🛍️

Islamic Shopping

ইসলামিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সুন্দর পণ্য

View All →
Featured Islamic Prayer Mat

Premium Islamic Prayer Mat

আরামদায়ক ও সুন্দর ডিজাইনের নামাজের জায়নামাজ।

Check Price →
Popular Digital Tasbih

Digital Tasbih

দৈনন্দিন জিকির গণনার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল তাসবিহ।

Check Price →
Wooden Quran Stand

Wooden Quran Stand

কুরআন পড়ার সময় ব্যবহারের জন্য সুন্দর কাঠের স্ট্যান্ড।

Check Price →
Gift Islamic Gift

Islamic Gift Collection

পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য সুন্দর ইসলামিক উপহার।

Check Price →
Affiliate Disclosure: এই Shopping Section-এর কিছু লিংক affiliate link হতে পারে। আপনি এসব লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কিনলে আপনার অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই আমরা কমিশন পেতে পারি।

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৭টি আমল: সহিহ হাদীসের আলোকে

 জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৭টি আমল: সহিহ হাদীসের আলোকে সম্পূর্ণ গাইড

jumar diner 7ti amol - jumar dine masjider dike jaoar poth o porishkar jaynamaz

ভূমিকা

অনেকের কাছে শুক্রবার মানে সাপ্তাহিক ছুটি, একটু দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, দুপুরে জুমা পড়ে বাসায় ফিরে ভালো খাবার। জুমার নামাজটা হয়তো ঠিকই পড়া হয়, কিন্তু দিনের বাকি অংশ আর দশটা ছুটির দিনের মতোই কেটে যায়।

অথচ রাসূল ﷺ এই দিনটির জন্য কিছু নির্দিষ্ট আমল শিখিয়ে গেছেন। এগুলোর কোনোটিই কঠিন নয়, বেশিরভাগই আমাদের স্বাভাবিক রুটিনের সঙ্গে সহজে মিশে যায়। কিন্তু হাদীসে এসব আমলের এমন কিছু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যা জানলে শুক্রবারটা আর সাধারণ ছুটির দিন মনে হবে না।

এই লেখায় সহিহ হাদীসের আলোকে জুমার দিনের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আমল ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো, প্রতিটির প্রমাণ, ফজিলত ও করার সহজ উপায়সহ।

জুমার দিন কেন বিশেষ: সংক্ষেপে

আমলগুলোর আলোচনায় যাওয়ার আগে একটু দেখে নেওয়া যাক, এই দিনটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ।

সহিহ মুসলিমের ৮৫৪ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বলেছেন। সূরা আল-জুমুআর ৯ ও ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা জুমার আজান শুনে বেচাকেনা ছেড়ে নামাজের দিকে যেতে বলেছেন, আর নামাজ শেষে জমিনে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর অনুগ্রহ খোঁজার অনুমতি দিয়েছেন। অর্থাৎ ইসলাম এই দিনে কাজকর্ম বন্ধ রাখতে বলেনি, বরং নামাজের সময়টুকু আল্লাহর জন্য আলাদা করতে বলেছে।

সহিহ মুসলিমের ২৩৩ নম্বর হাদীসে আরেকটি আশাজাগানিয়া কথা এসেছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং এক জুমা থেকে আরেক জুমা, এর মাঝের ছোট গুনাহগুলোর জন্য কাফফারা হয়, যদি বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।

প্রতি সপ্তাহে নিজেকে নতুন করে শুরু করার এমন একটি সুযোগ সত্যিই অনেক বড় নিয়ামত। নিচের সাতটি আমল সেই সুযোগকে পূর্ণভাবে কাজে লাগানোর পথ দেখায়।

