🛍️

Islamic Shopping

ইসলামিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সুন্দর পণ্য

View All →
Featured Islamic Prayer Mat

Premium Islamic Prayer Mat

আরামদায়ক ও সুন্দর ডিজাইনের নামাজের জায়নামাজ।

Check Price →
Popular Digital Tasbih

Digital Tasbih

দৈনন্দিন জিকির গণনার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল তাসবিহ।

Check Price →
Wooden Quran Stand

Wooden Quran Stand

কুরআন পড়ার সময় ব্যবহারের জন্য সুন্দর কাঠের স্ট্যান্ড।

Check Price →
Gift Islamic Gift

Islamic Gift Collection

পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য সুন্দর ইসলামিক উপহার।

Check Price →
Affiliate Disclosure: এই Shopping Section-এর কিছু লিংক affiliate link হতে পারে। আপনি এসব লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কিনলে আপনার অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই আমরা কমিশন পেতে পারি।

চাশতের নামাজ কত রাকাত ও কখন পড়বেন: সহিহ হাদীসের আলোকে

 চাশতের নামাজ (সালাতুদ দুহা) কত রাকাত ও কখন পড়বেন: সহিহ হাদীসের আলোকে সময়, নিয়ম ও ফজিলত

chasht namazer somoy - purbanher rode alokito masjider uthon o jaynamaz
চাশতের নামাজের সঠিক নিয়ম, নিয়ত ও ফজিলত 

ভূমিকা

সকাল নয়টা-দশটার দিকে অফিসের প্রথম কাজগুলো শেষ হয়েছে, বা বাসায় নাস্তার পর্ব শেষে একটু অবসর মিলেছে। এই সময়টা আমরা সাধারণত চা খেয়ে, ফোন দেখে বা গল্প করে কাটিয়ে দিই।

অথচ দিনের ঠিক এই সময়টার জন্য রাসূল ﷺ একটি সুন্দর আমল শিখিয়ে গেছেন: চাশতের নামাজ, যাকে হাদীসে "সালাতুদ দুহা" বলা হয়েছে। মাত্র দুই রাকাত দিয়েও এটি পড়া যায়, আর হাদীসে এর এমন একটি ফজিলত এসেছে, যা জানলে অবাক হতে হয়।

তবু অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে: চাশতের নামাজ কত রাকাত? ঠিক কখন শুরু, কখন শেষ? ইশরাক আর চাশত কি একই? এই লেখায় সহিহ হাদীসের আলোকে এসব প্রশ্নের সহজ উত্তর তুলে ধরা হলো, সঙ্গে থাকছে পড়ার নিয়ম ও ব্যস্ত জীবনে এটি নিয়মিত করার কৌশল।

১. চাশতের নামাজ কী

"দুহা" আরবি শব্দ, যার অর্থ পূর্বাহ্ন, অর্থাৎ সকালের সেই সময়, যখন সূর্য বেশ উপরে উঠে আলো ও তাপ ছড়িয়ে পড়ে। কুরআনে একটি পূর্ণ সূরার নামই "আদ-দুহা", যার প্রথম আয়াতে আল্লাহ এই সময়ের কসম খেয়েছেন। এতেই বোঝা যায় দিনের এই অংশের একটি বিশেষ মর্যাদা আছে।

এই সময়ে যে নফল নামাজ পড়া হয়, তাকে "সালাতুদ দুহা" বলে। বাংলায় আমরা একে চাশতের নামাজ বলি।

বিভিন্ন নাম

  • সালাতুদ দুহা / চাশত: পূর্বাহ্নের নামাজ, সবচেয়ে প্রচলিত নাম।
  • সালাতুল ইশরাক: সূর্য ওঠার কিছুক্ষণ পরের প্রথম সময়ে পড়া নামাজ। অনেক আলেমের মতে এটি চাশতেরই প্রথম ভাগ, আবার কেউ কেউ একে আলাদা নামাজ হিসেবে দেখেছেন।
  • সালাতুল আওয়াবীন: সহিহ মুসলিমের হাদীসে চাশতের উত্তম সময়ের নামাজকে "আওয়াবীন", অর্থাৎ আল্লাহর দিকে বারবার প্রত্যাবর্তনকারীদের নামাজ বলা হয়েছে। (মাগরিবের পরের নফলকেও কেউ কেউ আওয়াবীন বলেন, তবে সে বিষয়ে বর্ণিত হাদীস দুর্বল।)

