তারাবিহতে কুরআন খতম শোনার ফজিলত ও আদব
তারাবিহতে কুরআন খতম শোনার ফজিলত ও গুরুত্ব
ভূমিকা
রমজান মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তারাবিহ নামাজে কুরআন তিলাওয়াত শোনা। প্রতি রমজানে মসজিদগুলোতে ইমাম সাহেবরা তারাবিহতে সম্পূর্ণ কুরআন খতম করার চেষ্টা করেন এবং মুসল্লিরা পুরো মাস ধরে সেই তিলাওয়াত শোনেন। এই ইবাদতের বিশেষ ফজিলত ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে। কুরআন নাজিলের মাস হিসেবে রমজানে কুরআন তিলাওয়াত ও শোনার গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানে জিবরিল (আ.) এর সাথে কুরআন দোহরানো করতেন (সহিহ বুখারি: ৬)। তারাবিহতে কুরআন খতম শোনা এই সুন্নতের একটি অনুসরণ এবং আল্লাহর কালামের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরির মাধ্যম। এই লেখায় আমরা তারাবিহতে কুরআন খতম শোনার ফজিলত, উপকারিতা এবং সঠিক আদব সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।
কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফজিলত
কুরআন তিলাওয়াত শোনা একটি মহান ইবাদত এবং এর জন্য বিশেষ সওয়াব রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন যে কুরআন পাঠ করা হলে তা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং চুপ থাকা উচিত যাতে রহমত লাভ করা যায় (সূরা আরাফ: ২০৪)। এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে কুরআন শোনার সময় মনোযোগী থাকা এবং নীরব থাকা আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম। তারাবিহতে কুরআন শোনা এই আদেশের একটি বাস্তব প্রয়োগ।
হাদিসে এসেছে যে কুরআনের প্রতিটি হরফ তিলাওয়াত করলে দশটি নেকি পাওয়া যায় (তিরমিজি: ২৯১০)। যদিও এই হাদিস মূলত তিলাওয়াতকারীর জন্য, তবে শ্রোতারাও বিশেষ সওয়াব পান বলে আশা করা যায়। বিশেষভাবে যখন কেউ নামাজে দাঁড়িয়ে মনোযোগ সহকারে কুরআন শোনেন, তখন তিনি শুধু শ্রোতা নন বরং নামাজের অংশীদার এবং ইবাদতকারী। তারাবিহতে কুরআন খতম শোনার মাধ্যমে একজন মুসলমান পুরো কুরআনের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান এবং এর বিধান, উপদেশ ও দিকনির্দেশনা থেকে উপকৃত হতে পারেন।
তারাবিহতে খতম শোনার বিশেষত্ব
তারাবিহতে কুরআন খতম শোনার বিশেষত্ব হলো এটি একটি সংগঠিত এবং নিয়মিত ইবাদত। রমজানের ৩০ রাত বা ২৯ রাত ধরে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআন তিলাওয়াত করা হয় যাতে পুরো কুরআন শেষ হয়। এই ধারাবাহিকতা একজন মুসল্লিকে সম্পূর্ণ কুরআনের বার্তা পৌঁছে দেয়। যারা নিজে কুরআন পড়তে পারেন না বা সময় করে উঠতে পারেন না, তারা তারাবিহতে এসে পুরো কুরআন শোনার সুযোগ পান।
তারাবিহতে খতম শোনার আরেকটি বিশেষত্ব হলো এটি জামাতের সাথে হয়। একা কুরআন তিলাওয়াত শোনার চেয়ে জামাতে শোনার আলাদা আনন্দ ও আধ্যাত্মিক প্রভাব রয়েছে। মসজিদের পরিবেশ, অন্যান্য মুসল্লিদের সাথে একত্রে দাঁড়ানো এবং সম্মিলিতভাবে আল্লাহর কালাম শোনা হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। এছাড়া তারাবিহ নামাজের মধ্যে কুরআন শোনার মানে হলো নামাজের সওয়াবের সাথে কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব একসাথে পাওয়া। এটি দ্বিগুণ ফজিলতের একটি মাধ্যম বলে আশা করা যায়।
