প্রতিদিন সকালে পড়ার ৩টি ফজিলতপূর্ণ দোয়া
প্রতিদিন সকালে পড়ার ৩টি ফজিলতপূর্ণ দোয়া: সহিহ হাদীসের আলোকে আরবি, উচ্চারণ ও অর্থসহ
ভূমিকা
সকালে চোখ খুলেই আমাদের হাত চলে যায় ফোনের দিকে। নোটিফিকেশন, খবর, অফিসের মেসেজ, কিছু বুঝে ওঠার আগেই দিনটা দৌড়াতে শুরু করে। আর দিনের শেষে মনে হয়, কোথায় যেন একটা শান্তির অভাব ছিল।
রাসূল ﷺ-এর সকাল শুরু হতো অন্যভাবে। ফজরের পর তিনি কিছু নির্দিষ্ট দোয়া ও জিকির পড়তেন, আর সাহাবিদেরও শিখিয়েছেন। এগুলোর অনেকগুলোই খুব ছোট, এক-দুই মিনিটের বেশি লাগে না।
সকালের অনেক মাসনুন দোয়ার মধ্যে এই লেখায় এমন তিনটি দোয়া বেছে নেওয়া হয়েছে, যেগুলো সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, পড়তে সহজ এবং যেগুলোর ফজিলত হাদীসে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটি দোয়া আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও হাদীসের সূত্রসহ দেওয়া হলো।
১. সকালের জিকিরের গুরুত্ব
কুরআনে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর স্মরণের কথা বারবার এসেছে। সূরা আল-আহযাবের ৪১ ও ৪২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বলেছেন, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো। সূরা ক্বাফের ৩৯ নম্বর আয়াতেও সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠের নির্দেশ এসেছে।
কেন সকাল এত গুরুত্বপূর্ণ? একটু ভাবলেই বোঝা যায়। সকাল হলো দিনের শুরু, আর শুরুটা যেভাবে হয়, বাকি দিনের মেজাজও অনেক সময় সেভাবেই গড়ে ওঠে। যে দিন আল্লাহর নাম নিয়ে, তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে আর তাঁর সুরক্ষা চেয়ে শুরু হয়, সেই দিনে মন অনেক বেশি স্থির থাকে বলে অনেকেই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন।
সকালের জিকির একধরনের আত্মিক প্রস্তুতি। ঠিক যেমন বাইরে যাওয়ার আগে আমরা পোশাক ঠিক করি, তেমনি দিনের কাজে নামার আগে মন ও আত্মাকে গুছিয়ে নেওয়া। এ কারণেই আলেমগণ সকাল-সন্ধ্যার জিকিরকে একজন মুমিনের "দৈনিক দুর্গ" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
২. সকালের দোয়া পড়ার সঠিক সময়
সকালের দোয়াগুলো ঠিক কখন পড়তে হবে, এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।
আলেমগণের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, সকালের জিকিরের সবচেয়ে উত্তম সময় হলো ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। সহিহ মুসলিমের ৬৭০ নম্বর হাদীসে এসেছে, রাসূল ﷺ ফজরের নামাজের পর নিজের জায়গায় বসে থাকতেন, যতক্ষণ না সূর্য ভালোভাবে উঠে যেত।
তবে এই সময় পার হয়ে গেলেও দোয়াগুলো পড়া যায়। অনেক আলেম বলেছেন, দুপুরের আগ পর্যন্ত, অর্থাৎ চাশতের সময়েও সকালের জিকির পড়লে তা সকালের জিকির হিসেবেই গণ্য হওয়ার আশা করা যায়।
যারা ফজরের পর আবার ঘুমান
অনেকে ফজর পড়ে আবার কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেন। তারা ঘুমানোর আগে, অথবা ঘুম থেকে উঠে অফিস বা ক্লাসে যাওয়ার আগে পড়ে নিতে পারেন।
যাদের কাজ ভোরে শুরু
যারা খুব ভোরে কাজে বের হন, তারা রাস্তায়, বাসে বা গাড়িতে বসেও মুখস্থ দোয়াগুলো পড়তে পারেন। জিকিরের জন্য অজু শর্ত নয়, যদিও অজু অবস্থায় পড়া উত্তম।
৩. প্রথম দোয়া: সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার
"সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার" মানে ক্ষমা প্রার্থনার সর্দার বা শ্রেষ্ঠ দোয়া। এই নাম রাসূল ﷺ নিজেই দিয়েছেন।
سَيِّدُ الاِسْتِغْفَارِ:
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বী, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাকতানী ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাতা‘তু, আঊযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু, আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ লাকা বিযাম্বী, ফাগফিরলী, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আর আমি আপনার বান্দা। আমি সাধ্যমতো আপনার সঙ্গে করা অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর আছি। আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আমার ওপর আপনার নিয়ামতের কথা স্বীকার করছি, আর আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। আমাকে ক্ষমা করুন, কারণ আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