নাম যাই হোক, মূল কথা হলো সূর্যোদয়ের পর থেকে জোহরের আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আদায় করা একটি ফজিলতপূর্ণ নফল নামাজ।

২. চাশতের নামাজের হুকুম

চাশতের নামাজ ফরজ বা ওয়াজিব নয়, এটি একটি নফল বা মুস্তাহাব নামাজ। তবে হাদীসে এর প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।

রাসূল ﷺ-এর বিশেষ উপদেশ

সহিহ বুখারী (১১৭৮) ও সহিহ মুসলিমের (৭২১) হাদীসে আবু হুরায়রা (রা.) জানিয়েছেন, তাঁর প্রিয় বন্ধু রাসূল ﷺ তাঁকে তিনটি বিষয়ের উপদেশ দিয়েছিলেন, যা তিনি আমৃত্যু ছাড়েননি: প্রতি মাসে তিনটি রোজা, চাশতের দুই রাকাত নামাজ এবং ঘুমানোর আগে বিতর পড়া।

একই ধরনের উপদেশ আবু দারদা (রা.)-কেও দেওয়া হয়েছিল বলে সহিহ মুসলিমে (৭২২) বর্ণিত আছে।

একটি সূক্ষ্ম বিষয়

সহিহ বুখারী (১১২৮) ও সহিহ মুসলিমের (৭১৮) একটি বর্ণনায় আয়েশা (রা.) বলেছেন, তিনি রাসূল ﷺ-কে নিয়মিত চাশতের নামাজ পড়তে দেখেননি, তবে তিনি নিজে পড়তেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, রাসূল ﷺ অনেক সময় প্রিয় আমলও নিয়মিত করতেন না, যাতে উম্মতের ওপর তা ফরজ হয়ে না যায়।

আলেমগণ এই বর্ণনাগুলো মিলিয়ে বলেছেন, চাশতের নামাজ একটি প্রমাণিত ও উৎসাহিত সুন্নাত আমল, যা নিয়মিত পড়া উত্তম, তবে বাধ্যতামূলক নয়।

৩. চাশতের নামাজের ফজিলত

শরীরের প্রতিটি জোড়ার সদকা

সহিহ মুসলিমের ৭২০ নম্বর হাদীসে আবু যর (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, প্রতিদিন সকালে তোমাদের শরীরের প্রতিটি জোড়ার জন্য একটি করে সদকা দেওয়া জরুরি হয়ে যায়।

তারপর তিনি এই সদকা আদায়ের নানা উপায় বলেছেন: প্রতিটি সুবহানাল্লাহ সদকা, প্রতিটি আলহামদুলিল্লাহ সদকা, প্রতিটি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সদকা, প্রতিটি আল্লাহু আকবার সদকা, ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ থেকে নিষেধ করাও সদকা। আর শেষে বলেছেন, চাশতের দুই রাকাত নামাজ এই সবকিছুর জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।

একটু ভাবুন, শরীরের অসংখ্য জোড়ার শুকরিয়া আদায়ের দায়িত্ব মাত্র দুই রাকাত নামাজেই পূর্ণ হয়ে যাওয়ার আশা!

দিনের শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট

জামে তিরমিযী (৪৭৫) ও সুনানে আবু দাউদের (১২৮৯) হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ বলেছেন, হে আদম সন্তান, দিনের শুরুতে আমার জন্য চার রাকাত নামাজ পড়ো, আমি দিনের শেষ পর্যন্ত তোমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাব। অনেক মুহাদ্দিস এই হাদীসকে সহিহ বলেছেন, আর আলেমগণ এটিকে চাশত বা ইশরাকের নামাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেছেন।

৪. চাশতের নামাজ কত রাকাত

এটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন। সহিহ হাদীসে বিভিন্ন সংখ্যার কথা এসেছে, যা এই আমলের সহজতা প্রমাণ করে।

সর্বনিম্ন দুই রাকাত

সহিহ মুসলিমের ৭২০ নম্বর হাদীস এবং সহিহ বুখারীর ১১৭৮ নম্বর হাদীসে চাশতের "দুই রাকাত" নামাজের কথা এসেছে। অর্থাৎ মাত্র দুই রাকাত দিয়েও চাশতের ফজিলত লাভের আশা করা যায়।

চার রাকাত

সহিহ মুসলিমের ৭১৯ নম্বর হাদীসে আয়েশা (রা.) জানিয়েছেন, রাসূল ﷺ চাশতের নামাজ চার রাকাত পড়তেন, এবং আল্লাহ যতটুকু চাইতেন, তার চেয়ে বেশিও পড়তেন।

