🛍️

Islamic Shopping

ইসলামিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সুন্দর পণ্য

View All →
Featured Islamic Prayer Mat

Premium Islamic Prayer Mat

আরামদায়ক ও সুন্দর ডিজাইনের নামাজের জায়নামাজ।

Check Price →
Popular Digital Tasbih

Digital Tasbih

দৈনন্দিন জিকির গণনার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল তাসবিহ।

Check Price →
Wooden Quran Stand

Wooden Quran Stand

কুরআন পড়ার সময় ব্যবহারের জন্য সুন্দর কাঠের স্ট্যান্ড।

Check Price →
Gift Islamic Gift

Islamic Gift Collection

পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য সুন্দর ইসলামিক উপহার।

Check Price →
Affiliate Disclosure: এই Shopping Section-এর কিছু লিংক affiliate link হতে পারে। আপনি এসব লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কিনলে আপনার অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই আমরা কমিশন পেতে পারি।

ক্ষমা করার বরকত: কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে

 ক্ষমা করার বরকত: কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে ক্ষমাশীলতার ফজিলত


khoma korar borkot - sondhar alote duti chayer cup o khola janala, shanti o mimangsar protik

ভূমিকা

কেউ যখন আমাদের কষ্ট দেয়, তখন মনের ভেতর একটা ভার জমে যায়। কথাটা বারবার মনে পড়ে, রাতে ঘুমানোর আগেও সেই দৃশ্য চোখে ভাসে। অনেক সময় যে কষ্ট দিয়েছে, সে হয়তো ভুলেই গেছে, কিন্তু আমরা বছরের পর বছর সেই ভার বয়ে বেড়াই।

ইসলাম এখানে একটি ভিন্ন পথ দেখায়। প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেওয়াকে কুরআন ও হাদীসে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ কাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ক্ষমা করা মানে দুর্বলতা নয়, আবার অন্যায় মেনে নেওয়াও নয়। এই লেখায় আমরা কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে দেখব, ক্ষমার মধ্যে কী কী বরকত লুকিয়ে আছে, এর সীমা কোথায়, আর কঠিন মুহূর্তে কীভাবে ক্ষমা করার শক্তি অর্জন করা যায়।

১. ইসলামে ক্ষমার অর্থ ও মর্যাদা

কুরআনে ক্ষমা বোঝাতে কয়েকটি শব্দ এসেছে। "আফউ" মানে ভুলটা মাফ করে দেওয়া, আর "সাফহ" মানে বিষয়টা মন থেকে সরিয়ে পাতা উল্টে দেওয়া। অর্থাৎ ইসলামে ক্ষমা শুধু মুখে "মাফ করলাম" বলা নয়, বরং ধীরে ধীরে মনের ক্ষোভ থেকেও মুক্ত হওয়ার চেষ্টা।

সূরা আল-আ'রাফের ১৯৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-কে ক্ষমার পথ অবলম্বন করতে, ভালো কাজের আদেশ দিতে এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলতে বলেছেন। আলেমগণ এই আয়াতকে উত্তম চরিত্রের একটি সারসংক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আর সূরা আশ-শূরার ৪৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে ধৈর্য ধরে এবং ক্ষমা করে দেয়, নিশ্চয়ই সেটা দৃঢ় সংকল্পের কাজ।

এই আয়াত থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝা যায়। ক্ষমা করা সহজ কাজ নয়, এটি শক্ত মনের মানুষের কাজ। যে রাগের মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিতে পারে, সে আসলে অনেক বড় একটি অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে জয়ী হয়।

২. ক্ষমা করলে সম্মান কমে না, বাড়ে

অনেকের মনে একটা ভয় কাজ করে: ক্ষমা করলে মানুষ আমাকে দুর্বল ভাববে, আমার সম্মান কমে যাবে। নবীজি (সা.) এই ধারণার সরাসরি উত্তর দিয়েছেন।

সহিহ মুসলিমের ২৫৮৮ নম্বর হাদীসে তিনি তিনটি বিষয় উল্লেখ করেছেন। সদকা করলে সম্পদ কমে না। যে বান্দা ক্ষমা করে, আল্লাহ তার সম্মান শুধু বাড়িয়েই দেন। আর যে আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উঁচু করেন।