আমল ১: গোসল, পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি

জুমার দিনের প্রস্তুতি শুরু হয় নিজেকে পরিচ্ছন্ন করার মাধ্যমে।

সহিহ বুখারী (৮৭৭) ও সহিহ মুসলিমের (৮৪৪) হাদীসে রাসূল ﷺ জুমায় আসার আগে গোসল করতে বলেছেন। সহিহ বুখারীর ৮৮০ নম্বর হাদীসে গোসলের পাশাপাশি মিসওয়াক করা এবং সাধ্যমতো সুগন্ধি ব্যবহারের কথাও এসেছে।

জুমার গোসলের হুকুম নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। হানাফিসহ অধিকাংশ আলেমের মতে এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, অর্থাৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। কিছু আলেম একে ওয়াজিব বলেছেন। সব মতেই এটি যত্নের সঙ্গে পালন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

সঙ্গে আরও যা করতে পারেন

  • নখ ও অপ্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করে নেওয়া।
  • পরিষ্কার, সম্ভব হলে সবচেয়ে ভালো পোশাকটি পরা।
  • পুরুষদের জন্য আতর বা হালকা সুগন্ধি ব্যবহার।
  • পেঁয়াজ-রসুন জাতীয় কাঁচা গন্ধযুক্ত খাবার খেয়ে মসজিদে না যাওয়া, যাতে পাশের মুসল্লিদের কষ্ট না হয়।

পরিচ্ছন্ন হয়ে মসজিদে যাওয়া শুধু নিজের জন্য নয়, পাশে দাঁড়ানো ভাইয়ের প্রতি সম্মানেরও প্রকাশ।

আমল ২: আগে আগে ও হেঁটে মসজিদে যাওয়া

জুমার দিনে মসজিদে কে কখন পৌঁছাল, তারও আলাদা মর্যাদা আছে।

সহিহ বুখারী (৮৮১) ও সহিহ মুসলিমের (৮৫০) হাদীসে রাসূল ﷺ একটি সুন্দর উপমা দিয়েছেন। যে প্রথম সময়ে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কুরবানি করল। এরপর যে আসে, সে যেন একটি গরু, তারপর একটি ভেড়া, তারপর একটি মুরগি, এবং শেষে একটি ডিম দান করল। ইমাম খুতবার জন্য বের হলে ফেরেশতারা খাতা বন্ধ করে খুতবা শুনতে বসে যান।

হেঁটে যাওয়ার ফজিলত

সুনানে আবু দাউদ (৩৪৫) ও জামে তিরমিযীর (৪৯৬) হাদীসে এসেছে, যে জুমার দিন গোসল করে, আগে আগে হেঁটে মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং অনর্থক কিছু করে না, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও রাতের নামাজের সওয়াবের কথা বলা হয়েছে। মুহাদ্দিসগণ এই হাদীসকে সহিহ বলেছেন।

শহরে মসজিদ দূরে হলে গাড়িতে যেতে হতে পারে, তাতে সমস্যা নেই। তবে কাছের মসজিদ হলে হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করা যায়।

আমল ৩: মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা

জুমার খুতবা জুমার নামাজেরই অংশ, আর এটি শোনার জন্য বিশেষ আদব শেখানো হয়েছে।

সহিহ বুখারী (৯৩৪) ও সহিহ মুসলিমের (৮৫১) হাদীসে এসেছে, ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কেউ যদি পাশের জনকে শুধু "চুপ করো" বলে, তাহলেও সে অনর্থক কাজ করল। সহিহ মুসলিমের ৮৫৭ নম্বর হাদীসে খুতবার সময় কংকর নিয়ে নাড়াচাড়া করাকেও অনর্থক কাজ বলা হয়েছে।

আজকের প্রেক্ষাপটে এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো মোবাইল ফোন। খুতবার সময় ফোন চেক করা, মেসেজ দেখা বা স্ক্রল করা এই অনর্থক কাজের মধ্যেই পড়ে বলে আলেমগণ উল্লেখ করেছেন।

