ঘরে তারাবিহ নামাজ পড়ার সম্পূর্ণ নিয়ম

 

ghore-tarabih-porar-niyom

ঘরে তারাবিহ নামাজ পড়ার নিয়ম: সম্পূর্ণ গাইড

ভূমিকা

রমজান মাসের বিশেষ ইবাদতগুলোর মধ্যে তারাবিহ নামাজ অন্যতম। এটি একটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ যা এশার ফরজ ও সুন্নতের পর এবং বিতরের আগে পড়া হয়। সাধারণত মসজিদে জামাতে তারাবিহ পড়ার রেওয়াজ থাকলেও কখনো কখনো ঘরে তারাবিহ পড়ার প্রয়োজন হতে পারে। অসুস্থতা, দূরত্ব, মহিলা হওয়া বা অন্য কোনো কারণে যারা মসজিদে যেতে পারেন না তারা ঘরে তারাবিহ পড়তে পারেন। হাদিসে এসেছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ঘরে তারাবিহ পড়তেন এবং সাহাবিদের জন্য মসজিদে জামাতের ব্যবস্থা করা সত্ত্বেও কখনো কখনো ঘরে পড়তেন (সহিহ বুখারি: ২০১২)। এই লেখায় ঘরে তারাবিহ পড়ার সঠিক নিয়ম, পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

তারাবিহ নামাজের পরিচয় ও ফজিলত

তারাবিহ শব্দের অর্থ বিশ্রাম নেওয়া। এই নামাজে প্রতি চার রাকাত পর কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার রেওয়াজ থাকায় এই নাম হয়েছে। আরবিতে একে 'কিয়ামুল লাইল' বা রাত্রির নামাজও বলা হয়। তারাবিহ রমজান মাসের বিশেষ সুন্নত এবং এটি পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম করবে (তারাবিহ পড়বে) তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে (সহিহ বুখারি: ২০০৯, সহিহ মুসলিম: ৭৫৯)।

তারাবিহ নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া অর্থাৎ মসজিদে বা এলাকায় কেউ পড়লে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। তবে ব্যক্তিগতভাবে পড়লে বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায়। মসজিদে জামাতে পড়া উত্তম কিন্তু ঘরে পড়াও জায়েজ এবং সওয়াব পাওয়া যায়। হাদিসে এসেছে যে রাসুল (সা.) মসজিদে তারাবিহর জামাত শুরু করেছিলেন কিন্তু পরে ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘরে পড়তে শুরু করেন। খলিফা হজরত উমর (রা.) এর সময় থেকে মসজিদে নিয়মিত জামাতের প্রচলন শুরু হয়।

তারাবিহর ফজিলত অপরিসীম। এটি রমজানের বিশেষ নিয়ামত এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। যারা নিয়মিত তারাবিহ পড়েন তারা কুরআন তিলাওয়াতের সুযোগ পান, দীর্ঘ সময় ইবাদতে থাকেন এবং আত্মিক শান্তি লাভ করেন। ঘরে পড়লেও এই সব ফজিলত পাওয়া যায় বলে আশা করা যায় যদি সঠিক নিয়মে এবং খুশু-খুজুর সাথে পড়া হয়।

ঘরে তারাবিহ পড়ার নিয়ম ও পদ্ধতি

ঘরে তারাবিহ পড়ার পদ্ধতি মসজিদের মতোই। এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজ শেষ করার পর তারাবিহ পড়তে হয়। প্রথমে নিয়ত করতে হবে যে তারাবিহ নামাজ পড়ছি। নিয়ত মুখে বলা জরুরি নয়, মনে মনে করলেই যথেষ্ট। তারপর "আল্লাহু আকবার" বলে তাকবিরে তাহরিমা দিয়ে নামাজ শুরু করতে হবে। সানা পড়ে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা বা কুরআনের কিছু অংশ পড়তে হবে। রুকু-সিজদা সহ সাধারণ নামাজের মতোই পড়তে হবে।

