🛍️

Islamic Shopping

ইসলামিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সুন্দর পণ্য

View All →
Featured Islamic Prayer Mat

Premium Islamic Prayer Mat

আরামদায়ক ও সুন্দর ডিজাইনের নামাজের জায়নামাজ।

Check Price →
Popular Digital Tasbih

Digital Tasbih

দৈনন্দিন জিকির গণনার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল তাসবিহ।

Check Price →
Wooden Quran Stand

Wooden Quran Stand

কুরআন পড়ার সময় ব্যবহারের জন্য সুন্দর কাঠের স্ট্যান্ড।

Check Price →
Gift Islamic Gift

Islamic Gift Collection

পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য সুন্দর ইসলামিক উপহার।

Check Price →
Affiliate Disclosure: এই Shopping Section-এর কিছু লিংক affiliate link হতে পারে। আপনি এসব লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কিনলে আপনার অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই আমরা কমিশন পেতে পারি।

সালাম দেওয়ার ফজিলত: ছোট আমল, বড় সওয়াব

 সালাম দেওয়ার ফজিলত: ছোট একটি আমল, বড় সওয়াব | কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে

salam deoar fojilot - shokaler aloy khola ghorer doroja o shanto obhyorthona

ভূমিকা

লিফটে উঠলেন, পাশে একজন অপরিচিত মানুষ। দুজনেই ফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন। কয়েক সেকেন্ড পর লিফট থামল, যে যার পথে চলে গেলেন। একটি শব্দও বিনিময় হলো না।

আমাদের চারপাশে এমন দৃশ্য এখন খুব স্বাভাবিক। অথচ ইসলাম আমাদের এমন একটি সুন্দর অভ্যাস শিখিয়েছে, যা দুজন অপরিচিত মানুষের মধ্যেও মুহূর্তে একটা উষ্ণতা তৈরি করে দেয়: সালাম।

"আসসালামু আলাইকুম" মাত্র কয়েকটি শব্দ, বলতে দুই সেকেন্ডও লাগে না। কিন্তু এর মধ্যে আছে শান্তির দোয়া, ভালোবাসার বার্তা, আর হাদীস অনুযায়ী প্রতিটি শব্দে সওয়াবের সুসংবাদ।

এই লেখায় কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে আমরা জানব, সালামের ফজিলত কী, কীভাবে সালাম দিলে সওয়াব বেশি পাওয়ার আশা করা যায়, কে কাকে আগে সালাম দেবে, আর আজকের ডিজিটাল জীবনে এই সুন্নাত কীভাবে জীবন্ত রাখা যায়।

১. সালাম কী: শুধু শুভেচ্ছা নয়, একটি দোয়া

পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ভাষায় মানুষ দেখা হলে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়। "হ্যালো", "গুড মর্নিং", "কেমন আছেন"। কিন্তু ইসলামের সালাম এর চেয়ে অনেক গভীর।

"আসসালামু আলাইকুম" অর্থ হলো, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। অর্থাৎ যখন আমরা কাউকে সালাম দিই, তখন আসলে তার জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের দোয়া করি।

"আস-সালাম" আল্লাহর একটি সুন্দর নামও। সূরা আল-হাশরের ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর মধ্যে "আস-সালাম" এসেছে, যার অর্থ শান্তিদাতা, সব ত্রুটি থেকে মুক্ত। তাই সালামের মাধ্যমে আমরা একে অপরকে আল্লাহর নামের সঙ্গেও যুক্ত করি।

সালামের পূর্ণ রূপ

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

অর্থ: আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।

উত্তরের পূর্ণ রূপ

وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

উচ্চারণ: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

অর্থ: আপনার ওপরও শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।

২. কুরআনে সালামের নির্দেশ

সালাম শুধু একটি সামাজিক রীতি নয়, এর ভিত্তি সরাসরি কুরআনে।

উত্তম উত্তর দেওয়ার নির্দেশ

সূরা আন-নিসার ৮৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যখন তোমাদের অভিবাদন জানানো হয়, তখন তার চেয়ে উত্তম অভিবাদন দাও, অথবা অন্তত সেটাই ফিরিয়ে দাও।

