তারাবির নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া | সম্পূর্ণ গাইড
তারাবির নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া: সম্পূর্ণ গাইড
ভূমিকা
রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। এই বিশেষ নামাজ শুধুমাত্র রমজান মাসেই পড়া হয় এবং এর ফজিলত অসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে তারাবি পড়তেন এবং সাহাবীদেরও উৎসাহিত করতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে যে যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে তারাবি পড়বে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে বলে আশা করা যায়। অনেকে তারাবির সঠিক নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও মুনাজাত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় বিভ্রান্তিতে পড়েন। এই লেখায় আমরা তারাবির নামাজের সম্পূর্ণ নিয়ম, নিয়ত, রাকাত সংখ্যা, বিশেষ দোয়া এবং মুনাজাত বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব যাতে আপনি সঠিকভাবে এই ফজিলতপূর্ণ ইবাদত পালন করতে পারেন।
তারাবির নামাজ কী এবং এর গুরুত্ব
তারাবির নামাজ হলো রমজান মাসে এশার নামাজের পর পড়া একটি বিশেষ নফল নামাজ। আরবি 'তারাবিহ' শব্দের অর্থ বিশ্রাম নেওয়া। প্রতি চার রাকাত পর বিশ্রাম নেওয়া হয় বলে এই নামাজকে তারাবি বলা হয়। এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ, যা পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ছেড়ে দেওয়া মাকরূহ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানে তারাবির নামাজ পড়তেন এবং সাহাবীদেরও পড়তে উৎসাহিত করতেন। প্রথম দিকে তিনি মসজিদে জামাতের সাথে পড়তেন, কিন্তু পরে এটি ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘরে পড়তে শুরু করেন। হজরত উমর (রা.) এর খিলাফতকালে তারাবির নামাজ জামাতের সাথে পড়ার নিয়ম চালু হয় এবং এটি আজও চলে আসছে।
তারাবির নামাজের বিশেষ ফজিলত হলো এতে কুরআন তিলাওয়াত শোনা যায়। অনেক মসজিদে পুরো রমজান মাসে তারাবিতে সম্পূর্ণ কুরআন খতম করা হয়। এটি একজন মুসলমানের জন্য কুরআন শোনার এবং এর সাথে সম্পর্ক গভীর করার একটি বিশেষ সুযোগ। তারাবির নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা, রুকু-সেজদা করা এবং কুরআন শোনা - এসবের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়।
এই নামাজ রমজানের রাত্রি জাগরণের একটি মাধ্যম এবং এতে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত সওয়াবের কাজ বলে বিবেচিত হয়।
তারাবির নামাজের রাকাত সংখ্যা ও নিয়ত
তারাবির নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সবচেয়ে প্রচলিত এবং গ্রহণযোগ্য মত হলো ২০ রাকাত। হানাফি, মালেকি এবং শাফেয়ি মাজহাব অনুযায়ী তারাবি ২০ রাকাত পড়া হয়। এই মতের পক্ষে হজরত উমর (রা.) এর আমল এবং সাহাবীদের ঐকমত্য রয়েছে।
তবে কিছু আলেমের মতে ৮ রাকাত তারাবি পড়াও জায়েজ। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানে এবং অন্য মাসে রাতে ১১ রাকাত (৮ তারাবি + ৩ বিতর) পড়তেন। প্রকৃতপক্ষে উভয় পদ্ধতিই সহীহ এবং গ্রহণযোগ্য।
তারাবির নিয়ত
তারাবির নামাজের নিয়ত মনে মনে বা মুখে করা যায়। নিয়তের আরবি শব্দ মুখস্থ না থাকলে বাংলায় নিয়ত করাও যথেষ্ট। তবে আরবিতে নিয়ত করা উত্তম।
তারাবির নিয়ত (বাংলা): "আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কিবলামুখী হয়ে ইমামের পিছনে দুই রাকাত তারাবির নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম - আল্লাহু আকবার।"
তারাবির নিয়ত (আরবি): نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّىَ لِلَّهِ تَعَالَى رَكْعَتَىْ صَلَوةِ التَّرَاوِيحِ سُنَّةُ رَسُولُ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا إِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيفَةِ اللهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাকআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা'আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।