তারাবিহ নামাজ দুই রাকাত করে পড়তে হয়। অর্থাৎ দুই রাকাত পর সালাম ফিরাতে হবে এবং আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। তারাবিহ ৮, ১২ বা ২০ রাকাত পড়া যায়। হাদিস থেকে জানা যায় যে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ১১ রাকাত পড়তেন (৮ রাকাত তারাবিহ এবং ৩ রাকাত বিতর) এবং কখনো ১৩ রাকাত পড়তেন (সহিহ বুখারি: ১১৪৭)। তবে ২০ রাকাত পড়ার রেওয়াজও সাহাবিদের সময় থেকে চলে আসছে এবং এটিও জায়েজ। যে পরিমাণ পড়া সহজ সে পরিমাণ পড়া যায়।

প্রতি দুই বা চার রাকাত পর বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত। এই সময় তাসবিহ, ইস্তিগফার বা দোয়া পড়া যায়। অনেকে "সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি..." দোয়া পড়েন যদিও এর সনদ দুর্বল, তবে যেকোনো দোয়া বা জিকির পড়া যায়। তারাবিহর শেষে বিতর নামাজ পড়তে হবে যা ওয়াজিব। বিতর ১ বা ৩ রাকাত পড়া যায়। ৩ রাকাত পড়লে মাঝখানে সালাম না ফিরিয়ে একসাথে পড়া উত্তম। এভাবে ঘরে একা বা পরিবারের সাথে তারাবিহ পড়া যায়।

একা বনাম জামাতে ঘরে তারাবিহ

ঘরে তারাবিহ একা পড়া যায় অথবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জামাতে পড়া যায়। উভয়ই জায়েজ তবে জামাতে পড়া বেশি সওয়াবের কাজ। হাদিসে এসেছে যে জামাতে নামাজ পড়া একাকী পড়ার চেয়ে ২৭ গুণ বেশি সওয়াব (সহিহ বুখারি: ৬১৯, সহিহ মুসলিম: ৬৫০)। তাই ঘরে যদি একাধিক ব্যক্তি থাকেন তাহলে জামাতে পড়া উত্তম। পুরুষরা ইমাম হতে পারেন এবং মহিলারা মুক্তাদি হয়ে পেছনে দাঁড়াতে পারেন। ছেলে-মেয়েরাও অংশ নিতে পারে যা তাদের নামাজের অভ্যাস তৈরিতে সহায়ক।

একা পড়লে নিজের সুবিধামতো গতিতে পড়া যায় এবং যত লম্বা তিলাওয়াত করা সম্ভব তত করা যায়। একাগ্রতা বেশি থাকে এবং খুশু-খুজু রক্ষা করা সহজ হয়। তবে জামাতে পড়লে একটি দলগত ইবাদতের অনুভূতি হয় এবং পরিবারের সবাই একসাথে ইবাদত করার সুযোগ পায়। ছোটরা বড়দের দেখে শিখতে পারে এবং পরিবারে ধর্মীয় পরিবেশ তৈরি হয়। তাই যদি পরিবারে একাধিক নামাজি থাকেন তাহলে জামাতে পড়া উচিত।

মহিলারা ঘরে তারাবিহ পড়তে পারেন এবং এটি তাদের জন্য উত্তম। হাদিসে এসেছে যে মহিলাদের জন্য ঘরে নামাজ পড়া মসজিদের চেয়ে উত্তম (আবু দাউদ: ৫৭০)। তবে মসজিদে যেতে চাইলে নিষেধ নেই। মহিলারা নিজেরা ইমাম হতে পারেন যদি শুধু মহিলাদের জামাত হয়। মহিলা ইমাম মাঝখানে দাঁড়াবেন, সবার আগে নয়। এভাবে ঘরে মহিলারা তাদের সন্তানদের নিয়ে তারাবিহর জামাত করতে পারেন যা পরিবারে দ্বীনি শিক্ষার একটি চমৎকার মাধ্যম।

আরো পড়ুন: তারাবিহ নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া

কুরআন না জানলে তারাবিহ পড়ার উপায়

অনেকে প্রশ্ন করেন যে কুরআন না জানলে বা কম সূরা জানলে তারাবিহ পড়া যাবে কিনা। উত্তর হলো হ্যাঁ, অবশ্যই পড়া যাবে। যতটুকু জানা আছে ততটুকু দিয়েই নামাজ পড়া যায়। সূরা ফাতিহা এবং ছোট কয়েকটি সূরা (যেমন সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস, কাউসার) জানা থাকলেই তারাবিহ পড়া সম্ভব। প্রতি দুই রাকাতে একই সূরা পড়া যায়। এতে কোনো সমস্যা নেই এবং নামাজ হয়ে যাবে। তবে বিভিন্ন সূরা পড়া উত্তম।