অর্থাৎ কেউ "আসসালামু আলাইকুম" বললে উত্তরে "ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ" বলা উত্তম। অন্তত সমপরিমাণ উত্তর দেওয়া তো জরুরি।

আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকতময় অভিবাদন

সূরা আন-নূরের ৬১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ঘরে প্রবেশ করার সময় একে অপরকে সালাম দাও। আল্লাহ এই সালামকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে একটি বরকতময় ও পবিত্র অভিবাদন হিসেবে।

অনুমতি ও সালাম

সূরা আন-নূরের ২৭ নম্বর আয়াতে নিজের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতি নিতে এবং ঘরের লোকদের সালাম দিতে বলা হয়েছে।

এমনকি জান্নাতের বর্ণনাতেও সালামের কথা এসেছে। সূরা ইউনুসের ১০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী, জান্নাতবাসীদের পারস্পরিক অভিবাদন হবে "সালাম"।

৩. সালাম: পারস্পরিক ভালোবাসার চাবি

সালামের সবচেয়ে সুন্দর ফজিলতগুলোর একটি হলো, এটি মানুষের মনে ভালোবাসা তৈরি করে।

সহিহ মুসলিমের ৫৪ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ বলেছেন, তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর পরস্পরকে ভালো না বাসা পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি তোমাদের এমন একটি জিনিস বলে দেব, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে? তারপর নিজেই বললেন, তোমাদের মধ্যে সালামের প্রচলন করো।

একটু ভাবুন, জান্নাত, ঈমান, ভালোবাসা, এই বড় বড় বিষয়ের মাঝে রাসূল ﷺ যে চাবিটি দিলেন, তা হলো সালাম।

ইসলামের উত্তম কাজ

সহিহ বুখারী (১২) ও সহিহ মুসলিমের (৩৯) হাদীসে এক ব্যক্তি জানতে চেয়েছিলেন, ইসলামের কোন কাজটি উত্তম? রাসূল ﷺ বললেন, মানুষকে খাবার খাওয়ানো, এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া।

লক্ষ করুন, "অপরিচিত"। অর্থাৎ শুধু চেনা মানুষকে নয়, রাস্তায়, অফিসে, মসজিদে, দোকানে যাকে দেখছেন, তাকেও সালাম দেওয়া। এটি সমাজে অচেনা মানুষের মধ্যেও আস্থা ও আন্তরিকতা তৈরি করে।

৪. প্রতিটি শব্দে বাড়ে সওয়াব

সালামকে "ছোট আমল, বড় সওয়াব" বলার সবচেয়ে বড় কারণ এই হাদীসটি।

সুনানে আবু দাউদ (৫১৯৫) ও জামে তিরমিযীর (২৬৮৯) হাদীসে ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি এসে রাসূল ﷺ-কে বললেন, "আসসালামু আলাইকুম"। রাসূল ﷺ উত্তর দিয়ে বললেন, দশ। আরেকজন এসে বললেন, "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ"। রাসূল ﷺ বললেন, বিশ। তৃতীয়জন বললেন, "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু"। রাসূল ﷺ বললেন, ত্রিশ।

আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে দশ, বিশ, ত্রিশ মানে নেকির সংখ্যা।

একটি সহজ হিসাব

ধরুন, দিনে আপনি পরিবার, সহকর্মী, প্রতিবেশী মিলিয়ে ২০ জনকে পূর্ণ সালাম দিলেন। হাদীসের আলোকে আশা করা যায়, দিনে ৬০০ নেকি, মাসে প্রায় ১৮,০০০। শুধু কয়েকটি শব্দ একটু পূর্ণ করে বলার মাধ্যমে।