ফজিলত
সহিহ বুখারীর ৬৩০৬ নম্বর হাদীসে শাদ্দাদ ইবনে আওস (রা.) বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে দিনে এই দোয়া পড়ে এবং সন্ধ্যার আগেই মারা যায়, সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে রাতে পড়ে সকালের আগে মারা গেলেও একই সুসংবাদ।
৪. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারের অর্থ নিয়ে একটু ভাবনা
শুধু মুখস্থ পড়া নয়, এই দোয়ার অর্থের দিকে তাকালে বোঝা যায়, কেন একে ইস্তিগফারের "সর্দার" বলা হয়েছে। এতে একজন বান্দার পুরো আত্মিক অবস্থান যেন কয়েকটি বাক্যে ধরা পড়েছে।
আল্লাহর পরিচয় দিয়ে শুরু
"আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই", দোয়া শুরু হয় তাওহিদের স্বীকৃতি দিয়ে। চাওয়ার আগে জানিয়ে দেওয়া হয়, কার কাছে চাইছি।
নিজের পরিচয় স্বীকার
"আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা", এখানে কোনো অহংকার নেই, আছে বিনয়।
সাধ্যের সীমা স্বীকার
"সাধ্যমতো আপনার অঙ্গীকারের ওপর আছি", কী সুন্দর সততা! আমরা দাবি করছি না যে সব পারি, বরং বলছি, যতটুকু পারি চেষ্টা করছি।
নিয়ামত ও ভুল দুটোই স্বীকার
সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া অংশ হলো শেষটা। আমরা একসঙ্গে দুটি জিনিস স্বীকার করি: আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামত, আর আমাদের নিজের গুনাহ। কৃতজ্ঞতা আর অনুশোচনা পাশাপাশি।
আলেমগণ বলেছেন, এই অর্থগুলো মনে রেখে পড়লে দোয়াটি আরও প্রাণবন্ত হয়, আর হাদীসে উল্লিখিত "দৃঢ় বিশ্বাসের" শর্তটিও পূরণের আশা থাকে।
৫. দ্বিতীয় দোয়া: আল্লাহর নামে সুরক্ষা চাওয়া
দ্বিতীয় দোয়াটি খুব ছোট, কিন্তু এর মাধ্যমে দিনের শুরুতেই আল্লাহর নামে নিজেকে সঁপে দেওয়া হয়।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মাআসমিহী শাইউন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস সামায়ি, ওয়া হুয়াস সামীউল আলীম।
অর্থ: সেই আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামের সঙ্গে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
কতবার ও ফজিলত
সকালে তিনবার এবং সন্ধ্যায় তিনবার। সুনানে আবু দাউদ (৫০৮৮) ও জামে তিরমিযীর (৩৩৮৮) হাদীসে উসমান ইবনে আফফান (রা.) বর্ণনা করেছেন, যে সকালে তিনবার এই দোয়া পড়ে, সন্ধ্যা পর্যন্ত হঠাৎ কোনো বিপদ তাকে আক্রান্ত করবে না; আর সন্ধ্যায় তিনবার পড়লে সকাল পর্যন্ত একই কথা। ইমাম তিরমিযী একে হাসান সহিহ বলেছেন।
একটি জরুরি বোঝাপড়া
এই দোয়াটি আল্লাহর ওপর ভরসার প্রকাশ, কোনো জাদুকরী সুরক্ষা-কবচ নয়। দোয়া পড়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক সতর্কতা, যেমন রাস্তায় সাবধানে চলা বা অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়া, এগুলোও ইসলামেরই শিক্ষা। দোয়া ও চেষ্টা, দুটি মিলেই একজন মুমিনের পূর্ণ তাওয়াক্কুল।
৬. তৃতীয় দোয়া: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি
তৃতীয়টি একটি ছোট্ট তাসবীহ, যা যেকোনো অবস্থায়, যেকোনো জায়গায় পড়া যায়।
سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী।
অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই।
কতবার ও ফজিলত
সকালে ১০০ বার এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার।
সহিহ মুসলিমের ২৬৯২ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, যে সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার এই তাসবীহ পড়ে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে কেউ আসবে না, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে একই পরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি পড়েছে।
সহিহ বুখারীর ৬৪০৫ নম্বর হাদীসে আরও এসেছে, দিনে ১০০ বার এটি পড়লে গুনাহ সমুদ্রের ফেনার মতো হলেও ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, এখানে মূলত ছোট গুনাহের কথা বলা হয়েছে।
সময় কতটুকু লাগে?