যারা একদম নতুন তারা খুব ছোট সূরা দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং ধীরে ধীরে আরও সূরা মুখস্থ করতে পারেন। রমজানের প্রতি রাতে একটি করে নতুন সূরা শিখে নিলে মাস শেষে অনেক সূরা হয়ে যাবে। কুরআন দেখে পড়াও জায়েজ আছে যদিও মুখস্থ পড়া উত্তম। ঘরে তারাবিহ পড়ার সময় কুরআন খুলে রেখে পড়া যায়। অনেকে মোবাইল বা ট্যাবলেটে কুরআন অ্যাপ ব্যবহার করেন যা সহায়ক হতে পারে তবে নিয়ত ও খুশু ঠিক রাখতে হবে।

যাদের একদমই কুরআন পড়া আসে না তারা কি করবেন? তাদের উচিত দ্রুত কুরআন শেখা শুরু করা। ততদিন পর্যন্ত সূরা ফাতিহার পরে যেকোনো জিকির বা তাসবিহ পড়ে নামাজ চালিয়ে যেতে পারেন। "সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার" - এই তাসবিহ তিনবার পড়া যায়। তবে এটি অস্থায়ী সমাধান এবং দ্রুত কুরআন শিখে নেওয়া জরুরি। কুরআন শেখা ফরজ এবং এটি করতে কখনো দেরি করা উচিত নয়।

মসজিদে না গিয়ে ঘরে পড়া কি ঠিক?

অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে যে মসজিদে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ঘরে তারাবিহ পড়া ঠিক কিনা। এর উত্তর পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। যদি কোনো বৈধ কারণ (অসুস্থতা, দূরত্ব, নিরাপত্তা, বয়স) থাকে তাহলে ঘরে পড়া সম্পূর্ণ জায়েজ এবং সওয়াব পাওয়া যায়। মহিলাদের জন্য ঘরে পড়াই উত্তম। কিন্তু পুরুষদের জন্য বিনা কারণে মসজিদ ছেড়ে ঘরে পড়া মাকরুহ হতে পারে কারণ জামাতে পড়ার ফজিলত বেশি এবং মসজিদের পরিবেশ ইবাদতের জন্য বিশেষ।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ঘরে পড়া উত্তম হতে পারে। যদি কেউ মসজিদে দীর্ঘ কুরআন তিলাওয়াত শুনে ক্লান্ত হন এবং খুশু নষ্ট হয় তাহলে ঘরে নিজের মতো করে পড়া ভালো। যদি মসজিদে গেলে ফজরের নামাজ মিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে (দেরিতে ঘুম থেকে উঠা) তাহলে তাড়াতাড়ি ঘরে তারাবিহ পড়ে ঘুমানো উচিত। কেউ যদি অসুস্থ বা বৃদ্ধ হন যার জন্য মসজিদে যাওয়া কষ্টকর তাহলে অবশ্যই ঘরে পড়া উত্তম।

মূল কথা হলো তারাবিহ পড়াই আসল, সেটা মসজিদে হোক বা ঘরে। যেখানে বেশি খুশু-খুজু এবং একাগ্রতার সাথে পড়া যায় সেখানেই পড়া উচিত। হাদিসে এসেছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিও না" অর্থাৎ ঘরে নফল নামাজ পড়া উচিত (সহিহ মুসলিম: ৭৮০)। এই হাদিস থেকে বুঝা যায় যে ঘরে নফল নামাজ পড়া উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই বৈধ কারণ থাকলে বা নিজের ইবাদত বেশি ভালো হলে ঘরে তারাবিহ পড়তে কোনো সমস্যা নেই।

ঘরে তারাবিহ পড়ার উপকারিতা ও টিপস

ঘরে তারাবিহ পড়ার কিছু বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। প্রথমত, পরিবারের সবাই একসাথে ইবাদত করার সুযোগ পায়। স্বামী-স্ত্রী, সন্তানরা একসাথে নামাজ পড়লে পারিবারিক বন্ধন মজবুত হয় এবং ইসলামি পরিবেশ তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, ছোট বাচ্চারা বাবা-মায়ের সাথে নামাজ পড়ে শিখতে পারে। তাদের নামাজের অভ্যাস তৈরিতে এটি খুবই কার্যকর। তৃতীয়ত, নিজের গতিতে পড়া যায় এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে তিলাওয়াত ও দোয়া করা যায়। মসজিদে কখনো তাড়াহুড়া লাগতে পারে কিন্তু ঘরে সময় নিয়ে পড়া যায়।

