🛍️

Islamic Shopping

ইসলামিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সুন্দর পণ্য

View All →
Featured Islamic Prayer Mat

Premium Islamic Prayer Mat

আরামদায়ক ও সুন্দর ডিজাইনের নামাজের জায়নামাজ।

Check Price →
Popular Digital Tasbih

Digital Tasbih

দৈনন্দিন জিকির গণনার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল তাসবিহ।

Check Price →
Wooden Quran Stand

Wooden Quran Stand

কুরআন পড়ার সময় ব্যবহারের জন্য সুন্দর কাঠের স্ট্যান্ড।

Check Price →
Gift Islamic Gift

Islamic Gift Collection

পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য সুন্দর ইসলামিক উপহার।

Check Price →
Affiliate Disclosure: এই Shopping Section-এর কিছু লিংক affiliate link হতে পারে। আপনি এসব লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কিনলে আপনার অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই আমরা কমিশন পেতে পারি।

জুমার দিনে দুরুদ পাঠের ফজিলত ও জুমার দিনের আমল

 

জুমার দিনে বেশি বেশি দুরুদ পাঠের ফজিলত: সহিহ হাদীসের আলোকে জুমার দিনের আমল

jumar diner amol o durud path - jumar dupure masjider uthane narom alo o jaynamaz

ভূমিকা

বৃহস্পতিবার রাত থেকেই অনেকের মনে একটা আলাদা অনুভূতি আসে। কাল জুমা। সকালে গোসল, পরিষ্কার জামা, আতর, তারপর মসজিদে যাওয়া। সপ্তাহের এই দিনটা যেন একটু অন্যরকম।

কিন্তু জুমার দিনের একটি সহজ আমল প্রায়ই আমাদের নজর এড়িয়ে যায়: রাসূল ﷺ-এর ওপর বেশি বেশি দুরুদ পাঠ। অথচ রাসূল ﷺ নিজেই এই দিনে তাঁর ওপর বেশি করে দুরুদ পড়তে বলেছেন, আর জানিয়েছেন যে সেই দুরুদ তাঁর কাছে পৌঁছানো হয়।

একটু ভাবুন, আপনার মুখের একটি ছোট দোয়া প্রিয় নবী ﷺ-এর কাছে পেশ করা হচ্ছে। এই লেখায় কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে আমরা জানব, জুমার দিনে দুরুদ পাঠের ফজিলত কী, কোন দুরুদ পড়া উত্তম, এ বিষয়ে প্রচলিত কিছু দুর্বল বর্ণনা কোনগুলো, আর জুমার দিনের অন্যান্য সুন্নাহসম্মত আমলগুলো কী।

১. জুমার দিনের মর্যাদা

সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমার দিনকে ইসলামে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিমের ৮৫৪ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, সূর্য যেসব দিনে উদিত হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম দিন জুমার দিন। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, এবং কিয়ামতও এই দিনেই সংঘটিত হবে।

কুরআনে একটি পূর্ণ সূরার নামই রাখা হয়েছে "আল-জুমুআ"। সেই সূরার ৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বলেছেন, জুমার দিনে নামাজের আজান হলে বেচাকেনা ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে।

আলেমগণ জুমার দিনকে মুসলমানদের "সাপ্তাহিক ঈদ" হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। যেমন বছরে দুটি ঈদ আছে, তেমনি সপ্তাহে একটি দিন আছে, যেদিন মুসলমানরা একত্রিত হয়, খুতবা শোনে এবং একসঙ্গে নামাজ পড়ে।

এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ দিনে রাসূল ﷺ আমাদের একটি বিশেষ আমলের দিকে মনোযোগ দিতে বলেছেন, আর সেটি হলো তাঁর ওপর বেশি বেশি দুরুদ পাঠ।

২. দুরুদ কী এবং কুরআনে এর নির্দেশ

দুরুদ শব্দটি ফারসি, আরবিতে একে বলা হয় "সালাত আলান নাবী"। সহজ কথায়, রাসূল ﷺ-এর জন্য আল্লাহর কাছে রহমত, সম্মান ও বরকতের দোয়া করাকে দুরুদ বলে।

দুরুদ পাঠের নির্দেশ এসেছে সরাসরি কুরআনে। সূরা আল-আহযাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। তারপর মুমিনদের বলেছেন, তোমরাও তাঁর প্রতি দুরুদ ও যথাযথ সালাম পাঠাও।