আট রাকাত

সহিহ বুখারী (১১৭৬) ও সহিহ মুসলিমের (৩৩৬) হাদীসে উম্মে হানি (রা.) জানিয়েছেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূল ﷺ তাঁর ঘরে গোসল করে আট রাকাত চাশতের নামাজ পড়েছিলেন।

বারো রাকাত সম্পর্কে

বারো রাকাত পড়লে জান্নাতে প্রাসাদের যে হাদীসটি প্রচলিত (জামে তিরমিযী ৪৭৩), ইমাম তিরমিযী নিজেই এর সনদকে দুর্বল বলেছেন।

সারকথা

আলেমগণের মতে চাশতের নামাজ সর্বনিম্ন দুই রাকাত, আর বেশি পড়ার সুযোগ আছে। নিজের সময় ও সামর্থ্য অনুযায়ী দুই, চার বা আট রাকাত পড়া যায়।

৫. চাশতের নামাজের সময়সীমা: কখন শুরু, কখন শেষ

চাশতের নামাজের সময় বোঝার জন্য আগে নামাজের তিনটি নিষিদ্ধ সময় জানা জরুরি।

সহিহ মুসলিমের ৮৩১ নম্বর হাদীসে উকবা ইবনে আমের (রা.) জানিয়েছেন, তিনটি সময়ে রাসূল ﷺ নামাজ পড়তে নিষেধ করতেন: সূর্য উদয়ের সময়, যতক্ষণ না তা কিছুটা উপরে ওঠে; ঠিক দুপুরে সূর্য মাথার ওপর থাকার সময়, যতক্ষণ না তা পশ্চিমে হেলে পড়ে; এবং সূর্যাস্তের সময়।

শুরুর সময়

সূর্যোদয়ের পর সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে, অর্থাৎ সাধারণত সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর থেকে চাশতের সময় শুরু হয়।

শেষ সময়

জোহরের সময় শুরুর কিছুক্ষণ আগে, যখন সূর্য ঠিক মাথার ওপর আসে (জাওয়াল), তখন পর্যন্ত চাশতের সময় থাকে। আলেমগণ নিরাপত্তার জন্য জাওয়ালের অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

কীভাবে জানবেন

প্রতিদিনের সূর্যোদয় ও জোহরের সময় ঋতু ও এলাকাভেদে বদলায়। তাই স্থানীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নামাজের সময়সূচি বা নির্ভরযোগ্য কোনো নামাজের সময়ের অ্যাপ থেকে নিজের এলাকার সূর্যোদয় ও জোহরের সময় দেখে নিন।

৬. সবচেয়ে উত্তম সময় এবং ইশরাক ও চাশতের পার্থক্য

চাশতের পুরো সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় পড়া যায়, তবে একটি সময়কে হাদীসে বিশেষভাবে উত্তম বলা হয়েছে।

উত্তম সময়

সহিহ মুসলিমের ৭৪৮ নম্বর হাদীসে যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) জানিয়েছেন, তিনি কিছু মানুষকে খুব সকালে চাশতের নামাজ পড়তে দেখে বলেছিলেন, তারা কি জানে না যে এর চেয়ে পরের সময় উত্তম? রাসূল ﷺ বলেছেন, আওয়াবীনদের নামাজ হলো তখন, যখন উটের বাচ্চার পায়ে রোদের উত্তাপ লাগতে শুরু করে।

আলেমগণ এর ব্যাখ্যা করেছেন, অর্থাৎ যখন সূর্যের তাপ বেশ বেড়ে যায় এবং মাটি গরম হতে শুরু করে। এটি মোটামুটি দিনের প্রথম চতুর্থাংশ পার হওয়ার পরের সময়, সূর্যোদয় থেকে জোহরের মাঝামাঝির কাছাকাছি।

ইশরাক ও চাশত

  • ইশরাক: সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর, সময়ের প্রথম ভাগে পড়া নামাজ। জামে তিরমিযীর ৫৮৬ নম্বর হাদীসে ফজরের পর বসে জিকির করে সূর্যোদয়ের পর দুই রাকাত পড়ার ফজিলত এসেছে।
  • চাশত: একই সময়সীমার পরবর্তী অংশ, বিশেষ করে রোদ বাড়ার পর।

অনেক আলেমের মতে দুটি একই নামাজের দুই সময়, আবার কেউ দুটিকে আলাদা হিসেবে পড়েন। যিনি দুটোই পড়তে চান, তিনি ইশরাকের সময় দুই রাকাত এবং পরে চাশতের সময় আরও কিছু রাকাত পড়তে পারেন।

