাকতে বলো, তাও অনর্থক কথা হবে।
— (সহিহ বুখারি, ৯৩৪)
৭. দোয়া করা।
জুমার দিনে দোয়ার একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অনেক আলেম আসরের পরের সময়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
এই সময়ে নিজের ও পরিবারের জন্য কল্যাণের দোয়া করা উত্তম।
জুমার দিনের আমল পালনের উপকারিতা
-
আত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়
-
নিয়মিত ইবাদতের অভ্যাস গড়ে ওঠে
-
সামাজিক ও ধর্মীয় সচেতনতা বাড়ে
-
আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়
উপসংহার
জুমার দিন একজন মুসলমানের জন্য ইবাদত ও আত্মসমালোচনার বিশেষ সুযোগ। এই দিনে উল্লেখিত আমলগুলো নিয়মিত পালন করলে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী জুমার দিনের আমলগুলো পালন করার চেষ্টা করা উচিত।