তারাবির নামাজ দুই রাকাত করে পড়তে হয় অর্থাৎ প্রতি দুই রাকাত পর সালাম ফিরাতে হবে। ২০ রাকাত তারাবি পড়লে মোট দশবার সালাম ফিরানো হয়। প্রতি চার রাকাত (দুই সালাম) পর কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত।
তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম ও পদ্ধতি
তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম অন্যান্য নামাজের মতোই। প্রথমে নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলতে হবে। এরপর সানা পড়তে হবে। তারপর সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা বা কুরআনের কিছু অংশ পড়তে হবে। এরপর রুকু, সেজদা এবং শেষে তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরাতে হবে।
তারাবির নামাজে ইমাম সাহেব সাধারণত লম্বা কিরাত পড়েন। মুসল্লিদের মনোযোগ সহকারে ইমামের কিরাত শোনা উচিত। যদি কুরআন মুখস্থ না থাকে তাহলে অন্তত মনোযোগ দিয়ে শুনলেও সওয়াব পাওয়া যায়।
জামাতের সাথে তারাবি পড়া উত্তম। তবে কেউ যদি ঘরে একা পড়তে চান, তাহলে সেটাও জায়েজ। ঘরে পড়লেও একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে এবং দুই রাকাত করে পড়ে সালাম ফিরাতে হবে।
তারাবির নামাজের সময়
তারাবির নামাজের সময় শুরু হয় এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর এবং শেষ হয় ফজরের আগে। তবে সাধারণত এশার নামাজের পরপরই তারাবি পড়া হয়। তারাবির নামাজ বিতরের আগে পড়তে হয়। অর্থাৎ তারাবি শেষ করার পর বিতর পড়া হয়।
তারাবির বিশ্রামের সময়ের দোয়া ও তাসবিহ
তারাবির নামাজে প্রতি চার রাকাত পর বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত। এই বিশ্রামের সময় বিভিন্ন দোয়া ও তাসবিহ পড়া যায়। নিচে কিছু প্রচলিত দোয়া ও তাসবিহ দেওয়া হলো:
তাসবিহ-১
আরবি: سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
বাংলা উচ্চারণ: সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুত, সুবহানা জিল ইযযাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়াই ওয়াল জাবারুত, সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুত, সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়াররুহ।
বাংলা অর্থ: পবিত্র তিনি যিনি রাজত্ব ও আধিপত্যের মালিক। পবিত্র তিনি যিনি ইজ্জত, মহত্ত্ব, ভীতি, ক্ষমতা, বড়ত্ব ও প্রতাপের অধিকারী। পবিত্র তিনি যিনি চিরঞ্জীব বাদশাহ, যিনি নিদ্রাহীন ও মৃত্যুহীন। পবিত্র, মহাপবিত্র আমাদের রব এবং ফেরেশতা ও রূহের রব।
তাসবিহ-২
আরবি: اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ، وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ، وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ، نَرْجُو رَحْمَتَكَ، وَنَخْشَى عَذَابَكَ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না'বুদু, ওয়া লাকা নুসাল্লি ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস'আ ওয়া নাহফিদু, নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আজাবাক, ইন্না আজাবাকা বিল কুফফারি মুলহিক্ব।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি এবং সেজদা করি। আমরা তোমারই দিকে দ্রুত এগিয়ে যাই এবং তোমারই সেবায় নিয়োজিত থাকি। আমরা তোমার রহমতের আশা করি এবং তোমার আজাবকে ভয় করি। নিশ্চয়ই তোমার আজাব কাফেরদের জন্য নির্ধারিত।
সংক্ষিপ্ত তাসবিহ
যারা উপরের দোয়াগুলো মুখস্থ করতে পারেন না, তারা সংক্ষিপ্ত তাসবিহ পড়তে পারেন:
- সুবহানাল্লাহ (৩৩ বার)
- আলহামদুলিল্লাহ (৩৩ বার)
- আল্লাহু আকবার (৩৩ বার)
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির (১ বার)