৭. চাশতের নামাজ পড়ার নিয়ম: ধাপে ধাপে

চাশতের নামাজ পড়ার জন্য বিশেষ কোনো জটিল নিয়ম নেই। এটি সাধারণ দুই রাকাত নফল নামাজের মতোই।

ধাপসমূহ

  1. নিয়ত: মনে মনে চাশতের নামাজের নিয়ত করুন। আরবি বা বাংলায় মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়।
  2. তাকবীরে তাহরীমা: "আল্লাহু আকবার" বলে হাত বাঁধুন।
  3. প্রথম রাকাত: সানা, সূরা ফাতিহা ও যেকোনো একটি সূরা পড়ে রুকু ও দুই সিজদা করুন।
  4. দ্বিতীয় রাকাত: সূরা ফাতিহা ও যেকোনো সূরা পড়ে রুকু-সিজদা শেষে বসে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরান।

চার বা আট রাকাত পড়লে

আলেমগণ দুই রাকাত করে আলাদা সালামে পড়াকে উত্তম বলেছেন। অর্থাৎ চার রাকাত হলে দুই রাকাত করে দুইবার, আট রাকাত হলে চারবার। হানাফি মাযহাবে চার রাকাত এক সালামেও পড়া যায়।

কোন সূরা পড়বেন

কোনো নির্দিষ্ট সূরা পড়া বাধ্যতামূলক নয়। যেকোনো মুখস্থ সূরা দিয়ে পড়া যায়। কেউ কেউ সূরা আশ-শামস ও সূরা আদ-দুহা পড়ার কথা বলেন, তবে এ বিষয়ে কোনো সহিহ হাদীস নেই বলে আলেমগণ উল্লেখ করেছেন।

৮. ব্যস্ত মানুষের জন্য চাশত নিয়মিত করার কৌশল

চাশতের সময়টা অনেকের জন্য কর্মব্যস্ত সময়। তবু একটু পরিকল্পনা করলে দুই রাকাত পড়া খুব কঠিন নয়, কারণ এতে মাত্র পাঁচ মিনিটের মতো লাগে।

অফিসে যারা কাজ করেন

  • সকালের টি-ব্রেককে চাশতের সময় বানিয়ে নিন। চা খাওয়ার আগে পাঁচ মিনিট নামাজ।
  • অফিসে নামাজের জায়গা থাকলে সেখানে, না থাকলে কোনো পরিষ্কার নিরিবিলি কোণে।
  • প্রতিদিন একই সময়ে ফোনে একটি রিমাইন্ডার রাখুন।

যারা বাসায় থাকেন

নাস্তার পর ঘর গোছানোর আগে বা রান্না শুরুর আগে দুই রাকাত পড়ে নিন। বাসায় থাকা মা-বোনদের জন্য এটি খুব সহজে নিয়মিত করা যায়।

শিক্ষার্থীরা

ক্লাসের ফাঁকে বা ছুটির দিনে পড়াশোনা শুরু করার আগে দুই রাকাত চাশত পড়ে নেওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।

ছুটির দিন দিয়ে শুরু

প্রথমে শুধু শুক্রবার বা ছুটির দিনগুলোতে চাশত পড়ার অভ্যাস গড়ুন। তারপর ধীরে ধীরে সপ্তাহের অন্য দিনেও যোগ করুন। মনে রাখবেন, অল্প হলেও নিয়মিত আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় (সহিহ বুখারী ৬৪৬৪)।

৯. চাশতের নামাজ নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

"বারো রাকাত না পড়লে চাশত হয় না"

এটি ঠিক নয়। সহিহ হাদীস অনুযায়ী সর্বনিম্ন দুই রাকাত দিয়েই চাশত আদায় হয়। বারো রাকাতের হাদীসটি দুর্বল।

"নির্দিষ্ট সূরা দিয়েই পড়তে হবে"

কোনো নির্দিষ্ট সূরার বাধ্যবাধকতা নেই। যেকোনো সূরা দিয়ে পড়া যায়।

"একদিন ছুটে গেলে আর পড়া যাবে না"

কোনো দিন চাশত ছুটে গেলে গুনাহ হয় না, কারণ এটি নফল। পরের দিন আবার শুরু করুন। অপরাধবোধে ভুগে আমলটি একেবারে ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

"সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই পড়া উত্তম"