শুনতে ১০০ বার অনেক মনে হতে পারে, কিন্তু ধীরে ধীরে পড়লেও দুই মিনিটের মতো লাগে। ঘর গোছানোর সময়, রান্নার সময়, হেঁটে কাজে যাওয়ার সময়ও আঙুলে গুনে পড়া যায়।
৭. আরও কিছু সকালের মাসনুন আমল
উপরের তিনটি দোয়া দিয়ে শুরু করার পর যারা আরও বাড়াতে চান, তাদের জন্য সহিহ হাদীসে বর্ণিত আরও কিছু সকালের আমল:
আয়াতুল কুরসি
সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত। সকালে একবার পড়ার কথা হাদীসে এসেছে, যার সনদকে অনেক মুহাদ্দিস সহিহ বলেছেন।
তিন কুল তিনবার করে
সুনানে আবু দাউদের ৫০৮২ নম্বর হাদীসে সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস তিনবার করে পড়লে তা সবকিছু থেকে যথেষ্ট হওয়ার কথা এসেছে।
"আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা"
সুনানে আবু দাউদ (৫০৬৮) ও জামে তিরমিযীর (৩৩৯১) হাদীসে এই দোয়াটি এসেছে: "আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা, ওয়া বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা নাহইয়া, ওয়া বিকা নামূতু, ওয়া ইলাইকান নুশূর" (হে আল্লাহ, আপনার অনুগ্রহেই আমরা সকালে উপনীত হয়েছি, আপনার অনুগ্রহেই সন্ধ্যায় উপনীত হই, আপনার ইচ্ছাতেই বাঁচি ও মরি, আর আপনার কাছেই পুনরুত্থান)।
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু..." ১০০ বার
সহিহ বুখারী (৬৪০৩) ও সহিহ মুসলিমের (২৬৯১) হাদীসে দিনে ১০০ বার এই কালিমা পড়ার বিশাল ফজিলত এসেছে।
এগুলো পূর্ণ তালিকা নয়। "হিসনুল মুসলিম" নামের ছোট বইটিতে সকাল-সন্ধ্যার সব মাসনুন দোয়া সূত্রসহ একসঙ্গে পাওয়া যায়।
৮. সন্ধ্যায়ও একই দোয়া
একটি সুখবর হলো, উপরের তিনটি দোয়াই সন্ধ্যায়ও পড়া যায়। হাদীসগুলোতে সকালের সঙ্গে সন্ধ্যার কথাও একসঙ্গে এসেছে।
সন্ধ্যার জিকিরের সময়
আলেমগণের মতে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টা সন্ধ্যার জিকিরের জন্য উত্তম। কেউ কেউ মাগরিবের পর থেকে রাতের প্রথম অংশ পর্যন্তও এর সময় বলেছেন।
সামান্য পরিবর্তন
- সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার: সকাল-সন্ধ্যা একই শব্দে পড়া হয়।
- বিসমিল্লাহিল্লাযী...: সন্ধ্যায়ও একই শব্দে তিনবার।
- সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি: সন্ধ্যায়ও ১০০ বার।
- আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা: সন্ধ্যায় শব্দের ক্রম একটু বদলে "আল্লাহুম্মা বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা আসবাহনা..." এবং শেষে "ওয়া ইলাইকাল মাসীর" বলা হয়।
সকাল ও সন্ধ্যা, দিনের এই দুই প্রান্তে আল্লাহর স্মরণ যেন পুরো দিনটাকে দুই দিক থেকে ঘিরে রাখে।
৯. প্রতিদিনের অভ্যাস গড়ার সহজ কৌশল
দোয়াগুলো জানা এক জিনিস, প্রতিদিন পড়া আরেক জিনিস। কয়েকটি ছোট কৌশল অভ্যাস গড়তে সাহায্য করতে পারে।
একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের সঙ্গে জুড়ে দিন
নতুন অভ্যাস সবচেয়ে সহজে গড়ে ওঠে পুরোনো কোনো অভ্যাসের সঙ্গে জুড়ে দিলে। যেমন: "ফজরের সালাম ফিরিয়েই সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার", বা "চা বানানোর সময় সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি"।
ফোনকে সহায়ক বানান
ফোনের লক স্ক্রিনে দোয়াগুলোর একটি ছবি রাখতে পারেন। তাহলে সকালে প্রথম যখন ফোন হাতে নেবেন, তখনই মনে পড়বে।
একটি একটি করে মুখস্থ করুন
