ওমরাহ করার নিয়ম | ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইড
ওমরাহ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ জিয়ারত এবং বিশেষ কিছু আমল সম্পাদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। হজের মতো ওমরাহ ফরজ নয়, তবে এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে এক ওমরাহ থেকে আরেক ওমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের পাপের কাফফারা হয়ে যায় (সহিহ বুখারি: ১৭৭৩, সহিহ মুসলিম: ১৩৪৯)। রমজান মাসে ওমরাহ করা হজের সমতুল্য সওয়াব পাওয়ার আশা করা যায় (সহিহ বুখারি: ১৮৬৩)। যারা প্রথমবার ওমরাহ করতে যাবেন তাদের জন্য সঠিক নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি। এই লেখায় ওমরাহের প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে যাতে আপনি সহজেই এই পবিত্র ইবাদত সম্পন্ন করতে পারেন।
ওমরাহের প্রস্তুতি ও ইহরাম বাঁধা
ওমরাহ শুরু হয় ইহরাম বাঁধার মাধ্যমে। ইহরাম হলো বিশেষ নিয়ত করে বিশেষ পোশাক পরিধান করা এবং কিছু বিষয় থেকে বিরত থাকার অবস্থা। পুরুষদের জন্য ইহরামের কাপড় হলো দুই খণ্ড সেলাইবিহীন সাদা কাপড় - একটি লুঙ্গির মতো করে পরতে হয় এবং অপরটি গায়ে জড়াতে হয়। মহিলাদের জন্য যেকোনো শালীন পোশাক যা মাথা ও শরীর ঢাকে তাই ইহরামের পোশাক, তবে মুখ ঢাকা যাবে না।
মিকাত নামক নির্দিষ্ট স্থান থেকে ইহরাম বাঁধতে হয়। বিভিন্ন দিক থেকে আসা মুসাফিরদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মিকাত রয়েছে। বিমানে যাত্রা করলে বিমানেই ইহরাম বাঁধা যায় যখন মিকাতের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ইহরাম বাঁধার আগে ভালোভাবে গোসল করা, নখ কাটা, নাভির নিচের এবং বগলের লোম পরিষ্কার করা সুন্নত। এরপর সুগন্ধি ব্যবহার করা যায় (শুধু শরীরে, কাপড়ে নয়)। তারপর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে ইহরামের নিয়ত করতে হয়।
নিয়তের পর তালবিয়া পাঠ করতে হয়: "লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক..." এটি উচ্চস্বরে (পুরুষদের ক্ষেত্রে) এবং মহিলারা নিচু স্বরে পড়বেন। ইহরাম অবস্থায় কিছু কাজ নিষিদ্ধ: সেলাইকৃত কাপড় পরা (পুরুষ), মাথা বা মুখ ঢাকা (পুরুষ), সুগন্ধি ব্যবহার, চুল বা নখ কাটা, শিকার করা এবং বৈবাহিক সম্পর্ক। এগুলো থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
মক্কায় প্রবেশ ও তাওয়াফ
মক্কায় পৌঁছে প্রথম কাজ হলো তাওয়াফ করা। তাওয়াফ মানে কাবা শরিফকে বাম দিকে রেখে সাতবার প্রদক্ষিণ করা। মসজিদুল হারামে প্রবেশের সময় ডান পা আগে দিয়ে প্রবেশ করা এবং দোয়া পড়া সুন্নত। হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) থেকে তাওয়াফ শুরু করতে হয়। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া, না পারলে হাত দিয়ে স্পর্শ করে হাতে চুমু দেওয়া, তাও না পারলে দূর থেকে হাত দিয়ে ইশারা করে "বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার" বলা।
তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে পুরুষরা দ্রুত গতিতে এবং একটু কাঁধ দুলিয়ে চলবেন যাকে 'রমল' বলে। বাকি চারটি স্বাভাবিক গতিতে। প্রতিটি চক্করে হাজরে আসওয়াদের সামনে এসে একইভাবে ইশারা করতে হবে। রুকনে ইয়ামানি (কাবার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ) স্পর্শ করা সুন্নত কিন্তু চুমু দেওয়া নয়। তাওয়াফের সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই, যা ইচ্ছা কুরআন তিলাওয়াত বা দোয়া পড়া যায়।
সাত চক্কর শেষ হলে তাওয়াফ সম্পন্ন হয়। এরপর মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে (সম্ভব হলে) দুই রাকাত নামাজ পড়তে হয়। প্রথম রাকাতে সূরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়া সুন্নত। এরপর জমজমের পানি পান করা এবং হাজরে আসওয়াদে পুনরায় ইশারা করে সাফা-মারওয়ার দিকে রওনা হওয়া। তাওয়াফ ওমরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন এবং এটি অত্যন্ত সাবধানে ও ভক্তিভরে করা উচিত।
