হায়েজ অবস্থায় নামাজের বিধান দলিলসহ | কুরআন ও হাদীসের আলোকে

 

হায়েজ অবস্থায় নামাজের বিধান দলিলসহ

(কুরআন ও হাদীসের আলোকে পূর্ণ গাইড)

prayer-rules-during-menstruation-islam


ভূমিকা

ইসলামে নামাজ একটি ফরজ ইবাদত। তবে আল্লাহ তাআলা নারীদের স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থাকে বিবেচনায় রেখে কিছু ক্ষেত্রে রহমতস্বরূপ শিথিলতা প্রদান করেছেন। হায়েজ (মাসিক) অবস্থায় নামাজের বিধান এ বিষয়েরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—হায়েজ অবস্থায় কি নামাজ পড়া যাবে? পরে কি কাজা করতে হবে? এই লেখায় কুরআন ও হাদীসের দলিলসহ বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হলো।


🩸 হায়েজ কী?

হায়েজ হলো প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নির্দিষ্ট সময়ে জরায়ু থেকে নির্গত স্বাভাবিক রক্ত। এটি কোনো রোগ নয়; বরং আল্লাহর সৃষ্টি অনুযায়ী স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।


📖 কুরআনের আলোকে হায়েজের বিধান

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى
“তারা তোমার কাছে হায়েজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, এটি কষ্টকর (অবস্থা)।”
— সূরা আল-বাকারা: ২২২

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, হায়েজ অবস্থায় নারীর ওপর কিছু ইবাদতে ছাড় রয়েছে—এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে করুণা।


🤲 হায়েজ অবস্থায় নামাজের বিধান

❌ নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ

হায়েজ অবস্থায় নারীর জন্য নামাজ পড়া হারাম। এ সময় নামাজ আদায় করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

📜 দলিল (হাদীস):
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন—

“আমরা হায়েজ অবস্থায় নামাজ পড়তাম না এবং পরে তা কাজাও করতাম না।”
— সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম

এই হাদীসটি স্পষ্ট প্রমাণ যে,

  • হায়েজ অবস্থায় নামাজ পড়া যাবে না

  • পরে নামাজ কাজাও করতে হবে না


⏳ হায়েজ শেষ হলে কী ও কখন নামাজ শুরু করবেন?

✅ গোসল ফরজ

হায়েজ শেষ হলে নামাজ শুরুর আগে গোসল করা ফরজ

📜 হাদীস:

“হায়েজ শেষ হলে সে গোসল করবে, তারপর নামাজ পড়বে।”
— সহিহ বুখারি

✅ এরপর থেকে নামাজ ফরজ

গোসলের পর থেকে প্রতিটি ওয়াক্ত নামাজ যথানিয়মে আদায় করতে হবে।


❓ হায়েজ অবস্থায় নামাজ কাজা করতে হবে কি?

না, কাজা করতে হবে না।

📜 দলিল:
হযরত মু’আযা (রা.) বলেন—
আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, “হায়েজ অবস্থায় ছুটে যাওয়া নামাজ কি কাজা করতে হয়?”
তিনি বললেন,

“আমরা হায়েজে নামাজ পড়তাম না এবং কাজাও করতাম না।”
— সহিহ মুসলিম

👉 এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নারীদের জন্য বিশেষ সহজতা


📌 হায়েজ অবস্থায় রোজার ক্ষেত্রে ভিন্ন বিধান

হায়েজ অবস্থায়

  • ❌ রোজা রাখা যাবে না

  • ✅ পরে রোজা কাজা করতে হবে

📜 দলিল (হাদীস):

“আমরা হায়েজ অবস্থায় রোজা কাজা করতাম, কিন্তু নামাজ কাজা করতাম না।”
— সহিহ মুসলিম


 হায়েজ অবস্থায় কী কী আমল করা যাবে?

হায়েজ অবস্থায় নামাজ ও রোজা ছাড়া অন্যান্য অনেক নেক আমল করা যায়—

  • দোয়া করা

  • দরুদ শরিফ পড়া

  • তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির

  • ইসলামি বই পড়া

  • দোয়ার অর্থ পড়া ও মুখস্থ করা

  • দ্বীনি আলোচনা শোনা

📌 এগুলোতে কোনো নিষেধ নেই।


 আরো পড়ুন: মহিলাদের নামাজের নিয়ম দলিলসহ

কেন নামাজ মাফ করা হয়েছে? (হিকমত)

  • নারীর শারীরিক দুর্বলতা

  • কষ্ট লাঘব করা

  • আল্লাহর রহমত ও সহজতা

  • ইসলাম কঠোর নয়—সহজ দ্বীন

আল্লাহ তাআলা বলেন—

يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ
“আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান, কঠোরতা চান না।”
— সূরা আল-বাকারা: ১৮৫


❓ প্রশ্ন & উত্তর

১) হায়েজ অবস্থায় নামাজ পড়া যাবে কি?
না, হায়েজ অবস্থায় নামাজ পড়া হারাম।

২) হায়েজ শেষে নামাজ কাজা করতে হবে কি?
না, কোনো নামাজ কাজা করতে হয় না।

৩) হায়েজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে নামাজ ফরজ হয়?
হ্যাঁ, গোসলের পর থেকেই নামাজ ফরজ।

৪) হায়েজ অবস্থায় দোয়া করা যাবে?
হ্যাঁ, দোয়া ও জিকির করা যাবে।

৫) রোজার বিধান কি নামাজের মতোই?
না, রোজা পরে কাজা করতে হয়।

উপসংহার

হায়েজ অবস্থায় নামাজ মাফ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে নারীদের জন্য রহমত ও সহজতা। ইসলাম কোনো কষ্টের দ্বীন নয়; বরং মানবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থার নাম।

🤲 আল্লাহ আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url