🛍️

Islamic Shopping

ইসলামিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সুন্দর পণ্য

View All →
Featured Islamic Prayer Mat

Premium Islamic Prayer Mat

আরামদায়ক ও সুন্দর ডিজাইনের নামাজের জায়নামাজ।

Check Price →
Popular Digital Tasbih

Digital Tasbih

দৈনন্দিন জিকির গণনার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল তাসবিহ।

Check Price →
Wooden Quran Stand

Wooden Quran Stand

কুরআন পড়ার সময় ব্যবহারের জন্য সুন্দর কাঠের স্ট্যান্ড।

Check Price →
Gift Islamic Gift

Islamic Gift Collection

পরিবার ও প্রিয়জনের জন্য সুন্দর ইসলামিক উপহার।

Check Price →
Affiliate Disclosure: এই Shopping Section-এর কিছু লিংক affiliate link হতে পারে। আপনি এসব লিংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য কিনলে আপনার অতিরিক্ত কোনো খরচ ছাড়াই আমরা কমিশন পেতে পারি।

যে আল্লাহকে ভয় পায়, সে মানুষকে ভয় পায় না

 যে আল্লাহকে ভয় পায়, সে মানুষকে ভয় পায় না: কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে তাকওয়ার শক্তি

allahvithi o taqwa - jhorer pore shanto akashe ekla dandano gach

ভূমিকা

অফিসে বস বললেন, হিসাবটা একটু এদিক-ওদিক করে দিতে। না বললে হয়তো প্রমোশন আটকে যাবে। আত্মীয়দের আড্ডায় সবাই একজনের গীবত করছে, চুপ থাকলে মনে হবে আপনি আলাদা। বন্ধুরা এমন কিছু করতে বলছে, যা আপনার বিবেকে বাধে।

এমন মুহূর্তে মনের ভেতর একটা টানাপোড়েন চলে। মানুষ কী বলবে, কী ভাববে, কী ক্ষতি করবে, এই ভয় অনেক সময় আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

কুরআন এখানে একটি অসাধারণ সমাধান দেয়। যার অন্তরে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা গভীর হয়, মানুষের ভয় তার ওপর আর আগের মতো প্রভাব ফেলতে পারে না।

এই লেখায় আমরা দেখব, আল্লাহভীতি আসলে কী, কীভাবে এটি মানুষকে মানুষের ভয় থেকে মুক্ত করে, নবী-রাসূলদের জীবনে এর দৃষ্টান্ত, আর দৈনন্দিন জীবনে এই সাহস কীভাবে প্রজ্ঞার সঙ্গে চর্চা করা যায়।

১. আল্লাহভীতি কী: আতঙ্ক নয়, সম্মানমিশ্রিত ভালোবাসা

"আল্লাহকে ভয় করা" শুনলে অনেকের মনে একটা আতঙ্কের ছবি আসে। কিন্তু ইসলামে আল্লাহভীতি মানে এমন ভয় নয়, যা মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়।

কুরআনে এর জন্য কয়েকটি শব্দ এসেছে। "তাকওয়া" মানে সচেতনতা ও সাবধানতা, যেন আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এমন কিছু না করি। "খাশইয়া" মানে জ্ঞান ও সম্মান থেকে জন্ম নেওয়া ভয়। সূরা ফাতিরের ২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই তাঁকে প্রকৃত অর্থে ভয় করে।

একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝা যায়। একজন সন্তান তার অত্যন্ত স্নেহশীল বাবা-মাকে ভালোবাসে। সে তাদের কষ্ট দিতে "ভয়" পায়, কারণ সে তাদের সম্মান করে এবং তাদের অসন্তুষ্টি সহ্য করতে পারে না। এই ভয় ভালোবাসা থেকেই আসে।

ভয় ও আশার ভারসাম্য

সূরা আস-সাজদার ১৬ নম্বর আয়াতে মুমিনদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তারা ভয় ও আশা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে। সূরা আল-ইসরার ৫৭ নম্বর আয়াতেও এসেছে, তারা আল্লাহর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে।

অর্থাৎ আল্লাহভীতি সবসময় আশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। এটি মানুষকে হতাশ করে না, বরং সঠিক পথে রাখে।