কিছু টিপস যা ঘরে তারাবিহ পড়া সহজ করতে পারে: প্রথমত, একটি নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করুন যেখানে প্রতিদিন তারাবিহ পড়বেন। এতে মনোযোগ বাড়ে। দ্বিতীয়ত, এশার নামাজের পর দ্রুত তারাবিহ শুরু করুন। বিলম্ব করলে অলসতা আসতে পারে। তৃতীয়ত, কুরআন বা তিলাওয়াতের জন্য একটি পরিকল্পনা করুন। রমজানে পুরো কুরআন শেষ করার লক্ষ্য রাখতে পারেন। চতুর্থত, পরিবারের সদস্যদের উৎসাহিত করুন এবং ছোটদের অংশগ্রহণ করান।

পঞ্চমত, মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইস বন্ধ রাখুন বা সাইলেন্ট মোডে রাখুন যাতে বিঘ্ন না ঘটে। ষষ্ঠত, হালকা ইফতার করুন যাতে নামাজে ঘুম না আসে। সপ্তমত, প্রতি চার রাকাত পর বিশ্রামে দোয়া, তাসবিহ বা ইস্তিগফার পড়ুন। এটি শুধু বসে থাকার সময় নয় বরং আল্লাহর জিকির করার সুযোগ। অষ্টমত, তারাবিহর পর বিতর অবশ্যই পড়ুন এবং দোয়ায়ে কুনুত শিখে নিন। এই ছোট পদক্ষেপগুলো ঘরে তারাবিহকে আরও ফলপ্রসূ করবে।

উপসংহার

ঘরে তারাবিহ পড়া সম্পূর্ণ জায়েজ এবং সঠিক নিয়মে পড়লে পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায় বলে আশা করা যায়। মসজিদে যাওয়া সম্ভব না হলে বা ঘরে পড়া উত্তম মনে হলে নিঃসংকোচে ঘরে পড়া উচিত। এশার পর দুই রাকাত করে ৮, ১২ বা ২০ রাকাত তারাবিহ পড়া যায় এবং শেষে বিতর পড়তে হয়। একা বা পরিবারের সাথে জামাতে পড়া যায়। কুরআন কম জানা থাকলেও ছোট সূরা দিয়ে পড়া যায় এবং ধীরে ধীরে শিখে নেওয়া উচিত।

আসুন, এই রমজানে আমরা ঘরে বা মসজিদে যেখানেই থাকি নিয়মিত তারাবিহ পড়ার চেষ্টা করি। পরিবারের সবাইকে উৎসাহিত করি এবং বাচ্চাদের অভ্যাস করাই। তারাবিহ শুধু একটি নামাজ নয়, এটি রমজানের বিশেষ উপহার এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। যারা এখনো তারাবিহ পড়েন না তাদের জন্য আজই শুরু করার উপযুক্ত সময়।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিয়মিত তারাবিহ পড়ার এবং রমজানের পূর্ণ বরকত লাভ করার তৌফিক দান করুন। তিনি আমাদের নামাজ কবুল করুন এবং এর মাধ্যমে আমাদের গুনাহ মাফ করুন। আমীন।


FAQ - প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. ঘরে তারাবিহ পড়লে কি মসজিদের সমান সওয়াব পাওয়া যায়?

ঘরে তারাবিহ পড়লে সওয়াব অবশ্যই পাওয়া যায় তবে মসজিদে জামাতে পড়ার বিশেষ ফজিলত আলাদা। হাদিসে জামাতে নামাজের ২৭ গুণ বেশি সওয়াবের কথা এসেছে। তবে যদি বৈধ কারণ থাকে (অসুস্থতা, দূরত্ব, মহিলা হওয়া) তাহলে ঘরে পড়লেও পূর্ণ সওয়াব পাওয়ার আশা করা যায়। মহিলাদের জন্য ঘরে নামাজ পড়া মসজিদের চেয়ে উত্তম। পুরুষদের জন্য বিনা কারণে মসজিদ ছাড়া উচিত নয় তবে বৈধ কারণ থাকলে ঘরে পড়া জায়েজ এবং সওয়াব পাওয়া যায়। মূল উদ্দেশ্য হলো তারাবিহ পড়া, সেটা মসজিদে বা ঘরে যেখানেই হোক।

২. ঘরে তারাবিহ কত রাকাত পড়তে হয়?