এই আয়াতটি নিয়ে ভাবলে একটি সুন্দর বিষয় চোখে পড়ে। কুরআনে অনেক আমলের নির্দেশ আছে, কিন্তু এই আমলটির কথা বলার আগে আল্লাহ নিজের কথা উল্লেখ করেছেন, তারপর ফেরেশতাদের, তারপর মুমিনদের। অর্থাৎ দুরুদ পাঠ এমন একটি কাজ, যাতে আল্লাহ ও ফেরেশতারাও শরিক।

আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে "সালাত" মানে রহমত ও সম্মান দান, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে মানে দোয়া, আর মুমিনদের পক্ষ থেকে মানে রাসূল ﷺ-এর জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা।

৩. জুমার দিনে বেশি দুরুদের বিশেষ নির্দেশ

দুরুদ সারা সপ্তাহ, সারা বছর পড়ার আমল। কিন্তু জুমার দিনের জন্য রাসূল ﷺ বিশেষভাবে এটি বাড়াতে বলেছেন।

সুনানে আবু দাউদ (১০৪৭), সুনানে নাসায়ী (১৩৭৪) ও সুনানে ইবনে মাজাহর (১০৮৫) হাদীসে আওস ইবনে আওস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূল ﷺ জুমার দিনকে সবচেয়ে উত্তম দিনগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। তারপর বলেছেন, এই দিনে তোমরা আমার ওপর বেশি করে দুরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দুরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। মুহাদ্দিসগণ এই হাদীসকে সহিহ বলেছেন।

সাহাবিদের একটি প্রশ্ন

একই হাদীসে সাহাবিরা জানতে চেয়েছিলেন, ইন্তেকালের পর তাঁর শরীর তো মাটিতে মিশে যাবে, তখন কীভাবে দুরুদ পেশ করা হবে? রাসূল ﷺ জানিয়েছিলেন, আল্লাহ তাআলা নবীদের দেহ মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন।

এই হাদীসটি জুমার দিনে দুরুদের গুরুত্বকে খুব স্পষ্ট করে। আমাদের পাঠানো দুরুদ নিজের নামে রাসূল ﷺ-এর কাছে পৌঁছায়, এর চেয়ে বড় সম্মান একজন উম্মতের জন্য আর কী হতে পারে।

৪. সহিহ হাদীসে দুরুদ পাঠের ফজিলত

দুরুদ পাঠের ফজিলত সম্পর্কে একাধিক সহিহ ও হাসান হাদীস রয়েছে। কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো।

একটির বিনিময়ে দশটি রহমত

সহিহ মুসলিমের ৪০৮ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, যে তাঁর ওপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।

গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি

সুনানে নাসায়ীর ১২৯৭ নম্বর হাদীসে এসেছে, একবার দুরুদ পাঠের বিনিময়ে আল্লাহ দশটি রহমত দেন, দশটি গুনাহ মাফ করেন এবং দশটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।

কিয়ামতের দিন রাসূল ﷺ-এর নৈকট্য

জামে তিরমিযীর ৪৮৪ নম্বর হাদীসে (হাসান) এসেছে, কিয়ামতের দিন রাসূল ﷺ-এর সবচেয়ে কাছের মানুষ হবে তারা, যারা তাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি দুরুদ পাঠ করেছে।

দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির আশা

জামে তিরমিযীর ২৪৫৭ নম্বর হাদীসে উবাই ইবনে কা‘ব (রা.) জানতে চেয়েছিলেন, তাঁর দোয়ার সময়ের কতটুকু দুরুদে ব্যয় করবেন। শেষে তিনি বললেন, পুরো সময়টাই দুরুদে দেবেন। রাসূল ﷺ জানালেন, তাহলে তোমার দুশ্চিন্তার জন্য তা যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে।

৫. কোন দুরুদ পড়বেন

দুরুদের অনেক রূপ প্রচলিত আছে। তবে সবচেয়ে উত্তম হলো সেই দুরুদ, যা রাসূল ﷺ নিজে সাহাবিদের শিখিয়েছেন।

দুরুদে ইবরাহিমি

সহিহ বুখারী (৩৩৭০) ও সহিহ মুসলিমের (৪০৬) হাদীসে কা‘ব ইবনে উজরা (রা.) জানিয়েছেন, সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাঁর ওপর দুরুদ কীভাবে পড়বেন। তখন রাসূল ﷺ এই দুরুদটি শিখিয়েছিলেন, যা আমরা নামাজের শেষ বৈঠকেও পড়ি:

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ. اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ ﷺ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ ﷺ ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত দিন, যেমন ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পরিবারের ওপর বরকত দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

সংক্ষিপ্ত দুরুদ

ব্যস্ততার মধ্যে বারবার পড়ার জন্য ছোট দুরুদ: "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" বা "আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ"। হাঁটতে, গাড়িতে বা কাজের ফাঁকেও এটি পড়া যায়।


