সূরা ফাতিহার ফজিলত ও গুরুত্ব | কুরআন ও হাদীসের আলোকে
সূরা ফাতিহার ফজিলত ও গুরুত্ব | কুরআন ও হাদীসের আলোকে
ভূমিকা
ইসলামে কুরআনের প্রতিটি সূরা ও আয়াতের নিজস্ব গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে। তবে কিছু সূরা এমন আছে, যেগুলো বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্যে ভরপুর। সূরা ফাতিহা তেমনই একটি মহিমান্বিত সূরা। এটি কেবল নামাজের অংশ নয়, বরং মুমিনের জীবন পরিচালনার জন্য এক অনন্য দিকনির্দেশনা। এই লেখায় আমরা সূরা ফাতিহার ফজিলত, গুরুত্ব এবং হাদীসে বর্ণিত এর কিছু উপকারিতা সম্পর্কে সংক্ষেপে জানব।
সূরা ফাতিহা: কুরআনের শ্রেষ্ঠ সূরা
একদিন সাহাবি হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,
“তুমি কি চাও, আমি তোমাকে কুরআনের এমন একটি সূরা শিখিয়ে দিই, যার মতো তাওরাত, যাবুর, ইনজিল এমনকি কুরআনেও আর কোনো সূরা নেই?”
উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) সম্মতি জানালে রাসূল ﷺ তাকে নামাজে পড়া কিরাআত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করেন। তখন রাসূল ﷺ বলেন—
“যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! এটাই সেই মহিমান্বিত সূরা। এর নাম সূরা ফাতিহা।”
(হাদীসের মর্মার্থ)
এ থেকে বোঝা যায়, সূরা ফাতিহা কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূরাগুলোর একটি।
সূরা ফাতিহার বিষয়বস্তু ও নামকরণ
সূরা ফাতিহা মাত্র সাত আয়াতের একটি ছোট সূরা হলেও এর অর্থ ও শিক্ষা অত্যন্ত ব্যাপক। এতে—
-
আল্লাহর প্রশংসা
-
তাঁর একত্ববাদ
-
বান্দার ইবাদত ও সাহায্য প্রার্থনা
-
সরল পথের দোয়া
সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে।
এই কারণেই সূরা ফাতিহাকে “উম্মুল কুরআন” বা “কুরআনের সারাংশ” বলা হয়।
সূরা ফাতিহা ও হাদীসে বর্ণিত উপকারিতা
হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনায় সূরা ফাতিহার বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ এসেছে।
🔹 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ সূরা ফাতিহাকে রোগের জন্য উপকারী দোয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন (মর্মার্থ)।
🔹 কিছু বর্ণনায় দেখা যায়, সাহাবায়ে কেরাম সূরা ফাতিহা দোয়া হিসেবে পাঠ করতেন এবং রাসূল ﷺ তা অনুমোদন করেছেন।
🔹 আরও কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ আছে, রাসূল ﷺ অসুস্থ অবস্থায় দোয়ার সময় কুরআনের আয়াত পাঠ করতেন, যা থেকে বোঝা যায়—কুরআনের দোয়া পাঠ করা একটি বরকতময় আমল।
👉 এখানে মনে রাখা জরুরি, সূরা ফাতিহা পড়া কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং এটি দোয়া ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার একটি মাধ্যম।
আরো পড়ুন:👉 অজুর গুরুত্ব ও শুদ্ধতা | কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে
সূরা ফাতিহা কেন বারবার পড়া হয়?
নামাজের প্রতিটি রাকাআতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা ফরজ। এর কারণ হলো—
-
এটি বান্দা ও আল্লাহর মাঝে সরাসরি কথোপকথনের মতো
-
প্রতিদিন বারবার পড়লে ঈমান দৃঢ় হয়
-
মানুষ সঠিক পথে থাকার দোয়া করে
এজন্য সূরা ফাতিহা মুমিনের জীবনে প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল।
সূরা ফাতিহা থেকে আমাদের শিক্ষা
সূরা ফাতিহা আমাদের শেখায়—
-
আল্লাহই একমাত্র উপাস্য
-
সব সাহায্য তাঁর কাছেই চাইতে হবে
-
সঠিক পথে চলার জন্য নিয়মিত দোয়া করা জরুরি
-
গোমরাহ ও পথভ্রষ্টতার পথ থেকে দূরে থাকতে হবে
উপসংহার
সূরা ফাতিহা কুরআনের হৃদয়স্বরূপ একটি সূরা। এটি শুধু নামাজের অংশ নয়, বরং একজন মুসলমানের ঈমান, দোয়া ও জীবনদর্শনের কেন্দ্রবিন্দু। হাদীসের আলোকে এর ফজিলত ও গুরুত্ব আমাদের আরও বেশি করে এই সূরার প্রতি মনোযোগী হওয়ার শিক্ষা দেয়। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন সূরা ফাতিহা অর্থসহকারে পড়া, বোঝার চেষ্টা করা এবং এর শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআনের আলোয় জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