২. কুরআনের নির্দেশ: "মানুষকে নয়, আমাকে ভয় করো"

কুরআনে একাধিক জায়গায় আল্লাহ তাআলা মুমিনদের মানুষের ভয়ের বদলে তাঁকে ভয় করতে বলেছেন।

সূরা আলে ইমরানের ১৭৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, শয়তানই তার বন্ধুদের ভয় দেখায়। তাই তোমরা তাদের ভয় করো না, আমাকে ভয় করো, যদি তোমরা মুমিন হও।

সূরা আল-মায়েদার ৪৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সরাসরি বলেছেন, তোমরা মানুষকে ভয় করো না, আমাকে ভয় করো।

সূরা আত-তাওবার ১৩ নম্বর আয়াতে একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছে: তোমরা কি তাদের ভয় করো? অথচ আল্লাহই ভয় পাওয়ার বেশি হকদার, যদি তোমরা মুমিন হও।

নবীদের বৈশিষ্ট্য

সূরা আল-আহযাবের ৩৯ নম্বর আয়াতে নবী-রাসূলদের একটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে: তারা আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দেন, তাঁকে ভয় করেন, এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করেন না।

এই আয়াতগুলো একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্য তুলে ধরে। মানুষের হৃদয়ে ভয়ের জায়গা সীমিত। সেখানে আল্লাহর ভয় যত বড় হয়, মানুষের ভয় তত ছোট হয়ে আসে।

৩. লাভ-ক্ষতি আসলে কার হাতে

মানুষকে ভয় পাওয়ার মূল কারণ হলো, আমরা মনে করি তারা আমাদের ক্ষতি করতে পারে বা কোনো উপকার আটকে দিতে পারে। রাসূল ﷺ এই ধারণার মূলে গিয়ে একটি অসাধারণ শিক্ষা দিয়েছেন।

জামে তিরমিযীর ২৫১৬ নম্বর হাদীসে (হাসান সহিহ) রাসূল ﷺ তরুণ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বলেছিলেন: জেনে রাখো, পুরো উম্মত যদি একত্রিত হয়ে তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তারা ততটুকুই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর তারা সবাই মিলে যদি তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়, তারা ততটুকুই পারবে, যতটুকু আল্লাহ লিখে রেখেছেন। কলম তুলে নেওয়া হয়েছে, আর খাতার কালি শুকিয়ে গেছে।

রিজিক ও জীবন আল্লাহর হাতে

সূরা হুদের ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, জমিনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর। সূরা আল-আ'রাফের ৩৪ নম্বর আয়াতে এসেছে, প্রত্যেক জাতির একটি নির্ধারিত সময় আছে, যা এক মুহূর্তও আগে-পিছে হয় না।

এই বিশ্বাস যখন অন্তরে বসে যায়, তখন বসের রাগ, সমাজের সমালোচনা বা কারও হুমকি আর আগের মতো কাবু করতে পারে না। কারণ মানুষ বুঝতে পারে, শেষ সিদ্ধান্ত আসলে কার হাতে।

৪. মানুষকে খুশি করার ফাঁদ

আজকের যুগে "মানুষ কী বলবে" এই চিন্তা অনেক বড় হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, প্রশংসা, অন্যের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টায় অনেকে নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গেও আপস করে ফেলেন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস

জামে তিরমিযীর ২৪১৪ নম্বর হাদীসে আয়েশা (রা.) মুআবিয়া (রা.)-কে একটি চিঠিতে রাসূল ﷺ-এর একটি বাণী লিখে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়েছে, যে মানুষের অসন্তুষ্টির বিনিময়েও আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজে, আল্লাহ মানুষের ব্যাপারে তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষের সন্তুষ্টি খোঁজে, আল্লাহ তাকে মানুষের হাতেই ছেড়ে দেন।

কী গভীর কথা! মানুষকে খুশি রাখতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করলে শেষে মানুষও পুরোপুরি খুশি হয় না, আর আল্লাহর সাহায্যও হাতছাড়া হয়।