তাই "আসসালামু আলাইকুম" বলার সময় আর দুই সেকেন্ড বাড়িয়ে "ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু" যোগ করার অভ্যাস করুন।

৫. যে আগে সালাম দেয়, তার মর্যাদা

অনেক সময় আমরা অপেক্ষা করি, অন্যজন আগে সালাম দিক। বিশেষ করে বয়সে ছোট বা পদে নিচু কাউকে দেখলে মনে হয়, সে-ই তো আগে দেবে। কিন্তু হাদীস এখানে ভিন্ন কথা বলে।

সুনানে আবু দাউদের ৫১৯৭ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ বলেছেন, মানুষের মধ্যে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী সেই ব্যক্তি, যে আগে সালাম দেয়।

মনোমালিন্য ভাঙার সালাম

সহিহ বুখারী (৬০৭৭) ও সহিহ মুসলিমের (২৫৬০) হাদীসে এসেছে, কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। দেখা হলে দুজন মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে প্রথমে সালাম দেয়।

কী সুন্দর শিক্ষা! ঝগড়ার পর "কে আগে কথা বলবে" এই অহংকারের দেয়াল ভাঙার সবচেয়ে সহজ হাতিয়ার হলো একটি সালাম। আর যে এই দেয়াল ভাঙে, তাকেই উত্তম বলা হয়েছে।

আগে সালাম দেওয়া বিনয়ের প্রকাশ। আর বিনয়ী মানুষকে আল্লাহ উঁচু করেন বলে সহিহ মুসলিমের (২৫৮৮) হাদীসে এসেছে।

৬. কে কাকে আগে সালাম দেবে

রাসূল ﷺ সালামের একটি সুন্দর শিষ্টাচারও শিখিয়ে দিয়েছেন, যাতে দ্বিধা না থাকে।

সহিহ বুখারী (৬২৩১–৬২৩৪) ও সহিহ মুসলিমের (২১৬০) হাদীসগুলোতে এসেছে:

  • বয়সে ছোট ব্যক্তি বড়কে আগে সালাম দেবে।
  • চলমান ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে সালাম দেবে।
  • বাহনে আরোহী ব্যক্তি পায়ে হাঁটা ব্যক্তিকে সালাম দেবে।
  • কমসংখ্যক মানুষ বেশিসংখ্যক মানুষকে সালাম দেবে।

এটি নিয়ম, শর্ত নয়

আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, এটি একটি উত্তম শিষ্টাচার, কিন্তু এর মানে এই নয় যে বড়রা ছোটদের আগে সালাম দিতে পারবেন না। বরং আগের অংশে দেখেছি, যে আগে সালাম দেয়, তার মর্যাদা বেশি।

শিশুদের সালাম

সহিহ বুখারী (৬২৪৭) ও সহিহ মুসলিমের (২১৬৮) হাদীসে আনাস (রা.) জানিয়েছেন, রাসূল ﷺ শিশুদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সালাম দিতেন।

ভাবুন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ ছোট্ট শিশুদের নিজে থেকে সালাম দিচ্ছেন। শিশুদের সালাম দিলে তারা সম্মানিত বোধ করে, আর দেখে দেখেই সালামের অভ্যাস শেখে।

৭. ঘরে প্রবেশের সালাম ও মুসাফাহা

ঘরে ঢোকার সময়

অফিস বা বাইরে থেকে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে আমরা অনেক সময় চুপচাপ ঢুকে যাই। অথচ সূরা আন-নূরের ৬১ নম্বর আয়াতে ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়ার নির্দেশ এসেছে।

জামে তিরমিযীর ২৬৯৮ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ আনাস (রা.)-কে বলেছিলেন, যখন তুমি তোমার পরিবারের কাছে প্রবেশ করবে, সালাম দেবে, এটি তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য বরকতের কারণ হবে। ইমাম তিরমিযী এর সনদকে হাসান গরিব বলেছেন।

ঘরে কেউ না থাকলেও আলেমগণ সালাম দেওয়ার কথা বলেছেন। তখন বলা যায়, "আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন" (আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)।