🌿 দুরুদ শরীফ

اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَىٰ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মদ ﷺ–এর উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

৬. দুরুদ নিয়ে প্রচলিত কিছু দুর্বল বর্ণনা

দুরুদ একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল, আর সহিহ হাদীসেই এর যথেষ্ট ফজিলত এসেছে। তবু সমাজে কিছু বর্ণনা প্রচলিত আছে, যেগুলোর সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসগণ আপত্তি করেছেন।

জুমার দিন আসরের পর ৮০ বার দুরুদ

জুমার দিন আসরের পর বসা অবস্থায় ৮০ বার নির্দিষ্ট একটি দুরুদ পড়লে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ ও ৮০ বছরের ইবাদতের সওয়াব পাওয়ার কথা ব্যাপকভাবে প্রচারিত। মুহাদ্দিসগণ এই বর্ণনাকে অত্যন্ত দুর্বল বা ভিত্তিহীন বলেছেন।

নির্দিষ্ট নামের দুরুদ ও তার "গ্যারান্টি"

কিছু বই বা পোস্টে বিশেষ নামের দুরুদ পড়লে নির্দিষ্ট দুনিয়াবি ফল পাওয়া যাবে বলে দাবি করা হয়। এসব দাবির পক্ষে সাধারণত কোনো সহিহ প্রমাণ পাওয়া যায় না।

তাহলে কী করবেন?

  • সহিহ হাদীসে প্রমাণিত দুরুদ, বিশেষ করে দুরুদে ইবরাহিমি পড়ুন।
  • নির্দিষ্ট সংখ্যার বাধ্যবাধকতা না করে যত বেশি সম্ভব পড়ুন, কারণ হাদীসে "বেশি বেশি" বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সংখ্যা নয়।
  • কোনো বর্ণনা শেয়ার করার আগে এর সূত্র যাচাই করুন।

সহিহ হাদীসের ফজিলতই আমাদের জন্য যথেষ্ট অনুপ্রেরণা।

৭. জুমার দিনের অন্যান্য সুন্নাহসম্মত আমল

দুরুদের পাশাপাশি জুমার দিনের আরও কিছু আমল সহিহ হাদীসে এসেছে।

গোসল ও পরিচ্ছন্নতা

সহিহ বুখারী (৮৭৭) ও সহিহ মুসলিমের (৮৪৪) হাদীসে জুমার জন্য গোসল করতে বলা হয়েছে। সহিহ বুখারীর ৮৮৩ নম্বর হাদীসে গোসল, সাধ্যমতো পবিত্রতা অর্জন, তেল বা সুগন্ধি ব্যবহার এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনার ফজিলত হিসেবে দুই জুমার মাঝের গুনাহ মাফের কথা এসেছে।

আগে আগে মসজিদে যাওয়া

সহিহ বুখারী (৮৮১) ও সহিহ মুসলিমের (৮৫০) হাদীসে এসেছে, যে প্রথম সময়ে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কুরবানি করল। এরপর ক্রমান্বয়ে গরু, ভেড়া, মুরগি ও ডিমের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

খুতবা চুপচাপ শোনা

সহিহ বুখারী (৯৩৪) ও সহিহ মুসলিমের (৮৫১) হাদীস অনুযায়ী, খুতবার সময় পাশের জনকে "চুপ করো" বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য।

সূরা কাহফ তিলাওয়াত

জুমার দিনে সূরা কাহফ পড়ার ফজিলত সম্পর্কে মুস্তাদরাকে হাকিম ও সুনানে বায়হাকিতে হাদীস এসেছে, যেখানে দুই জুমার মাঝে আলোকিত থাকার কথা বলা হয়েছে। অনেক মুহাদ্দিস একে সহিহ বলেছেন।

দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত

সহিহ বুখারী (৯৩৫) ও সহিহ মুসলিমের (৮৫২) হাদীসে এসেছে, জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাইলে আল্লাহ তা দান করেন বলে আশা করা যায়। অনেক আলেমের মতে এটি আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে খোঁজা উত্তম।

৮. ব্যস্ত মানুষের জন্য একটি সহজ জুমা রুটিন

অনেকের জন্য জুমার দিনও অফিস, দোকান বা পারিবারিক কাজে ব্যস্ত কাটে। তবু একটু পরিকল্পনা করলে দুরুদসহ বেশিরভাগ আমল সহজে করা যায়।

বৃহস্পতিবার রাত

জুমার রাত শুরু হয় বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে। ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ দুরুদ পড়ুন এবং পরের দিনের জামা-কাপড় গুছিয়ে রাখুন।