আরো পড়ুন: হজ ও ওমরাহর পার্থক্য
সাঈ: সাফা ও মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো
তাওয়াফের পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সাঈ। সাঈ মানে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়ানো বা হাঁটা। এটি হজরত হাজেরা (আ.) এর সুন্নত যিনি পানির খোঁজে এই দুই পাহাড়ের মধ্যে দৌড়েছিলেন। সাফা থেকে শুরু করতে হয় এবং মারওয়ায় শেষ হবে। সাফায় উঠে কাবার দিকে মুখ করে তিনবার "আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলতে হয় এবং দোয়া করতে হয়।
সাফা থেকে মারওয়ার দিকে হাঁটা শুরু করতে হয়। মাঝখানে দুটি সবুজ বাতি চিহ্নিত স্থানের মধ্যবর্তী অংশে (প্রায় ১৫০ মিটার) পুরুষরা দ্রুত দৌড়াবেন এবং মহিলারা স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন। মারওয়ায় পৌঁছে একইভাবে দোয়া করতে হয়। এটি এক চক্কর। এভাবে সাতবার সম্পন্ন করতে হবে অর্থাৎ সাফা থেকে মারওয়া এবং মারওয়া থেকে সাফা মিলে সাতবার। শেষ চক্করটি মারওয়ায় শেষ হবে।
সাঈর সময়ও নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নেই। কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া যা ইচ্ছা পড়া যায়। তবে একটি প্রচলিত দোয়া আছে: "রব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া তাজাওয়াজ আম্মা তা'লাম..." সাঈ শেষ হলে ওমরাহের মূল কাজ প্রায় শেষ। সাঈ অবশ্যই তাওয়াফের পর করতে হবে এবং এর মধ্যে দীর্ঘ বিরতি দেওয়া উচিত নয়। যদি ক্লান্তি অনুভব হয় তাহলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার শুরু করা যায়।
চুল কাটা বা মুণ্ডন এবং ওমরাহ সমাপ্তি
সাঈ শেষ করার পর ওমরাহের শেষ কাজ হলো চুল কাটা বা মাথা মুণ্ডন করা। পুরুষদের জন্য সম্পূর্ণ মাথা মুণ্ডন করা অথবা সব চুল থেকে সমানভাবে ছোট করা। মুণ্ডন করা উত্তম এবং বেশি সওয়াবের কাজ। হাদিসে এসেছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুণ্ডনকারীদের জন্য তিনবার দোয়া করেছেন এবং চুল ছোটকারীদের জন্য একবার (সহিহ মুসলিম: ১৩০৩)। মহিলারা চুল কাটবেন না, শুধু আঙুলের এক কর পরিমাণ ছেঁটে নেবেন।
মক্কার বিভিন্ন স্থানে হারাম শরিফের কাছেই নাপিতের দোকান রয়েছে যেখানে চুল কাটা বা মুণ্ডন করা যায়। এটি সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে ইহরাম থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন এবং ইহরামের নিষেধাজ্ঞাগুলো আর প্রযোজ্য থাকবে না। সাধারণ কাপড় পরা যাবে, সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে এবং অন্যান্য স্বাভাবিক কাজ করা যাবে। এভাবে ওমরাহ সম্পূর্ণ হয়ে যায়।
ওমরাহ শেষ হওয়ার পর মদিনা শরিফ জিয়ারত করা অনেকে পছন্দ করেন যদিও এটি ওমরাহের অংশ নয়। মসজিদে নববীতে নামাজ পড়া এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) এর রওজা শরিফ জিয়ারত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তবে মনে রাখতে হবে যে মদিনা যাওয়া বাধ্যতামূলক নয় এবং ওমরাহ মক্কাতেই সম্পূর্ণ হয়ে যায়।
আরো পড়ুন: হজের ফরজ ও ওয়াজিব
ওমরাহের ভুল-ত্রুটি ও সাবধানতা
ওমরাহ পালনে কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা উচিত। প্রথমত, ইহরামের আগে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি। মিকাত অতিক্রম করার আগেই ইহরাম বাঁধতে হবে নয়তো দম দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাওয়াফে সঠিক স্থান থেকে শুরু করা এবং সাত চক্কর পূর্ণ করা নিশ্চিত করতে হবে। অনেকে হিসাব ভুলে কম বা বেশি চক্কর দিয়ে ফেলেন।