এই হাদীসের মাঝের অংশটা বিশেষভাবে লক্ষ করার মতো। দুনিয়ার হিসাবে আমরা মনে করি প্রতিশোধ নিলে সম্মান রক্ষা হয়। কিন্তু আল্লাহর হিসাবে ক্ষমাই সম্মান বাড়ানোর পথ।

বাস্তব জীবনেও দেখা যায়, পরিবারে বা সমাজে যে মানুষ উদার মনে ক্ষমা করতে পারেন, তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও আস্থা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। আর এই সম্মানের সবচেয়ে বড় অংশটা আশা করা যায় আখিরাতে আল্লাহর কাছে জমা থাকবে।

৩. ক্ষমা করলে আল্লাহর ক্ষমার আশা

কুরআনের একটি আয়াত ক্ষমার বিষয়ে খুবই হৃদয়স্পর্শী। সূরা আন-নূরের ২২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের ক্ষমা করতে ও উপেক্ষা করতে বলেছেন, তারপর প্রশ্ন রেখেছেন: তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন?

এই আয়াতের প্রেক্ষাপট জানলে বিষয়টা আরও গভীরভাবে বোঝা যায়। আবু বকর (রা.) একজন আত্মীয়কে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য করতেন। সেই আত্মীয় তাঁর কন্যা আয়েশা (রা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কষ্ট পেয়ে আবু বকর (রা.) সাহায্য বন্ধ করার কথা বললেন। তখন এই আয়াত নাজিল হয়, আর তিনি আবার সাহায্য চালু করেন।

ভেবে দেখুন, কতটা গভীর কষ্টের পরও ক্ষমার দিকে ফিরে আসা হয়েছিল। আমরা সবাই আল্লাহর ক্ষমার মুখাপেক্ষী। তাই অন্যকে ক্ষমা করার সময় নিজের ভুলগুলোর কথা মনে রাখা, আর আল্লাহর ক্ষমার আশা রাখা, এই দুটো মিলে মনকে নরম করে দেয়।

৪. রাগ সামলানো: ক্ষমার প্রথম ধাপ

ক্ষমা করার আগে আসে রাগ নিয়ন্ত্রণের পরীক্ষা। রাগের মুহূর্তে বলা একটি কথা বা নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত অনেক সময় সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়।

সূরা আলে ইমরানের ১৩৩ ও ১৩৪ নম্বর আয়াতে মুত্তাকিদের কিছু বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে, যাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে, যারা রাগ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে। আর আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।

সহিহ বুখারী (৬১১৪) ও সহিহ মুসলিমের (২৬০৯) হাদীসে নবীজি (সা.) জানিয়েছেন, প্রকৃত শক্তিশালী সে নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়, বরং সে যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

রাগের মুহূর্তে যা করা যায়

  • "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়া, যা সহিহ বুখারীর ৬১১৫ নম্বর হাদীসে রাগ প্রশমনের উপায় হিসেবে এসেছে।
  • কিছুক্ষণ চুপ থাকা এবং সেই জায়গা থেকে সাময়িকভাবে সরে যাওয়া।
  • সঙ্গে সঙ্গে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া বা মেসেজ না পাঠানো।

৫. মন্দের জবাব ভালো দিয়ে: সম্পর্ক বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা

ক্ষমার একটি বড় বরকত হলো, এটা অনেক সময় শত্রুতাকে বন্ধুত্বে বদলে দিতে পারে। সূরা ফুসসিলাতের ৩৪ ও ৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মন্দকে উত্তম আচরণ দিয়ে প্রতিহত করতে বলেছেন। এর ফলে যার সঙ্গে শত্রুতা ছিল, সে হয়ে যেতে পারে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মতো। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এই গুণ শুধু ধৈর্যশীলরাই অর্জন করতে পারে।

সূরা আশ-শূরার ৪০ নম্বর আয়াতেও একটি সুন্দর ভারসাম্য দেখা যায়। মন্দের প্রতিদান সমপরিমাণ মন্দ হতে পারে, এটা ন্যায়ের অধিকার। কিন্তু যে ক্ষমা করে এবং সম্পর্ক ঠিক করে নেয়, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে।