জুমার সকাল

ফজরের পর সূরা কাহফ তিলাওয়াত শুরু করুন। পুরোটা একবারে না পারলে কয়েক ভাগে দিনের মধ্যে শেষ করুন।

জুমার আগে

গোসল করে পরিষ্কার পোশাক ও সুগন্ধি নিয়ে আগে আগে মসজিদে যান। খুতবা শুরুর আগ পর্যন্ত বসে বসে দুরুদ ও জিকির করুন।

দিনভর

কাজের ফাঁকে, রাস্তায়, অপেক্ষার সময় "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" পড়তে থাকুন। ফোনে একটি রিমাইন্ডার রাখতে পারেন।

আসর থেকে মাগরিব

সম্ভব হলে এই সময়টা দুরুদ, দোয়া ও ইস্তিগফারে কাটান। নিজের, পরিবারের ও পুরো উম্মাহর জন্য দোয়া করুন।

উপসংহার

জুমার দিন সপ্তাহের সবচেয়ে উত্তম দিন, আর এই দিনে রাসূল ﷺ নিজেই তাঁর ওপর বেশি করে দুরুদ পড়তে বলেছেন। প্রতিটি দুরুদ তাঁর কাছে পেশ করা হয়, একটির বিনিময়ে আল্লাহর দশটি রহমতের সুসংবাদ আছে, আর কিয়ামতের দিন তাঁর নৈকট্যের আশাও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

এই জুমা থেকেই শুরু করতে পারেন:

  1. দুরুদে ইবরাহিমি যদি মুখস্থ না থাকে, এই সপ্তাহে সেটি মুখস্থ করে ফেলুন।
  2. জুমার দিন সকালে নিজের জন্য একটি সহজ লক্ষ্য ঠিক করুন, যেমন দিনে অন্তত ১০০ বার দুরুদ।
  3. খুতবার আগে মসজিদে বসে থাকার সময়টুকু ফোনের বদলে দুরুদে কাটান।

সংখ্যার চেয়ে আন্তরিকতা আর ধারাবাহিকতাই বড় কথা। প্রতি জুমায় একটু একটু করে বাড়াতে থাকলে আশা করা যায়, একসময় এটি আপনার জুমার দিনের সবচেয়ে প্রিয় অভ্যাস হয়ে উঠবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রিয় নবী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করার এবং জুমার দিনের বরকত লাভ করার তাওফিক দান করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. জুমার দিনে দুরুদ পাঠের ফজিলত কী?

সুনানে আবু দাউদের (১০৪৭) সহিহ হাদীসে রাসূল ﷺ জুমার দিনে তাঁর ওপর বেশি দুরুদ পড়তে বলেছেন এবং জানিয়েছেন যে, এই দুরুদ তাঁর কাছে পেশ করা হয়। এ ছাড়া সহিহ মুসলিমের (৪০৮) হাদীস অনুযায়ী একবার দুরুদের বিনিময়ে আল্লাহ দশবার রহমত বর্ষণ করেন।

২. জুমার দিনে কতবার দুরুদ পড়তে হয়?

সহিহ হাদীসে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলা হয়নি, বরং "বেশি বেশি" পড়তে উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যত বেশি সম্ভব পড়া উত্তম।

৩. সবচেয়ে উত্তম দুরুদ কোনটি?

সহিহ বুখারী (৩৩৭০) ও সহিহ মুসলিমের (৪০৬) হাদীসে রাসূল ﷺ নিজে যে দুরুদ শিখিয়েছেন, অর্থাৎ নামাজে পড়া দুরুদে ইবরাহিমি, আলেমগণের মতে সেটিই সবচেয়ে উত্তম।

৪. জুমার দিন আসরের পর ৮০ বার দুরুদ পড়ার হাদীস কি সহিহ?

মুহাদ্দিসগণ এই বর্ণনাকে অত্যন্ত দুর্বল বা ভিত্তিহীন বলেছেন। তবে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে সাধারণভাবে দুরুদ ও দোয়ায় মশগুল থাকা উত্তম, কারণ অনেক আলেমের মতে জুমার দিনের দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত এই সময়েই।

৫. জুমার দিনের অন্যান্য আমল কী কী?

সহিহ হাদীসের আলোকে জুমার দিনের আমলগুলো হলো: গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহার, আগে আগে মসজিদে যাওয়া, চুপচাপ খুতবা শোনা, সূরা কাহফ তিলাওয়াত, বেশি বেশি দুরুদ পাঠ এবং দোয়া কবুলের মুহূর্তে দোয়া করা।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url