তৃতীয়ত, ভিড়ের সময় ধাক্কাধাক্কি করা এবং অন্যদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা। হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত চাপাচাপি করা ঠিক নয়, দূর থেকে ইশারা করাই যথেষ্ট। চতুর্থত, তাওয়াফ বা সাঈর সময় বিনা প্রয়োজনে কথা বলা এবং দুনিয়াবি আলোচনা করা এড়িয়ে চলা উচিত। এই সময় আল্লাহর জিকির, দোয়া এবং কুরআন তিলাওয়াতে মনোযোগী হওয়া উত্তম।
পঞ্চমত, মহিলাদের হায়েজ-নিফাস অবস্থায় তাওয়াফ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই অবস্থায় পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে সাঈ করা যায়। ষষ্ঠত, ছবি তোলা এবং সেলফি নেওয়ায় মগ্ন থাকা ইবাদতের খুশুকে নষ্ট করে। প্রয়োজনীয় ছবি তোলা যেতে পারে কিন্তু এটি যেন মূল উদ্দেশ্য না হয়। সপ্তমত, অপ্রমাণিত দোয়া বা বিদআতি কাজ থেকে বিরত থাকা এবং শুধুমাত্র সহিহ হাদিস অনুযায়ী আমল করা উচিত।
ওমরাহের পর করণীয় ও উপদেশ
ওমরাহ সম্পন্ন করার পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা উচিত। প্রথমত, যতদিন মক্কায় থাকবেন ততদিন মসজিদুল হারামে নিয়মিত নামাজ পড়া এবং যতবার সম্ভব তাওয়াফ করা। প্রতিটি তাওয়াফে পৃথক সওয়াব রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ওমরাহের পর পাপমুক্ত হওয়ার আশায় নতুন করে জীবন শুরু করা এবং ভালো কাজে অটল থাকার চেষ্টা করা। হাদিসে এসেছে যে মাবরুর (কবুল) ওমরাহের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয় (সহিহ বুখারি: ১৭৭৩)।
তৃতীয়ত, বেশি বেশি জমজম পানি পান করা এবং দেশে নিয়ে যাওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে জমজম যে নিয়তে পান করা হয় তা পূর্ণ হয় (ইবনে মাজাহ: ৩০৬২)। চতুর্থত, যাদের জন্য দোয়া করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাদের জন্য অবশ্যই দোয়া করা এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা। পঞ্চমত, ওমরাহের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা এবং অন্যদের উৎসাহিত করা কিন্তু লোক দেখানো বা অহংকারের জন্য নয়।
দেশে ফিরে এসে ওমরাহের শিক্ষাগুলো জীবনে প্রয়োগ করা উচিত। নিয়মিত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং ভালো কাজে অভ্যস্ত হওয়া। পাপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা এবং আল্লাহর স্মরণে জীবন কাটানো। ওমরাহ শুধু একটি ভ্রমণ নয়, এটি আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের সুযোগ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে এবং জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলা ওমরাহের প্রকৃত সফলতা।
উপসংহার
ওমরাহ একটি মহান ইবাদত যা আল্লাহর ঘরে গিয়ে তাঁর নৈকট্য লাভ করার সুযোগ দেয়। এই লেখায় ওমরাহের প্রতিটি ধাপ সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইহরাম বাঁধা, তাওয়াফ, সাঈ এবং চুল কাটার মাধ্যমে ওমরাহ সম্পন্ন হয়। প্রতিটি ধাপে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করা এবং ভুল-ত্রুটি এড়িয়ে চলা জরুরি।
যারা ওমরাহ করতে যাবেন তাদের জন্য পরামর্শ হলো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিন, নিয়মকানুন জেনে নিন এবং ধৈর্য ও বিনয়ের সাথে এই ইবাদত সম্পাদন করুন। ভিড় বেশি থাকলে ধৈর্য ধরুন এবং অন্যদের কষ্ট দেবেন না। মনে রাখবেন, আল্লাহর ঘরে যাওয়া একটি বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় এবং তাঁর মেহমান হওয়ার সুযোগ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ওমরাহ করার তৌফিক দান করুন এবং এই ইবাদত কবুল করুন। যারা এখনও যেতে পারেননি তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করুন এবং যারা গিয়েছেন তাদের আমল কবুল করুন। আমীন।
FAQ - প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. ওমরাহ কি ফরজ নাকি সুন্নত?