ঘরে তারাবিহ ৮, ১২ বা ২০ রাকাত পড়া যায়। হাদিস থেকে জানা যায় যে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ১১ রাকাত পড়তেন (৮ রাকাত তারাবিহ + ৩ রাকাত বিতর)। তবে ২০ রাকাত পড়ার রেওয়াজও সাহাবিদের সময় থেকে আছে এবং এটিও জায়েজ। যে পরিমাণ পড়া সহজ সে পরিমাণ পড়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ হলো দুই রাকাত করে সালাম ফিরিয়ে পড়তে হবে। তারাবিহর শেষে অবশ্যই বিতর নামাজ (১ বা ৩ রাকাত) পড়তে হবে। কেউ যদি কম পড়তে চান তাহলে ৮ রাকাত তারাবিহ + ৩ রাকাত বিতর পড়তে পারেন যা হাদিস সম্মত এবং সহজ।

৩. কুরআন না জানলে কি ঘরে তারাবিহ পড়া যাবে?

হ্যাঁ, অবশ্যই পড়া যাবে। সূরা ফাতিহা এবং কয়েকটি ছোট সূরা (ইখলাস, ফালাক, নাস, কাউসার) জানা থাকলেই তারাবিহ পড়া সম্ভব। প্রতি দুই রাকাতে একই সূরা পড়া যায়, এতে কোনো সমস্যা নেই। ঘরে পড়ার সময় কুরআন দেখেও পড়া যায় যদিও মুখস্থ পড়া উত্তম। যাদের একদমই কুরআন পড়া আসে না তাদের দ্রুত শিখে নেওয়া উচিত এবং ততদিন পর্যন্ত ফাতিহার পর তাসবিহ পড়ে নামাজ চালিয়ে যেতে পারেন। রমজান কুরআন শেখার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। প্রতিদিন একটি করে নতুন ছোট সূরা শিখলে মাস শেষে অনেক হয়ে যাবে।

৪. মহিলারা কি ঘরে তারাবিহর জামাত করতে পারবেন?

হ্যাঁ, মহিলারা ঘরে তারাবিহর জামাত করতে পারবেন। যদি শুধু মহিলাদের জামাত হয় তাহলে একজন মহিলা ইমাম হবেন এবং তিনি মাঝখানে দাঁড়াবেন, সবার আগে নয়। মহিলারা তাদের সন্তান-সন্ততি নিয়ে জামাত করতে পারেন যা পরিবারে দ্বীনি শিক্ষার চমৎকার মাধ্যম। যদি পুরুষ (স্বামী, ভাই, বাবা) থাকেন তাহলে তিনি ইমাম হবেন এবং মহিলারা পেছনে দাঁড়াবেন। ঘরে জামাতে তারাবিহ পড়া একা পড়ার চেয়ে বেশি সওয়াবের কাজ। মহিলাদের জন্য ঘরে নামাজ পড়া মসজিদের চেয়ে উত্তম তাই ঘরে জামাতে তারাবিহ পড়া তাদের জন্য একটি চমৎকার সুযোগ।

৫. তারাবিহ পড়ার সময় প্রতি চার রাকাত পর কী করতে হয়?

প্রতি চার রাকাত তারাবিহর পর বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত। এই সময় বসে বিশ্রাম নিতে হয় এবং তাসবিহ, জিকির, দোয়া বা ইস্তিগফার পড়া উচিত। অনেকে "সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি..." দোয়া পড়েন যদিও এর সনদ দুর্বল। যেকোনো দোয়া, তাসবিহ বা কুরআন তিলাওয়াত করা যায়। "সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" - এই তাসবিহগুলো পড়া যায়। ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) পড়া যায়। নিজের ও অন্যদের জন্য দোয়া করা যায়। এই বিশ্রামের সময় শুধু চুপচাপ বসে না থেকে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা উচিত। এটি তারাবিহর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এর নাম "তারাবিহ" এই বিশ্রাম থেকেই এসেছে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url