অথবা দরুদ শরিফ পড়া যায় বা কুরআন তিলাওয়াত করা যায়।
তারাবির পর মুনাজাত ও দোয়া
তারাবির নামাজ শেষে মুনাজাত করা একটি উত্তম আমল। যদিও এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়, তবে দোয়া করার বিশেষ সময়। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া দেওয়া হলো:
সাধারণ মুনাজাত
আরবি: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَعَافِنَا وَاعْفُ عَنَّا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লানা ওয়ারহামনা ওয়া আ'ফিনা ওয়া'ফু আন্না ফিদ্দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, ইন্নাকা আ'লা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আমাদের নিরাপত্তা দিন এবং আমাদের পাপ মাফ করুন দুনিয়া ও আখিরাতে। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
রমজানের বিশেষ দোয়া
আরবি: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنَّا
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ'ফুউন তুহিব্বুল আ'ফওয়া ফা'ফু আন্না।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাদের ক্ষমা করে দিন।
এই দোয়াটি বিশেষভাবে লাইলাতুল কদরে পড়ার জন্য রাসুল (সা.) শিখিয়েছিলেন এবং পুরো রমজানে পড়া যায়।
ব্যক্তিগত দোয়া
তারাবির পর নিজের ভাষায়ও দোয়া করা যায়। আল্লাহ সব ভাষা বোঝেন। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, উম্মাহর জন্য এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য দোয়া করা উচিত।
মহিলাদের তারাবির নামাজ
মহিলারাও তারাবির নামাজ পড়তে পারেন। তাদের জন্যও এই নামাজের একই ফজিলত রয়েছে। তবে মহিলাদের জন্য ঘরে তারাবি পড়া উত্তম এবং বেশি সওয়াবের কাজ বলে অধিকাংশ আলেম মত দিয়েছেন।
যদি কোনো মহিলা মসজিদে গিয়ে তারাবি পড়তে চান এবং সেখানে মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকে, তাহলে তিনি যেতে পারেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মহিলাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করেননি। তবে শর্ত হলো পর্দা বজায় রেখে এবং সতর্কতার সাথে যাওয়া।
ঘরে তারাবি পড়লে একা অথবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জামাতের সাথে পড়া যায়। স্বামী ইমাম হয়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তারাবি পড়তে পারেন। এতে পরিবারে ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সন্তানরা ছোটবেলা থেকেই তারাবির গুরুত্ব শিখতে পারে।
মহিলারা যদি কুরআন মুখস্থ না জানেন, তাহলে যতটুকু জানেন ততটুকু দিয়ে তারাবি পড়তে পারেন। অথবা কুরআন দেখে দেখে পড়তে পারেন। মূল বিষয় হলো নিয়মিত তারাবি পড়া এবং রমজানের রাত্রি জাগরণে অংশগ্রহণ করা।
উপসংহার
তারাবির নামাজ রমজান মাসের একটি বিশেষ উপহার এবং এই ফজিলতপূর্ণ ইবাদত থেকে বঞ্চিত না হওয়া উচিত। সঠিক নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া সহকারে তারাবি পড়লে অসীম সওয়াব লাভ করা যায় বলে আশা করা যায়। প্রতি চার রাকাত পর বিশ্রামের সময় তাসবিহ পড়া এবং তারাবি শেষে মুনাজাত করা তারাবির পূর্ণতা বৃদ্ধি করে।
পুরুষদের জন্য মসজিদে জামাতের সাথে এবং মহিলাদের জন্য ঘরে তারাবি পড়া উত্তম। তবে যেখানেই পড়া হোক না কেন, মনোযোগ এবং আন্তরিকতার সাথে পড়া উচিত। তারাবিতে কুরআন তিলাওয়াত শোনা এবং এর অর্থ বুঝার চেষ্টা করা আমাদের কুরআনের সাথে সম্পর্ক গভীর করে।
আসুন, এই রমজানে আমরা নিয়মিত তারাবির নামাজ পড়ি, বিশ্রামের সময় তাসবিহ পড়ি এবং শেষে আন্তরিক মুনাজাত করি। তারাবি শুধু একটি নামাজ নয়, এটি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের একটি মাধ্যম। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তারাবির নামাজ নিয়মিত পড়ার এবং এর পূর্ণ ফায়দা লাভ করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. তারাবির নামাজ কত রাকাত পড়া উচিত?