লোক দেখানো ইবাদত

সহিহ মুসলিমের ২৯৮৫ নম্বর হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি শরিকদের শরিকানা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। কেউ কোনো আমলে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করলে, আল্লাহ সেই আমল তার শরিকের জন্যই ছেড়ে দেন। অর্থাৎ মানুষকে দেখানোর জন্য করা ইবাদতও এই ফাঁদেরই অংশ।

৫. নবী-রাসূল ও সাহাবিদের সাহসের দৃষ্টান্ত

আল্লাহভীতি কীভাবে মানুষকে নির্ভীক করে, তার সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ পাওয়া যায় নবী-রাসূল ও সাহাবিদের জীবনে।

ইবরাহিম (আ.): আগুনের সামনে

এক আল্লাহর ইবাদতের দাওয়াত দেওয়ার কারণে ইবরাহিম (আ.)-কে বিশাল আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সহিহ বুখারীর ৪৫৬৩ নম্বর হাদীস অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে তাঁর মুখে ছিল "হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল" (আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট)। সূরা আল-আম্বিয়ার ৬৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আগুনকে তাঁর জন্য শীতল ও নিরাপদ করে দিয়েছিলেন।

আবু বকর (রা.): গুহার ভেতরে

হিজরতের সময় শত্রুরা যখন সাওর গুহার মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল, আবু বকর (রা.) রাসূল ﷺ-এর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়েছিলেন। সূরা আত-তাওবার ৪০ নম্বর আয়াতে এসেছে, রাসূল ﷺ তখন তাঁকে বলেছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।

বিলাল (রা.): "আহাদ, আহাদ"

সীরাত গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত আছে, ইসলাম গ্রহণের কারণে বিলাল (রা.)-কে মক্কার উত্তপ্ত বালুতে শুইয়ে বুকে ভারী পাথর চাপা দেওয়া হতো। কিন্তু তাঁর মুখ থেকে শুধু বের হতো, "আহাদ, আহাদ", আল্লাহ এক, আল্লাহ এক।

এই মানুষগুলো ভয়হীন ছিলেন না, তাঁরা মানুষ ছিলেন। কিন্তু তাঁদের অন্তরে আল্লাহর ওপর আস্থা এত গভীর ছিল যে, মানুষের ভয় সেখানে জায়গা পায়নি।

৬. স্বাভাবিক ভয় কি দোষের? একটি ভারসাম্য

এতক্ষণের আলোচনা পড়ে কারও মনে হতে পারে, তাহলে কি মুমিনের মনে কোনো ভয়ই থাকবে না? উত্তর হলো, স্বাভাবিক ভয় আর আল্লাহর অবাধ্যতার কারণ হয়ে ওঠা ভয় এক জিনিস নয়।

মুসা (আ.)-এর স্বাভাবিক ভয়

সূরা ত্বা-হার ৬৭ ও ৬৮ নম্বর আয়াতে এসেছে, জাদুকরদের দড়ি সাপের মতো নড়তে দেখে মুসা (আ.)-এর মনে ভয় জেগেছিল। আল্লাহ তাঁকে বলেছিলেন, ভয় পেয়ো না, তুমিই বিজয়ী হবে। সূরা আল-কাসাসের ২১ নম্বর আয়াতেও এসেছে, তিনি ভয়ে সতর্কতার সঙ্গে শহর ছেড়েছিলেন।

অর্থাৎ বিপদ দেখে ভয় পাওয়া মানুষের স্বাভাবিক প্রকৃতি। একজন নবীও এটি অনুভব করেছেন।

সতর্কতাও ইসলামের শিক্ষা

জামে তিরমিযীর ২৫১৭ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ আগে উট বেঁধে তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করতে বলেছেন। তাই নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সতর্কতা অবলম্বন করা, বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা, প্রয়োজনে আইনের সাহায্য নেওয়া, এসবও আল্লাহভীতির পরিপন্থী নয়।

আসল পার্থক্য

মূল বিষয় হলো, মানুষের ভয় যেন আমাদের দিয়ে মিথ্যা বলানো, অন্যায় করানো বা আল্লাহর কোনো স্পষ্ট নির্দেশ লঙ্ঘন করাতে না পারে। আল্লাহভীতি মানে বেপরোয়া হওয়া নয়, বরং সঠিক জায়গায় দৃঢ় থাকা।