খুতবার আদব

  • মসজিদে ঢুকে ফোন সাইলেন্ট বা বন্ধ করে নিন।
  • সামনের কাতার ফাঁকা থাকলে আগে সেখানে বসুন, কিন্তু অন্যদের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনে যাবেন না। সুনানে আবু দাউদের (১১১৮) হাদীসে এমন একজনকে রাসূল ﷺ বসে পড়তে বলেছিলেন।
  • খুতবা আরবিতে হলেও চুপচাপ মনোযোগ দিয়ে বসে থাকুন।
  • খুতবার আগে বাংলায় যে আলোচনা হয়, সেটি মনোযোগ দিয়ে শুনুন, অনেক সময় সেখানে জরুরি দ্বীনি শিক্ষা থাকে।

আমল ৪: সূরা কাহফ তিলাওয়াত

জুমার দিনের একটি পরিচিত ও প্রিয় আমল হলো সূরা আল-কাহফ পড়া।

মুস্তাদরাকে হাকিম ও সুনানে বায়হাকিতে আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, যে জুমার দিন সূরা কাহফ পড়ে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত করে দেওয়া হয়। শায়খ আলবানীসহ অনেক মুহাদ্দিস এই হাদীসকে সহিহ বলেছেন।

এ ছাড়া সহিহ মুসলিমের ৮০৯ নম্বর হাদীসে সাধারণভাবে সূরা কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করার ফজিলত হিসেবে দাজ্জালের ফিতনা থেকে সুরক্ষার কথা এসেছে।

কখন পড়বেন

জুমার দিন বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকে। এই সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় পড়া যায়।

সহজে শেষ করার উপায়

সূরা কাহফে ১১০টি আয়াত, পড়তে সাধারণত ২০ থেকে ৩০ মিনিট লাগে। একবারে না পারলে ভাগ করে নিন: ফজরের পর কিছু অংশ, জুমার আগে কিছু অংশ, আসরের পর বাকিটা। যারা আরবি পড়তে পারেন না, তারা ভালো ক্বারীর তিলাওয়াত শুনতে শুনতে বাংলা অর্থ পড়তে পারেন।

আমল ৫: বেশি বেশি দুরুদ পাঠ

জুমার দিনে রাসূল ﷺ বিশেষভাবে যে আমলটি বাড়াতে বলেছেন, তা হলো তাঁর ওপর দুরুদ পাঠ।

সুনানে আবু দাউদের ১০৪৭ নম্বর সহিহ হাদীসে রাসূল ﷺ জুমার দিনকে শ্রেষ্ঠ দিনগুলোর একটি বলেছেন এবং এই দিনে তাঁর ওপর বেশি করে দুরুদ পড়তে বলেছেন, কারণ উম্মতের দুরুদ তাঁর কাছে পেশ করা হয়।

সহিহ মুসলিমের ৪০৮ নম্বর হাদীস অনুযায়ী, একবার দুরুদ পাঠের বিনিময়ে আল্লাহ দশবার রহমত বর্ষণ করেন।

সহজ দুরুদ

সবচেয়ে উত্তম দুরুদ হলো নামাজে পড়া দুরুদে ইবরাহিমি (সহিহ বুখারী ৩৩৭০)। ব্যস্ততার মধ্যে বারবার পড়ার জন্য "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" বা "আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ" পড়া যায়।

হাদীসে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা হয়নি, বরং "বেশি বেশি" বলা হয়েছে। তাই নিজের জন্য একটি লক্ষ্য ঠিক করে নিতে পারেন, যেমন দিনে ১০০ বা তার বেশি।

জুমার দিনে দুরুদ পাঠের ফজিলত, দুরুদে ইবরাহিমির পূর্ণ আরবি টেক্সট এবং এ বিষয়ে প্রচলিত দুর্বল বর্ণনাগুলো নিয়ে আমাদের আলাদা একটি বিস্তারিত লেখা রয়েছে।

আমল ৬: দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তে দোয়া

জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যাকে হাদীসে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