একটা বাস্তব উদাহরণ ভাবুন। প্রতিবেশীর সঙ্গে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আপনি যদি পাল্টা কটু কথা না বলে বরং পরের দিন সালাম দেন বা একটু খাবার পাঠান, অনেক ক্ষেত্রে সেই দেয়ালটা ধীরে ধীরে ভেঙে যায়। সব সময় হয়তো তা হবে না, তবে চেষ্টার সওয়াব আশা করা যায় নষ্ট হয় না।

৬. নবীজি (সা.)-এর জীবনে ক্ষমার দৃষ্টান্ত

ক্ষমার সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ পাওয়া যায় নবীজি (সা.)-এর জীবনে।

তায়েফের ঘটনা

তায়েফে দাওয়াত দিতে গিয়ে তিনি চরম অপমান ও আঘাতের শিকার হয়েছিলেন। সহিহ বুখারী (৩২৩১) ও সহিহ মুসলিমের (১৭৯৫) বর্ণনায় এসেছে, তখন পাহাড়ের ফেরেশতা এসে অনুমতি চেয়েছিলেন সেই জনপদকে ধ্বংস করার। কিন্তু নবীজি (সা.) তা না চেয়ে আশা প্রকাশ করেছিলেন, হয়তো তাদের বংশধরদের মধ্যে এমন মানুষ আসবে, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে।

মক্কা বিজয়ের দিন

সীরাতের গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত আছে, যে মক্কাবাসী বছরের পর বছর তাঁকে ও সাহাবিদের কষ্ট দিয়েছিল, বিজয়ের দিন তিনি তাদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন।

এই ঘটনাগুলো আমাদের শেখায়, ক্ষমতা থাকা অবস্থায় ক্ষমা করাই ক্ষমার সবচেয়ে উঁচু স্তর। কুরআনে ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনাতেও এমনটা দেখা যায়। সূরা ইউসুফের ৯২ নম্বর আয়াতে তিনি তাঁর ভাইদের বলেছিলেন, আজ তোমাদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই।

৭. সম্পর্ক ছিন্ন না রাখার শিক্ষা

অনেক সময় ঝগড়ার পর দুই পক্ষই কথা বলা বন্ধ করে দেয়, আর মাসের পর মাস, এমনকি বছরও কেটে যায়। ইসলাম এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।

সহিহ বুখারী (৬০৭৭) ও সহিহ মুসলিমের (২৫৬০) হাদীসে এসেছে, কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। আর তাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে প্রথমে সালাম দেয়।

সহিহ মুসলিমের ২৫৬৫ নম্বর হাদীসেও এসেছে, সোম ও বৃহস্পতিবার বান্দাদের আমল পেশ করা হয় এবং অনেককে ক্ষমা করা হয়। তবে যে দুই ব্যক্তির মধ্যে বিদ্বেষ রয়েছে, তাদের বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়, যতক্ষণ না তারা মিটমাট করে।

এই হাদীসগুলো আমাদের উৎসাহিত করে প্রথম পদক্ষেপটা নিজেই নিতে। "সে আগে আসুক" এই অপেক্ষায় না থেকে নিজে একটা সালাম, একটা ফোন বা একটা ছোট মেসেজ পাঠানো হতে পারে অনেক বড় বরকতের শুরু।

৮. ক্ষমার সীমা: অন্যায় মেনে নেওয়া নয়

ক্ষমা নিয়ে কথা বলতে গেলে একটি ভারসাম্যের বিষয় পরিষ্কার থাকা জরুরি। ক্ষমা করা উত্তম, কিন্তু এর মানে এই নয় যে সব অবস্থায় জুলুম চুপচাপ সহ্য করে যেতে হবে।

সূরা আশ-শূরার ৪১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে জুলুমের শিকার হওয়ার পর প্রতিকার চায়, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। অর্থাৎ ন্যায়বিচার চাওয়া একটি বৈধ অধিকার।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • নিরাপত্তা আগে: কেউ যদি শারীরিক বা মানসিকভাবে বারবার ক্ষতি করে, তাহলে মন থেকে ক্ষমা করেও নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য দূরত্ব রাখা, পরিবারের মুরুব্বি বা প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নেওয়া যায়।
  • অধিকার ছেড়ে দেওয়া ঐচ্ছিক: পাওনা টাকা বা অন্য কোনো হক মাফ করে দেওয়া ফজিলতপূর্ণ, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়।
  • অন্যের হক মাফ করা যায় না: কেউ অন্য কারও ক্ষতি করলে, সেই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে আমরা ক্ষমা ঘোষণা করতে পারি না।