মুসাফাহা বা করমর্দন

সুনানে আবু দাউদ (৫২১২) ও জামে তিরমিযীর (২৭২৭) হাদীসে এসেছে, দুজন মুসলিম যখন সাক্ষাতে মুসাফাহা করে, আলাদা হওয়ার আগেই তাদের গুনাহ ক্ষমা করা হয় বলে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

তাই পুরুষেরা পুরুষদের সঙ্গে এবং নারীরা নারীদের সঙ্গে সালামের পর মুসাফাহা করতে পারেন।

৮. ডিজিটাল যুগে সালামের সুন্নাত

আজকের দিনে আমাদের অনেক যোগাযোগ হয় মেসেজ, কল ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। এখানেও সালামের সুন্নাত জীবন্ত রাখা যায়।

সংক্ষেপ নয়, পূর্ণ সালাম

মেসেজে অনেকে "Aslm", "AA", "SA" বা "আসসা" লিখে সালাম দেন। আলেমগণ বলেছেন, সালাম একটি দোয়া, তাই এর পূর্ণ শব্দ লেখা উত্তম। "আসসালামু আলাইকুম" টাইপ করতে কয়েক সেকেন্ড বেশি লাগে, কিন্তু হাদীসের আলোকে প্রতিটি শব্দ সওয়াবের অংশ।

কিবোর্ডে একটি শর্টকাট সেট করে রাখতে পারেন, যেমন "slm" লিখলেই পূর্ণ সালাম চলে আসবে।

ফোন কলে

ফোন ধরে "হ্যালো" না বলে "আসসালামু আলাইকুম" দিয়ে শুরু করার অভ্যাস করুন। এতে কথোপকথনের শুরুটাই দোয়া দিয়ে হয়।

ইমেইল ও অফিসের মেসেজে

মুসলিম সহকর্মীদের সঙ্গে ইমেইল বা অফিস চ্যাটে সালাম দিয়ে শুরু করা যায়। এটি পেশাদারিত্ব নষ্ট করে না, বরং আন্তরিকতা বাড়ায়।

উত্তর দিতে ভুলবেন না

গ্রুপ চ্যাটে কেউ সালাম দিলে অন্তত একজনের উত্তর দেওয়া জরুরি। মেসেজে কেউ সালাম দিলে উত্তরও লিখে দিন।

৯. সালামের কিছু আদব ও সাধারণ ভুল

সালামের উত্তর দেওয়া জরুরি

সহিহ মুসলিমের ২১৬২ নম্বর হাদীসে একজন মুসলিমের ওপর আরেকজন মুসলিমের যে ছয়টি হক বর্ণিত হয়েছে, তার প্রথমটি হলো দেখা হলে সালাম দেওয়া। আলেমগণের মতে সালাম দেওয়া সুন্নাত, কিন্তু উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। একদল মানুষকে সালাম দিলে তাদের একজন উত্তর দিলেই যথেষ্ট।

শুনিয়ে সালাম দেওয়া

সালাম এমন স্বরে দিন, যাতে অপর ব্যক্তি শুনতে পায়। শুধু মাথা নাড়ানো বা হাত তোলাকে আলেমগণ যথেষ্ট মনে করেননি, যদি না দূরত্বের কারণে কথা শোনা সম্ভব না হয়। সেক্ষেত্রে মুখে বলার সঙ্গে ইশারা করা যায়।

যেসব অবস্থায় সালাম না দেওয়া উত্তম

  • কেউ টয়লেটে থাকলে। সহিহ মুসলিমের ৩৭০ নম্বর হাদীসে এমন অবস্থায় রাসূল ﷺ সালামের উত্তর দেননি।
  • কেউ নামাজ বা কুরআন তিলাওয়াতে মগ্ন থাকলে।
  • জুমার খুতবা চলাকালীন।