৭. বাস্তব জীবনে সততা ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো

আল্লাহভীতির আসল পরীক্ষা হয় দৈনন্দিন ছোট ছোট সিদ্ধান্তে।

কর্মক্ষেত্রে

সহিহ বুখারী (৭২৫৭) ও সহিহ মুসলিমের (১৮৪০) হাদীসে রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, আনুগত্য শুধু ভালো কাজে। অর্থাৎ বস বা ঊর্ধ্বতন কেউ যদি ঘুষ নিতে, হিসাবে কারচুপি করতে বা মিথ্যা রিপোর্ট দিতে বলেন, সেখানে বিনয়ের সঙ্গে "না" বলাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।

অন্যায় দেখলে

সহিহ মুসলিমের ৪৯ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ কোনো অন্যায় দেখলে হাত দিয়ে তা পরিবর্তন করবে, না পারলে মুখ দিয়ে, তাও না পারলে অন্তত অন্তরে তা ঘৃণা করবে।

আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, "হাত দিয়ে" পরিবর্তনের দায়িত্ব মূলত যার সে ক্ষমতা ও অধিকার আছে, যেমন বাবা-মা নিজের সংসারে বা প্রশাসন নিজের এখতিয়ারে। সাধারণ মানুষের জন্য আইনের সীমার মধ্যে থেকে কথা বলা বা দায়িত্বশীলদের জানানোই সঠিক পথ।

প্রজ্ঞা ও নম্রতা

সূরা আন-নাহলের ১২৫ নম্বর আয়াতে প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর পথে ডাকতে বলা হয়েছে। সত্য বলার সাহস আর কঠোরতা এক জিনিস নয়। নম্র ভাষায়, সঠিক সময়ে, সঠিক মানুষকে সত্য বলাই প্রকৃত প্রজ্ঞা।

৮. যে আল্লাহর হয়ে যায়, আল্লাহ তার হয়ে যান

আল্লাহভীতির সবচেয়ে সুন্দর ফল হলো আল্লাহর বিশেষ সাহায্য ও নৈকট্যের আশা।

সহিহ বুখারীর ৬৫০২ নম্বর হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ জানিয়েছেন, বান্দা ফরজ ইবাদত ও নফলের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করতে থাকলে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। তখন আল্লাহ তার কান হয়ে যান যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যান যা দিয়ে সে দেখে। আর সে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে দেন, আশ্রয় চাইলে আশ্রয় দেন।

আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন, এর অর্থ আল্লাহ তার প্রতিটি কাজে বিশেষ তত্ত্বাবধান ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেন।

আল্লাহভীরুদের জন্য পথ খুলে যায়

সূরা আত-তালাকের ২ ও ৩ নম্বর আয়াতে এসেছে, যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ করে দেন এবং এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করে না।

হয়তো সৎ থাকার কারণে একটি প্রমোশন হাতছাড়া হলো। কিন্তু এই আয়াত আশা দেয়, আল্লাহ হয়তো এর চেয়ে উত্তম কোনো দরজা খুলে দেবেন, যা আমরা এখন কল্পনাও করতে পারছি না।

৯. কীভাবে অন্তরে আল্লাহভীতি বাড়ানো যায়

আল্লাহভীতি একদিনে আসে না। এটি ধীরে ধীরে চর্চা ও যত্নের মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

আল্লাহকে জানা

সূরা ফাতিরের ২৮ নম্বর আয়াত অনুযায়ী জ্ঞানই প্রকৃত আল্লাহভীতির উৎস। আল্লাহর নাম ও গুণাবলি নিয়ে পড়া, কুরআনের অর্থ বুঝে তিলাওয়াত করা, এগুলো আল্লাহর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা বাড়ায়।

নিয়মিত জিকির ও আত্মসমালোচনা

প্রতিদিন রাতে ভাবুন, আজ কোথায় মানুষের ভয়ে বা মানুষকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহর পছন্দের বিপরীতে কিছু করেছি? এই আত্মসমালোচনা ধীরে ধীরে অন্তরকে শক্ত করে।