প্রথম সপ্তাহে শুধু দ্বিতীয় দোয়াটি (সবচেয়ে ছোট), দ্বিতীয় সপ্তাহে তৃতীয়টি, আর তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার।
পরিবারকে সঙ্গে নিন
সকালের নাস্তার টেবিলে সবাই মিলে একবার জোরে পড়ুন। শিশুরা দেখে দেখে শেখে, আর এভাবে পুরো পরিবারের সকালটা আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু হয়।
বাদ গেলে আবার শুরু
কোনোদিন ভুলে গেলে মন খারাপ না করে দিনের যেকোনো সময় পড়ে নিন, আর পরের দিন আবার চেষ্টা করুন।
উপসংহার
সকালের মাত্র কয়েকটি মিনিট পুরো দিনের মনোভাব বদলে দিতে পারে। সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারে আমরা ক্ষমা চেয়ে দিন শুরু করি, "বিসমিল্লাহিল্লাযী..." দোয়ায় আল্লাহর নামে নিজেকে সঁপে দিই, আর "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি" দিয়ে তাঁর পবিত্রতা ও প্রশংসা ঘোষণা করি। তিনটি দোয়াই সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
আগামীকাল সকাল থেকেই শুরু করতে পারেন এভাবে:
- আজ রাতে "বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু..." দোয়াটি মুখস্থ করে ফেলুন, এটি সবচেয়ে ছোট।
- এই লেখার দোয়া অংশের একটি স্ক্রিনশট নিয়ে ফোনের লক স্ক্রিনে রাখুন।
- কাল ফজরের পর ফোন হাতে নেওয়ার আগে তিনটি দোয়া পড়ার নিয়ত করুন।
এক সপ্তাহ টানা চেষ্টা করুন। আশা করা যায়, এরপর সকালের এই কয়েক মিনিট এমন প্রিয় হয়ে উঠবে যে একদিন বাদ পড়লে নিজেরই খালি খালি লাগবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিটি সকাল তাঁর স্মরণ দিয়ে শুরু করার এবং প্রতিটি দিন তাঁর সুরক্ষায় কাটানোর তাওফিক দান করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সকালে কোন দোয়াগুলো পড়া সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ?
সহিহ হাদীসে বর্ণিত সকালের অনেক দোয়ার মধ্যে সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (সহিহ বুখারী ৬৩০৬), "বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু..." তিনবার (আবু দাউদ ৫০৮৮) এবং "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি" ১০০ বার (সহিহ মুসলিম ২৬৯২) বিশেষ ফজিলতপূর্ণ ও পড়তে সহজ।
২. সকালের দোয়া কখন পড়তে হয়?
আলেমগণের মতে সবচেয়ে উত্তম সময় ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। তবে এই সময় পার হয়ে গেলেও দুপুরের আগ পর্যন্ত পড়া যায় বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন।
৩. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফারের ফজিলত কী?
সহিহ বুখারীর (৬৩০৬) হাদীস অনুযায়ী, যে দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে দিনে এই দোয়া পড়ে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যায়, সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। রাতে পড়ে সকালের আগে মারা গেলেও একই সুসংবাদ।
৪. অজু ছাড়া কি সকালের দোয়া পড়া যায়?
হ্যাঁ, জিকির ও দোয়ার জন্য অজু শর্ত নয়। অজু অবস্থায় পড়া উত্তম, তবে অজু ছাড়াও রাস্তায়, গাড়িতে বা কাজের ফাঁকে মুখস্থ দোয়াগুলো পড়া যায়।
৫. সকালের দোয়াগুলো কি সন্ধ্যায়ও পড়া যায়?
হ্যাঁ। এই লেখায় উল্লিখিত তিনটি দোয়াই হাদীসে সকাল ও সন্ধ্যা দুই সময়ের জন্য এসেছে। সন্ধ্যার জন্য আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টি উত্তম বলে আলেমগণ উল্লেখ করেছেন।