ক্ষমা হলো মনের ক্ষোভ থেকে মুক্তি এবং প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা ছেড়ে দেওয়া, অন্যায়ের পথ খুলে দেওয়া নয়।

উপসংহার

ক্ষমা করা কঠিন, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে দেখা যায়, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে অনেক বরকত: আল্লাহর কাছে সম্মান বৃদ্ধির সুসংবাদ, তাঁর ক্ষমা পাওয়ার আশা, ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগার সম্ভাবনা এবং নিজের মনের ভার হালকা হওয়া।

আজ থেকে শুরু করতে চাইলে তিনটি ছোট কাজ করতে পারেন:

  1. এমন একজন মানুষের কথা ভাবুন, যার প্রতি মনে এখনো ক্ষোভ আছে, এবং আজ তার জন্য একবার আন্তরিকভাবে দোয়া করুন।
  2. দীর্ঘদিন কথা বন্ধ আছে এমন কোনো আত্মীয় বা বন্ধুকে একটি সালাম বা ছোট মেসেজ পাঠান।
  3. পরের বার রাগ উঠলে কিছু বলার আগে চুপ থেকে আউযুবিল্লাহ পড়ুন।

ক্ষমা একদিনে পুরোপুরি আসে না; কখনো মন থেকে মুছতে সময় লাগে, এটা স্বাভাবিক। চেষ্টাটা চালিয়ে যাওয়াই আসল। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ক্ষমাশীল হৃদয় দান করুন এবং নিজের অসীম ক্ষমা দিয়ে আমাদের ঢেকে নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ক্ষমা করার ফজিলত কী?

সহিহ মুসলিমের ২৫৮৮ নম্বর হাদীসে এসেছে, যে বান্দা ক্ষমা করে, আল্লাহ তার সম্মান বাড়িয়ে দেন। সূরা আন-নূরের ২২ নম্বর আয়াতেও ক্ষমা করার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমা লাভের আশার কথা এসেছে।

২. ক্ষমা করা কি দুর্বলতার লক্ষণ?

না। সূরা আশ-শূরার ৪৩ নম্বর আয়াতে ধৈর্য ধরে ক্ষমা করাকে দৃঢ় সংকল্পের কাজ বলা হয়েছে। সহিহ বুখারীর ৬১১৪ নম্বর হাদীসেও রাগ নিয়ন্ত্রণকারীকে প্রকৃত শক্তিশালী বলা হয়েছে।

৩. ক্ষমা করলে কি সেই মানুষের সঙ্গে আগের মতো সম্পর্ক রাখতেই হবে?

সবসময় নয়। মন থেকে ক্ষোভ ছেড়ে দেওয়া আর নিজের নিরাপত্তা রক্ষা করা দুটো আলাদা বিষয়। কেউ বারবার ক্ষতি করলে ক্ষমা করেও প্রয়োজনীয় দূরত্ব রাখা যায়, তবে সালাম ও সাধারণ সৌজন্য বজায় রাখা উৎসাহিত করা হয়েছে।

৪. কারও সঙ্গে কতদিন কথা বন্ধ রাখা যায়?

সহিহ বুখারী (৬০৭৭) ও সহিহ মুসলিমের (২৫৬০) হাদীস অনুযায়ী, কোনো মুসলিমের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়, এবং যে প্রথমে সালাম দেয় সে উত্তম। তবে কারও ক্ষতি থেকে বাঁচার মতো বিশেষ কারণ থাকলে আলেমগণ ভিন্ন বিধান বলেছেন।

৫. মন থেকে ক্ষমা করতে না পারলে কী করব?

প্রথমে মুখে ক্ষমা করার নিয়ত করুন এবং সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া করুন। আল্লাহর কাছে ক্ষমাশীল হৃদয় চান, আর নিজের ভুলগুলোর কথা মনে রাখুন। ধীরে ধীরে মনের ক্ষোভ কমে আসে বলে আশা করা যায়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url