জুমার দিনে বেশি বেশি দুরুদ পাঠের ফজিলত | জুমার দিনের আমল | Hossain islamic Tips

 

জুমার দিনে বেশি বেশি দুরুদ পাঠের ফজিলত (কুরআন ও হাদীসের আলোকে)

jumar-dine-durud-pather-fojilot


ভূমিকা

ইসলামে জুমার দিন একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন দিন। এই দিনকে মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়েছে। জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সহজ আমল হলো নবী মুহাম্মদ ﷺ–এর উপর বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করা। কুরআন ও সহিহ হাদীসে জুমার দিনে দুরুদ পাঠের বিশেষ ফজিলতের কথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই পোস্টে আমরা দলিলসহ জুমার দিনে দুরুদ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে জানবো।


 দুরুদ পাঠের গুরুত্ব (কুরআনের আলোকে)

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন—

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দুরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দুরুদ ও সালাম পাঠ করো।”
(সূরা আল-আহযাব: ৫৬)

এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়, দুরুদ পাঠ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং মুমিনদের জন্য আল্লাহর নির্দেশ।


 জুমার দিনে দুরুদ পাঠের বিশেষ ফজিলত (হাদীসের আলোকে)

১️.জুমার দিনে বেশি বেশি দুরুদ পাঠের নির্দেশ

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। সুতরাং এই দিনে তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দুরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়।”
(সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৭, সহিহ)

👉 এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, জুমার দিন দুরুদ পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।


২️. একবার দুরুদ পাঠ করলে ১০টি রহমত নাযিল হয়

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—

“যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার উপর দশবার রহমত নাযিল করেন।”
(সহিহ মুসলিম: ৪০৮)

অন্য বর্ণনায় এসেছে—

একবার দুরুদ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা ১০টি গুনাহ মাফ করেন এবং ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
(সুনানে নাসাঈ: ১২৯৭, সহিহ)


৩️. দুরুদ পাঠ গুনাহ মাফের মাধ্যম

দুরুদ শরীফ এমন একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে বান্দার ছোট গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয় এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হয়। বিশেষ করে জুমার দিনে এই আমলের সওয়াব আরও বেশি।


৪️. রাসূল ﷺ–এর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় হয়

জুমার দিনে বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করলে নবী ﷺ–এর সাথে আত্মিক সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং কিয়ামতের দিন তাঁর সুপারিশ লাভের আশা করা যায়।

🌿 দুরুদ শরীফ

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَىٰ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মদ ﷺ–এর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।


 আরো পড়ুন👉 জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৭টি আমল

কখন ও কীভাবে দুরুদ পাঠ করা উত্তম

  • জুমার দিনের ফজরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত

  • জুমার নামাজের আগে ও পরে

  • যে কোনো ভাষায়, তবে আরবি দুরুদ উত্তম

সহজ দুরুদ:
“আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদ”


জুমার দিনে দুরুদ পাঠের উপকারিতা সংক্ষেপে

  • আল্লাহর রহমত নাযিল হয়

  • গুনাহ মাফ হয়

  • মর্যাদা বৃদ্ধি পায়

  • দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বাড়ে

  • অন্তরে প্রশান্তি আসে


 উপসংহার

জুমার দিন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত। এই দিনে বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করা একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। তাই আমাদের উচিত প্রতি জুমায় সচেতনভাবে দুরুদ পাঠ করা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহকে জীবনের অংশ বানানো।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url