ওমরাহ ফরজ নয়, তবে এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সুন্নত ইবাদত। আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে - কেউ কেউ এটিকে সুন্নতে মুআক্কাদা বলেছেন, কেউ বলেছেন যে জীবনে একবার করা ওয়াজিব। তবে সর্বসম্মত মত হলো এটি ফরজ নয়। যার সামর্থ্য আছে তার জন্য ওমরাহ করা উত্তম এবং এতে অনেক সওয়াব রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে একাধিকবার ওমরাহ করেছেন এবং সাহাবিদেরও উৎসাহিত করেছেন। যদি কারো আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য থাকে তাহলে ওমরাহ করা উচিত।
২. ওমরাহ করতে কত টাকা লাগে এবং কতদিন সময় লাগে?
ওমরাহের খরচ প্যাকেজ এবং সময়ের উপর নির্ভর করে। সাধারণত বাংলাদেশ থেকে ৩-৪ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৬-৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন প্যাকেজ পাওয়া যায়। রমজান মাসে খরচ বেশি হয় এবং অন্য সময়ে কম। সময়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭-১০ দিনের প্যাকেজ থাকে যেখানে মক্কা-মদিনা উভয় স্থানে কিছু দিন থাকা যায়। কেউ চাইলে আরও বেশি দিনের প্যাকেজ নিতে পারেন। ভিসা, বিমান টিকেট, হোটেল, খাবার সব মিলিয়ে এই খরচ হয়। বিশ্বস্ত এবং সরকার অনুমোদিত হজ এজেন্সি থেকে প্যাকেজ নেওয়া উচিত।
৩. মহিলারা কি একা ওমরাহ করতে পারবেন?
ইসলামিক শরিয়ত অনুযায়ী মহিলাদের জন্য মাহরাম (যার সাথে বিয়ে হারাম এমন পুরুষ আত্মীয়) ছাড়া সফর করা জায়েজ নেই। তাই ওমরাহেও মহিলাদের মাহরামের সাথে যেতে হয়। মাহরাম হতে পারেন স্বামী, বাবা, ভাই, ছেলে, চাচা, মামা, শ্বশুর ইত্যাদি। তবে কিছু আলেম বলেছেন যে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী মহিলা বিশ্বস্ত দলের সাথে যেতে পারেন। সৌদি সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু শর্তে মহিলাদের জন্য মাহরাম ছাড়া ওমরাহের অনুমতি দিয়েছে তবে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাহরামসহ যাওয়াই উত্তম এবং নিরাপদ।
৪. হায়েজ-নিফাস অবস্থায় কি ওমরাহ করা যাবে?
না, হায়েজ বা নিফাস অবস্থায় তাওয়াফ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কারণ তাওয়াফের জন্য পবিত্রতা শর্ত। যদি ওমরাহের সময় এই অবস্থা হয় তাহলে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে সাঈ (সাফা-মারওয়ার মধ্যে দৌড়ানো) করা যায় কারণ এটি মসজিদের বাইরে এবং এর জন্য ওজু বা পবিত্রতা শর্ত নয়। সেক্ষেত্রে পরিকল্পনা এমনভাবে করা উচিত যাতে পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করা যায়। যদি টিকেট বুক করা থাকে এবং সময় শেষ হয়ে যায় তাহলে পরের ওমরাহের সুযোগ অপেক্ষা করতে হবে। অনেক মহিলা ঔষধ ব্যবহার করে মাসিক বন্ধ রাখার চেষ্টা করেন, এটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা যেতে পারে তবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
৫. ওমরাহ এবং হজের মধ্যে পার্থক্য কী?
ওমরাহ এবং হজ উভয়ই মক্কায় সম্পাদিত ইবাদত কিন্তু এদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রথমত, হজ ফরজ (সামর্থ্যবানদের জন্য) এবং ওমরাহ সুন্নত। দ্বিতীয়ত, হজ নির্দিষ্ট সময়ে (জিলহজ মাসের ৮-১২ তারিখ) করতে হয় কিন্তু ওমরাহ বছরের যেকোনো সময় করা যায়। তৃতীয়ত, হজ বেশ দীর্ঘ এবং জটিল - আরাফাতে অবস্থান, মুজদালিফায় রাত্রি যাপন, মিনায় পাথর নিক্ষেপ, কুরবানি ইত্যাদি অনেক আমল রয়েছে। ওমরাহ তুলনামূলক সহজ এবং সংক্ষিপ্ত - শুধু ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ এবং চুল কাটা। চতুর্থত, হজ জীবনে একবার করলেই ফরজ আদায় হয়ে যায় কিন্তু ওমরাহ বারবার করা যায় এবং প্রতিবার সওয়াব পাওয়া যায়।