সহিহ বুখারী (৯৩৫) ও সহিহ মুসলিমের (৮৫২) হাদীসে রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, জুমার দিনে একটি মুহূর্ত আছে, তখন কোনো মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়েছেন যে মুহূর্তটি খুব সংক্ষিপ্ত।

মুহূর্তটি কখন

এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কয়েকটি মত আছে, যার দুটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ:

  • ইমামের মিম্বারে বসা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত: সহিহ মুসলিমের ৮৫৩ নম্বর হাদীসে এই সময়ের কথা এসেছে।
  • আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, বিশেষ করে শেষ সময়টুকু: সুনানে আবু দাউদের ১০৪৮ নম্বর হাদীসে এর ইঙ্গিত এসেছে, এবং অনেক আলেম এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

তাই দুটি সময়েই দোয়ার প্রতি মনোযোগী থাকা উত্তম। আসরের পর মাগরিব পর্যন্ত সময়টা একটু নিরিবিলি বসে দোয়া, ইস্তিগফার ও দুরুদে কাটানোর চেষ্টা করুন। নিজের, পরিবারের, অসুস্থদের ও পুরো উম্মাহর জন্য দোয়া করুন।

আমল ৭: জুমার আগে ও পরের সুন্নাত নামাজ

জুমার দুই রাকাত ফরজের আগে ও পরে কিছু নফল ও সুন্নাত নামাজ রয়েছে।

মসজিদে প্রবেশ করে

মসজিদে ঢুকে ইমাম খুতবা শুরু করার আগ পর্যন্ত যত রাকাত সম্ভব নফল নামাজ পড়া যায়। সহিহ বুখারীর ৮৮৩ নম্বর হাদীসে জুমায় এসে "যা তাকদিরে লেখা আছে" ততটুকু নামাজ পড়ার কথা এসেছে।

হানাফি মাযহাবে জুমার আগে চার রাকাত সুন্নাত পড়ার প্রচলন আছে। ইমাম খুতবা শুরু করার পর মসজিদে প্রবেশ করলে দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত নামাজ পড়া যাবে কি না, এ নিয়ে মাযহাবগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে (সহিহ মুসলিম ৮৭৫ দ্রষ্টব্য)। নিজ মসজিদের প্রচলিত মত অনুসরণ করা ভালো।

জুমার পরে

সহিহ মুসলিমের ৮৮১ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ জুমার পর চার রাকাত পড়তে বলেছেন। আবার সহিহ বুখারীর ৯৩৭ নম্বর হাদীসে এসেছে, তিনি নিজে ঘরে ফিরে দুই রাকাত পড়তেন। এই হাদীসগুলোর আলোকে হানাফি মাযহাবে জুমার পর চার রাকাত, এবং অনেকের মতে এরপর আরও দুই রাকাত পড়ার প্রচলন আছে।

জুমার পরের সুন্নাতগুলো তাড়াহুড়া না করে ধীরেসুস্থে পড়ুন। এরপর অন্য যেকোনো কাজে যাওয়া যায়।

যাদের ওপর জুমা ফরজ নয়, তাদের জন্য আমল

সুনানে আবু দাউদের ১০৬৭ নম্বর হাদীসে এসেছে, জুমার নামাজ প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জামাতে আদায় করা ফরজ, তবে চার শ্রেণির মানুষ ছাড়া: নারী, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং ক্রীতদাস। আলেমগণ মুসাফিরকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

তারা জুমার বদলে স্বাভাবিকভাবে জোহরের নামাজ আদায় করবেন। তবে নারীরা চাইলে মসজিদে গিয়ে জুমায় অংশ নিতে পারেন, সেক্ষেত্রে আর জোহর পড়তে হয় না।

তবু অন্য আমলগুলো সবার জন্য

জুমার নামাজ ফরজ না হলেও এই দিনের বাকি ফজিলতপূর্ণ আমলগুলো সবার জন্যই খোলা:

  • সূরা কাহফ তিলাওয়াত।
  • বেশি বেশি দুরুদ পাঠ।
  • আসরের পর দোয়ার বিশেষ মুহূর্তে দোয়া করা।
  • পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি।