ভালো সঙ্গ

এমন মানুষের সঙ্গে থাকুন, যারা সত্যের পক্ষে থাকে এবং আল্লাহকে মনে করিয়ে দেয়।

দোয়া

সহিহ মুসলিমের ২৭২১ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ-এর একটি দোয়া এসেছে: "আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুকা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা" (হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা প্রার্থনা করি)। এই দোয়াটি নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করুন।

উপসংহার

মানুষের ভয় আমাদের অনেক সময় সত্য থেকে, সততা থেকে, এমনকি নিজের বিবেক থেকেও দূরে সরিয়ে দেয়। কুরআন ও সহিহ হাদীস আমাদের শেখায়, লাভ-ক্ষতির চাবি আল্লাহর হাতে, আর যে আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান বলে আশা দেওয়া হয়েছে।

তবে আল্লাহভীতি মানে বেপরোয়া হওয়া নয়। স্বাভাবিক সতর্কতা, প্রজ্ঞা ও নম্রতার সঙ্গে সত্যের পক্ষে থাকাই প্রকৃত তাকওয়া।

আজ থেকে এই সাহস চর্চা শুরু করতে পারেন এভাবে:

  1. এই সপ্তাহে এমন একটি ছোট পরিস্থিতি খুঁজুন, যেখানে "মানুষ কী বলবে" ভেবে সঠিক কাজটি এড়িয়ে যান, এবং এবার বিনয়ের সঙ্গে সঠিকটি করুন।
  2. প্রতিদিন সহিহ মুসলিমের "আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুকা..." দোয়াটি পড়ুন।
  3. রাতে ঘুমানোর আগে দুই মিনিট ভাবুন, আজ কোন সিদ্ধান্ত আল্লাহর জন্য নিয়েছি, আর কোনটা মানুষের ভয়ে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার অন্তরে তাঁর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা মিশ্রিত ভয় দান করুন, যা আমাদের মানুষের ভয় থেকে মুক্ত করে সত্যের পথে দৃঢ় রাখবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ইসলামে আল্লাহকে ভয় করার অর্থ কী?

ইসলামে আল্লাহভীতি বা তাকওয়া মানে আতঙ্ক নয়, বরং আল্লাহর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা থেকে জন্ম নেওয়া সচেতনতা, যাতে তিনি অসন্তুষ্ট হন এমন কিছু না করা হয়। সূরা আস-সাজদার (১৬) আয়াত অনুযায়ী এই ভয় সবসময় আশার সঙ্গে থাকে।

২. কুরআনে মানুষকে ভয় না করার কথা কোথায় এসেছে?

সূরা আল-মায়েদার (৪৪) আয়াতে আল্লাহ সরাসরি বলেছেন, মানুষকে ভয় করো না, আমাকে ভয় করো। সূরা আলে ইমরানের (১৭৫) ও সূরা আত-তাওবার (১৩) আয়াতেও একই বার্তা এসেছে।

৩. বিপদে ভয় পাওয়া কি ঈমানের দুর্বলতা?

না। সূরা ত্বা-হার (৬৭) আয়াতে এসেছে, মুসা (আ.)-ও স্বাভাবিক ভয় অনুভব করেছিলেন। স্বাভাবিক ভয় ও সতর্কতা দোষের নয়। সমস্যা তখনই, যখন মানুষের ভয় আমাদের দিয়ে অন্যায় করায় বা আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করায়।

৪. মানুষকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করলে কী হয়?

জামে তিরমিযীর (২৪১৪) হাদীস অনুযায়ী, যে আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষের সন্তুষ্টি খোঁজে, আল্লাহ তাকে মানুষের হাতেই ছেড়ে দেন। আর যে মানুষের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টি খোঁজে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।

৫. অন্তরে আল্লাহভীতি কীভাবে বাড়ানো যায়?

আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জানা (সূরা ফাতির ২৮), কুরআন বুঝে পড়া, নিয়মিত জিকির ও আত্মসমালোচনা, ভালো সঙ্গ এবং সহিহ মুসলিমের (২৭২১) "আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুকা..." দোয়াটি নিয়মিত পড়ার মাধ্যমে আল্লাহভীতি বাড়ানো যায়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url