তারাবির নামাজ ২০ রাকাত পড়া সবচেয়ে প্রচলিত এবং অধিকাংশ আলেমের মতে উত্তম। হানাফি, মালেকি ও শাফেয়ি মাজহাব অনুযায়ী ২০ রাকাত পড়া হয়। তবে কিছু আলেমের মতে ৮ রাকাত পড়াও জায়েজ। উভয় পদ্ধতিই সহীহ এবং গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশসহ অধিকাংশ মুসলিম দেশে ২০ রাকাত তারাবির প্রচলন রয়েছে। প্রতি দুই রাকাত পর সালাম ফিরিয়ে পড়তে হয়।
২. তারাবির বিশ্রামের সময় কী পড়তে হয়?
তারাবির প্রতি চার রাকাত পর বিশ্রামের সময় বিভিন্ন তাসবিহ ও দোয়া পড়া যায়। "সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুত" অথবা "আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না'বুদু" দোয়া পড়া যায়। এছাড়া সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার পড়া যায়। দরুদ শরিফ বা কুরআন তিলাওয়াত করাও জায়েজ। মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর জিকিরে সময় কাটানো।
৩. তারাবির পর মুনাজাত করা কি জরুরি?
তারাবির পর মুনাজাত করা ফরজ বা ওয়াজিব নয়, তবে এটি একটি উত্তম আমল এবং দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। রমজানে বিশেষভাবে "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ'ফুউন তুহিব্বুল আ'ফওয়া ফা'ফু আন্না" দোয়াটি পড়া উৎসাহিত করা হয়েছে। নিজের ভাষায়ও দোয়া করা যায়। তবে দীর্ঘ মুনাজাত করে অন্যদের কষ্ট দেওয়া উচিত নয়।
৪. তারাবির নামাজ কি কুরআন দেখে পড়া যায়?
হ্যাঁ, তারাবির নামাজ কুরআন দেখে পড়া যায়। বিশেষ করে যারা কুরআন মুখস্থ জানেন না তাদের জন্য কুরআন দেখে পড়া জায়েজ। অনেক মসজিদে ইমাম সাহেব কুরআন দেখে তারাবি পড়ান এবং পাশে একজন হাফেজ সাহেব দাঁড়িয়ে থাকেন যিনি ভুল হলে ধরিয়ে দেন। ঘরে একা পড়লেও কুরআন দেখে পড়া যায়।
৫. তারাবি ছুটে গেলে কী করব?
তারাবি হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা নামাজ এবং এর কাজা নেই। যদি কোনো রাতে তারাবি ছুটে যায়, তাহলে পরে তার কাজা আদায় করা যায় না। তবে পরবর্তী রাতগুলোতে নিয়মিত তারাবি পড়ার চেষ্টা করা উচিত। যদি সম্পূর্ণ তারাবি পড়া সম্ভব না হয়, তাহলে যতটুকু পারা যায় ততটুকু পড়া উত্তম। মূল বিষয় হলো রমজানের রাত্রি জাগরণে অংশগ্রহণ করা।
.jpeg)