বিশেষ করে বাসায় থাকা মা-বোনেরা আসর থেকে মাগরিবের সময়টা দোয়া ও জিকিরে কাটাতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা যখন জুমায় যান, তখন তাদের জন্য দোয়া করাও একটি সুন্দর আমল।

উপসংহার

জুমার দিনের সাতটি আমল, অর্থাৎ গোসল ও পরিচ্ছন্নতা, আগে আগে মসজিদে যাওয়া, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা, সূরা কাহফ তিলাওয়াত, বেশি বেশি দুরুদ, দোয়া কবুলের মুহূর্তে দোয়া এবং সুন্নাত নামাজ, প্রতিটিই সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আর এগুলো এমনভাবে সাজানো যে একটি সাধারণ শুক্রবারের রুটিনেই সবগুলো সহজে মিলিয়ে নেওয়া যায়।

এই শুক্রবার থেকেই শুরু করতে পারেন:

  1. বৃহস্পতিবার রাতে পরের দিনের পরিষ্কার জামা ও আতর গুছিয়ে রাখুন।
  2. এই সপ্তাহে অন্তত আগের চেয়ে ১৫ মিনিট আগে মসজিদে পৌঁছানোর লক্ষ্য রাখুন, আর অপেক্ষার সময়টা দুরুদে কাটান।
  3. আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত অন্তত দশ মিনিট ফোন দূরে রেখে নিরিবিলি দোয়া করুন।

সাতটি একসঙ্গে না পারলে প্রতি সপ্তাহে একটি করে যোগ করুন। দুই মাসের মধ্যেই দেখবেন, শুক্রবারটা আপনার জন্য সপ্তাহের সবচেয়ে প্রিয় দিন হয়ে উঠেছে বলে আশা করা যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের মর্যাদা বোঝার এবং এর বরকত লাভ করার তাওফিক দান করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো কী কী?

সহিহ হাদীসের আলোকে জুমার দিনের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো: গোসল ও সুগন্ধি ব্যবহার, আগে আগে মসজিদে যাওয়া, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা, সূরা কাহফ তিলাওয়াত, বেশি বেশি দুরুদ পাঠ, দোয়া কবুলের মুহূর্তে দোয়া এবং জুমার আগে-পরের সুন্নাত নামাজ।

২. জুমার দিনের গোসল কি ফরজ?

হানাফিসহ অধিকাংশ আলেমের মতে জুমার গোসল সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, তবে কিছু আলেম একে ওয়াজিব বলেছেন। সহিহ বুখারী (৮৭৭) ও সহিহ মুসলিমের (৮৪৪) হাদীসে এটি পালন করতে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।

৩. সূরা কাহফ কখন পড়তে হয়?

বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো সময় পড়া যায়। একবারে না পারলে কয়েক ভাগে ভাগ করেও পড়া যায়।

৪. জুমার দিনে দোয়া কবুলের সময় কখন?

সহিহ বুখারী (৯৩৫) ও সহিহ মুসলিমের (৮৫২) হাদীসে এই দিনে একটি বিশেষ মুহূর্তের কথা এসেছে। এর সময় নিয়ে দুটি প্রসিদ্ধ মত আছে: ইমামের মিম্বারে বসা থেকে নামাজ শেষ পর্যন্ত, এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। দুটি সময়েই দোয়ায় মনোযোগী থাকা উত্তম।

৫. নারীদের জন্য কি জুমার দিনের আমল আছে?

সুনানে আবু দাউদের (১০৬৭) হাদীস অনুযায়ী নারীদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ নয়, তারা জোহর পড়বেন। তবে সূরা কাহফ তিলাওয়াত, বেশি বেশি দুরুদ এবং আসরের পর দোয়ার মতো আমলগুলো নারী-পুরুষ সবার জন্যই ফজিলতপূর্ণ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url