শা‘বান মাসে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল | কুরআন ও হাদীসের আলোকে

 

শা‘বান মাসে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল | কুরআন ও হাদীসের আলোকে

shaban-mashe-5ti-gurutto-purno-amol


 ভূমিকা

ইসলামী বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শা‘বান—রমজানের ঠিক আগের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মাস। এই মাসকে অনেকেই অবহেলা করে থাকেন, অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ এই মাসে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত করতেন। শা‘বান মূলত রমজানের প্রস্তুতির মাস—যেখানে বান্দা নিজেকে আত্মশুদ্ধি, নফল ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য প্রস্তুত করে।

এই লেখায় আমরা কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে শা‘বান মাসে পালনযোগ্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল বিস্তারিতভাবে জানবো।


 শা‘বান মাসের গুরুত্ব: হাদীসের আলোকে

হযরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) বলেন—

আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি শা‘বান মাসে এত বেশি রোজা রাখেন কেন?
তিনি বললেন—
“এটি রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী একটি মাস, যেটিকে মানুষ অবহেলা করে। এই মাসে বান্দার আমল আল্লাহর কাছে উঠানো হয়, আর আমি চাই আমার আমল রোজা অবস্থায় উঠানো হোক।”
📚 (সুনানে নাসাঈ: ২৩৫৭ – সহিহ)

এই হাদীস থেকেই শা‘বান মাসের আমলের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে যায়।


 শা‘বান মাসে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

১️. বেশি বেশি নফল রোজা রাখা

শা‘বান মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো নফল রোজা

হযরত আয়েশা (রা.) বলেন—

“আমি রাসূল ﷺ-কে শা‘বান মাসের মতো আর কোনো মাসে এত বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।”
📚 (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

পুরো মাস না হলেও অধিকাংশ দিন রোজা রাখা সুন্নাত। এটি রমজানের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি।

তবে শা‘বানের শেষ ১–২ দিন রমজানের নিয়তে রোজা রাখা নিষেধ।


২️. বেশি বেশি ইস্তিগফার ও তওবা করা

শা‘বান মাস আত্মশুদ্ধির একটি সুবর্ণ সুযোগ।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করো।”
📚 (সূরা তাহরীম: ৮)

ইস্তিগফার—
১. গুনাহ মাফের মাধ্যম।
২. হৃদয়কে নরম করে।
৩. রিজিক ও বরকত বাড়ায়।

এই মাসে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় রেখে তওবা করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।


৩️. কুরআন তিলাওয়াত ও কুরআনের সাথে সম্পর্ক গভীর করা

রমজান হলো কুরআন নাজিলের মাস। আর শা‘বান হলো কুরআনের প্রস্তুতির মাস।

আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন—

সাহাবায়ে কেরাম শা‘বান মাসে কুরআন তিলাওয়াতে বেশি মনোযোগ দিতেন।

✔️ প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআন পড়া।
✔️ অর্থ বোঝার চেষ্টা করা।
✔️ রমজানে কুরআন খতম করা পরিকল্পনা করা।


৪️. নফল নামাজ ও রাতের ইবাদত বৃদ্ধি করা

শা‘বান মাসে নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদের গুরুত্ব অনেক বেশি।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করো—এটি তোমার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত।”
📚 (সূরা আল-ইসরা: ৭৯)

 দুই রাকাআত নফল নামাজও মূল্যবান । রাতের নীরব ইবাদত আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায়।


৫️. রমজানের পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করা

শা‘বান মাস আমাদের শেখায়—পরিকল্পনা ছাড়া ইবাদত অসম্পূর্ণ

রমজানের জন্য প্রস্তুতি—
✔️ নামাজের অভ্যাস ঠিক করা
✔️ কুরআনের রুটিন বানানো
✔️ দান-সদকার পরিকল্পনা
✔️ গুনাহ থেকে বাঁচার সংকল্প

 রাসূল ﷺ কখনো হঠাৎ রমজানে প্রবেশ করেননি—তিনি আগেই নিজেকে প্রস্তুত করতেন।


 একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

শা‘বান মাসে কিছু প্রচলিত আমল আছে যেগুলোর সহিহ দলিল নেই
তাই আবেগ নয়, সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করাই নিরাপদ পথ


 উপসংহার

শা‘বান মাস হলো রমজানের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রস্তুতির আহ্বান। এই মাসে নফল রোজা, ইস্তিগফার, কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ও রমজানের প্রস্তুতির মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারি। রাসূল ﷺ–এর সুন্নাহ অনুসরণ করে যদি আমরা শা‘বান মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগাই, তবে ইনশাআল্লাহ আমাদের রমজান হবে আরও অর্থবহ ও কবুলিয়তের মাস।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url