কাযা নামাজের আয়াদের নিয়ত | দলিলসহ | kaja namajer niyat | kaja namaje niom | Hossain Islamic tips

 

কাযা নামাজের পরিচয় ও আদায়ের নিয়ম | দলিলসহ

ভূমিকা

ইসলামে ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ সময়মতো আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কখনও কখনও ব্যক্তিগত কারণে নামাজ বাদ পড়ে যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে, বাদ পড়া নামাজ “কাযা নামাজ” হিসেবে পূরণ করা হয়।

কাযা নামাজ হলো নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ আদায় করা, যাতে নামাজের ফরজ বা ওয়াজিবত্ব পূর্ণ হয় এবং আল্লাহর কাছে বন্ধুর মতো দায়িত্ব পালন করা যায়।


কাযা নামাজের সংজ্ঞা

নির্ধারিত ওয়াক্তে ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে না পারলে, সময় শেষ হওয়ার পর তা আদায় করাকে কাযা নামাজ বলা হয়।

  • ফরজ নামাজের কাজা → ফরজের কাজা

  • ওয়াজিব নামাজের কাজা → ওয়াজিবের কাজা

📖 আল্লাহ তাআলা বলেন:
"যে ব্যক্তি কোনো ফরজ নামাজ সময়মতো পড়তে না পারে, সে পরে তা পূরণ করবে।"
— সহীহ হাদীসের সারমর্ম


কাযা নামাজ আদায়ের সময়

কাযা নামাজ পড়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। নামাজের সময় পার হলে, যখনই মনে পড়ে, তখনই নামাজ আদায় করতে হয়।

উদাহরণ:

  • কেউ ঘুমের কারণে ফজরের নামাজ পড়তে না পারে → ঘুম থেকে উঠলে তা কাযা করবে

  • তবে নিষিদ্ধ সময়ে নামাজ (সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, দুপুরের অতি উত্তপ্ত সময়) পড়া যাবে না


কাযা নামাজের আরবী নিয়ত


নাওয়াইতু আন আকদিয়া লিল্লাহি তায়ালা রকতায় সালাতিল ( ফাজরিল ) ফায়িতাতি ফারদুল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কারাতিশ শারীফাতি।। আল্লাহু আকবার।


এটি ফজরের দুরাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত। 


যে নামাজের কাজা আদায় করবেন ঐ নামাজের নাম বলবেন,, সালাতি পরে এবং ফায়িতাতি আগে। আশা করে বুঝতে পেরেছেন। না বুঝলে উপরের ভিডিও  টি দেখুন।



কাযা নামাজের বাংলা নিয়ত।


ফজরের দুরাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত।


আমি কেবলা মুখি হয়ে আল্লাহর জন্য ফজরের দুরাকাত ফরজ নামাজের কাযা আদায় করার নিয়ত করলাম।আল্লাহু আকবার।


যোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত।


আমি কেবলা মুখি হয়ে আল্লাহর জন্য যোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের কাযা আদায় করার নিয়ত করলাম।আল্লাহু আকবার।


আসরের চার রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত।


আমি কেবলা মুখি হয়ে আল্লাহর জন্য আসরের চার রাকাত  ফরজ নামাজের কাযা আদায় করার নিয়ত করলাম।আল্লাহু আকবার।

মাগরিবের কাযা নামাজের নিয়ত।

আমি কেবলা মুখি হয়ে আল্লাহর জন্য মাগরিবের তিন রাকাত  ফরজ নামাজের কাযা আদায় করার নিয়ত করলাম।আল্লাহু আকবার।

 এশার কায়া নামাজের  নিয়ত।

আমি কেবলা মুখি হয়ে আল্লাহর জন্য এশার চার রাকাত  ফরজ নামাজের কাযা আদায় করার নিয়ত করলাম।আল্লাহু আকবার।

প্রিয় দর্শক শ্রোতা এভাবে নিয়ত করে নামাজ আদায় করলে নামাজ  আদায় হয়ে যাবে।

কাযা নামাজের সুনির্দিষ্ট নিয়ম

  1. নিয়ত: কেবল মুখস্থ বা মানসিকভাবে কাযা নামাজের উদ্দেশ্য জানাতে হবে

  2. সালাম ও তাকবীর: ফরজ নামাজের নিয়ম অনুযায়ী

  3. রুকু ও সিজদা: ফরজ নামাজের মতো

  4. নিষিদ্ধ সময় এড়ানো: সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়


উপসংহার

কাযা নামাজ হলো হিসাবের ফরজ ও ওয়াজিব পূরণের মাধ্যম। নির্ধারিত সময়ে নামাজ বাদ পড়লেও, মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কায়দা অনুযায়ী আদায় করলে নামাজ পূর্ণ হবে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url