অমুসলিম প্রতিবেশী ও সহকর্মী

অমুসলিমদের সঙ্গে সালাম বিনিময়ের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে কিছু বিস্তারিত আলোচনা আছে। তবে সবাই একমত যে, তাদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক ও সম্মানজনক আচরণ করা এবং প্রচলিত ভদ্র শুভেচ্ছা বিনিময় করা ইসলামের শিক্ষা। সূরা আল-মুমতাহিনার ৮ নম্বর আয়াতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকারী অমুসলিমদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে বলা হয়েছে।

উপসংহার

সালাম হয়তো ইসলামের সবচেয়ে সহজ আমলগুলোর একটি, কিন্তু এর ফজিলত বিশাল। এটি একটি দোয়া, ভালোবাসা তৈরির চাবি, মনোমালিন্য ভাঙার হাতিয়ার, আর হাদীস অনুযায়ী প্রতিটি পূর্ণ সালামে ত্রিশ নেকির সুসংবাদ।

একটি সমাজে যখন সবাই একে অপরকে সালাম দেয়, তখন সেখানে অচেনা মানুষের মধ্যেও একটা আস্থা আর উষ্ণতা তৈরি হয়। রাসূল ﷺ ঠিক এমন একটি সমাজই গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

আজ থেকেই শুরু করতে পারেন এভাবে:

  1. আজ ঘরে ঢোকার সময় জোরে, পূর্ণ সালাম দিন: "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু"।
  2. ফোনের কিবোর্ডে একটি শর্টকাট সেট করুন, যাতে মেসেজে সবসময় পূর্ণ সালাম লেখা যায়।
  3. কাল অফিস, মসজিদ বা দোকানে অন্তত একজন অপরিচিত মানুষকে আগে সালাম দিন।

আর যার সঙ্গে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তাকে আজ একটি সালাম পাঠান। আশা করা যায়, ছোট্ট এই শব্দটিই হয়তো বড় একটি দেয়াল ভেঙে দেবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সালামের প্রসার ঘটানোর এবং পারস্পরিক ভালোবাসায় বাঁচার তাওফিক দান করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. সালাম দেওয়ার ফজিলত কী?

সহিহ মুসলিমের (৫৪) হাদীস অনুযায়ী সালামের প্রচলন পারস্পরিক ভালোবাসা তৈরি করে। সুনানে আবু দাউদের (৫১৯৭) হাদীসে আগে সালাম দানকারীকে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী বলা হয়েছে। আর পূর্ণ সালামে ত্রিশ নেকির সুসংবাদ এসেছে (তিরমিযী ২৬৮৯)।

২. পূর্ণ সালাম কীভাবে দিতে হয়?

পূর্ণ সালাম হলো "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু"। এর উত্তর হলো "ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু"। সূরা আন-নিসার (৮৬) আয়াত অনুযায়ী উত্তর অন্তত সমপরিমাণ বা আরও উত্তম হওয়া উচিত।

৩. কে কাকে আগে সালাম দেবে?

সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমের হাদীস অনুযায়ী ছোট বড়কে, চলমান ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে, আরোহী পথচারীকে এবং কমসংখ্যক বেশিসংখ্যককে আগে সালাম দেবে। তবে যে-ই আগে সালাম দিক, তার মর্যাদা বেশি।

৪. সালামের উত্তর দেওয়া কি ওয়াজিব?

আলেমগণের মতে সালাম দেওয়া সুন্নাত, আর উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। একদল মানুষকে সালাম দিলে তাদের মধ্য থেকে অন্তত একজন উত্তর দিলেই যথেষ্ট।

৫. মেসেজে "Aslm" বা সংক্ষেপে সালাম লেখা কি ঠিক?

সালাম একটি দোয়া, আর হাদীস অনুযায়ী এর প্রতিটি শব্দে সওয়াব বাড়ে। তাই আলেমগণ মেসেজেও সংক্ষেপের বদলে পূর্ণ সালাম লেখাকে উত্তম বলেছেন। কিবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে এটি সহজ করা যায়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url