বরং এটি নিষিদ্ধ সময় (সহিহ মুসলিম ৮৩১)। সূর্য কিছুটা উপরে ওঠার পর, অর্থাৎ সূর্যোদয়ের অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পড়তে হবে।

"চাশত শুধু মসজিদে পড়তে হয়"

নফল নামাজ ঘরে পড়াই বরং উত্তম বলে সহিহ হাদীসে এসেছে (সহিহ বুখারী ৭৩১)। তাই ঘরে, অফিসে বা যেকোনো পবিত্র জায়গায় চাশত পড়া যায়।

উপসংহার

চাশতের নামাজ সহজ, সংক্ষিপ্ত, অথচ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। সর্বনিম্ন দুই রাকাত, সময় সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর থেকে জোহরের কিছুক্ষণ আগ পর্যন্ত, আর উত্তম সময় রোদ ভালোভাবে বাড়ার পর। সহিহ মুসলিমের হাদীস অনুযায়ী এই দুই রাকাত শরীরের প্রতিটি জোড়ার সদকার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাওয়ার সুসংবাদ বহন করে।

আজ থেকেই শুরু করতে পারেন এভাবে:

  1. আজ নামাজের সময়ের অ্যাপে নিজের এলাকার সূর্যোদয় ও জোহরের সময় দেখে নিন, আর মাঝামাঝি একটি সময় চাশতের জন্য ঠিক করুন।
  2. সেই সময়ে ফোনে একটি দৈনিক রিমাইন্ডার দিন।
  3. আগামীকাল থেকে মাত্র দুই রাকাত দিয়ে শুরু করুন। এক মাস নিয়মিত হলে চাইলে চার রাকাতে বাড়ান।

পাঁচ মিনিটের এই ছোট বিরতিটুকু হয়তো আপনার ব্যস্ত দিনের সবচেয়ে প্রশান্তির মুহূর্ত হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নিয়মিত চাশতের নামাজ আদায়ের এবং প্রতিদিনের শুরুটা তাঁর ইবাদত দিয়ে সাজানোর তাওফিক দান করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. চাশতের নামাজ কত রাকাত?

সহিহ হাদীস অনুযায়ী চাশতের নামাজ সর্বনিম্ন দুই রাকাত (সহিহ মুসলিম ৭২০)। রাসূল ﷺ চার রাকাত (সহিহ মুসলিম ৭১৯) এবং মক্কা বিজয়ের দিন আট রাকাত (সহিহ বুখারী ১১৭৬) পড়েছেন বলেও বর্ণিত আছে। সামর্থ্য অনুযায়ী দুই, চার বা আট রাকাত পড়া যায়।

২. চাশতের নামাজের সময় কখন?

সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর থেকে শুরু করে জোহরের সময় শুরুর কিছুক্ষণ আগে, সূর্য ঠিক মাথার ওপর আসার আগ পর্যন্ত চাশতের সময়। সহিহ মুসলিমের (৭৪৮) হাদীস অনুযায়ী রোদ ভালোভাবে বাড়ার পরের সময়টি সবচেয়ে উত্তম।

৩. ইশরাক ও চাশতের নামাজ কি একই?

অনেক আলেমের মতে ইশরাক হলো চাশতেরই প্রথম সময়, অর্থাৎ সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পর পড়া নামাজ। কেউ কেউ দুটিকে আলাদা নামাজ হিসেবে দেখেন। যিনি দুটোই পড়তে চান, তিনি ইশরাকের সময় দুই রাকাত এবং পরে চাশতের সময় আরও কিছু রাকাত পড়তে পারেন।

৪. চাশতের নামাজের ফজিলত কী?

সহিহ মুসলিমের (৭২০) হাদীস অনুযায়ী প্রতিদিন শরীরের প্রতিটি জোড়ার জন্য সদকা দেওয়ার যে দায়িত্ব আসে, চাশতের দুই রাকাত নামাজ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। রাসূল ﷺ আবু হুরায়রা (রা.)-কে বিশেষভাবে এই নামাজের উপদেশ দিয়েছিলেন (সহিহ বুখারী ১১৭৮)।

৫. চাশতের নামাজে কোন সূরা পড়তে হয়?

কোনো নির্দিষ্ট সূরা পড়া বাধ্যতামূলক নয়। সূরা ফাতিহার পর যেকোনো মুখস্থ সূরা দিয়ে পড়া যায়। নির্দিষ্ট সূরার বিষয়ে প্রচলিত কথাগুলোর পক্ষে কোনো সহিহ হাদীস নেই বলে আলেমগণ উল্লেখ করেছেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url