কুরআন খতম শোনার আদব ও শিষ্টাচার
তারাবিহতে কুরআন খতম শোনার সময় কিছু আদব ও শিষ্টাচার মেনে চলা উচিত। প্রথমত, মনোযোগ সহকারে শোনা অত্যন্ত জরুরি। কুরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে কুরআন পাঠকালে মনোযোগ দিতে হবে এবং চুপ থাকতে হবে। তারাবিহতে দাঁড়িয়ে বা বসে অন্যমনস্ক হয়ে বা কথা বলে সময় কাটানো উচিত নয়। প্রতিটি শব্দ মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করা উচিত যদিও সব বুঝা না যায়।
দ্বিতীয়ত, বিনয় ও খুশু বজায় রাখা। কুরআন আল্লাহর কালাম এবং এটি শোনার সময় অন্তরে আল্লাহর ভয় ও সম্মান থাকা উচিত। যখন আল্লাহর গুণাবলী, জান্নাতের বর্ণনা বা জাহান্নামের ভয়াবহতার আয়াত তিলাওয়াত হয় তখন অন্তর সেই অনুযায়ী প্রভাবিত হওয়া উচিত। তৃতীয়ত, নীরবতা রক্ষা করা। তারাবিহতে কথা বলা, মোবাইল ব্যবহার করা বা অন্যকে বিরক্ত করা কুরআনের অসম্মান এবং অন্যদের ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। চতুর্থত, পুরো খতম শেষ করার চেষ্টা করা। যদি সম্ভব হয় তাহলে পুরো রমজান ধরে নিয়মিত তারাবিহতে উপস্থিত থেকে সম্পূর্ণ খতম শোনা উচিত।
খতমের দোয়ায় অংশগ্রহণ
অনেক মসজিদে খতম শেষ হওয়ার পর বিশেষ দোয়া করা হয়। এই দোয়ায় অংশগ্রহণ করা এবং আমিন বলা ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে এসেছে যে যখন ইমাম দোয়া করেন এবং আপনি আমিন বলেন তখন ফেরেশতারাও আমিন বলেন (সহিহ বুখারি: ৭৮০)। তাই খতমের দোয়া মনোযোগ সহকারে শোনা এবং হৃদয় থেকে আমিন বলা উচিত। এটি কুরআন খতম শোনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কুরআন না বুঝলেও শোনার ফজিলত
অনেকে প্রশ্ন করেন যে আরবি না বুঝলে তারাবিহতে কুরআন শোনার ফজিলত পাওয়া যাবে কিনা। উত্তর হলো হ্যাঁ, অবশ্যই পাওয়া যাবে। কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব শুধু বুঝে শোনার জন্য নয় বরং আল্লাহর কালাম শোনার জন্যও। কুরআন নিজেই বলছে যে এটি শুনলে এবং নীরব থাকলে রহমত পাওয়া যায়, বুঝা শর্ত করা হয়নি। তবে বুঝে শুনলে অবশ্যই বেশি উপকৃত হওয়া যায় এবং কুরআনের উদ্দেশ্য পূর্ণভাবে অর্জিত হয়।
যারা আরবি বোঝেন না তাদের উচিত কুরআনের অনুবাদ পড়া এবং তাফসির পড়ে কুরআনের মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করা। রমজানে তারাবিহতে যে অংশ তিলাওয়াত হবে তার অনুবাদ আগে বা পরে পড়ে নিলে শোনার সময় আরও মনোযোগী হওয়া যায়। অনেকে প্রতিদিন তারাবিহর আগে সেদিন যে অংশ পড়া হবে তার অনুবাদ পড়ে নেন যা একটি চমৎকার অভ্যাস। এভাবে ধীরে ধীরে পুরো কুরআনের মর্মার্থ সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়। তবে না বুঝে শুনলেও সওয়াব হবে এবং কুরআনের বরকত লাভ হবে বলে আশা করা যায়।
তারাবিহতে খতম শোনার ব্যবহারিক উপকারিতা
তারাবিহতে কুরআন খতম শোনার অনেক ব্যবহারিক উপকারিতা রয়েছে। প্রথমত, এটি কুরআনের সাথে নিয়মিত সংযোগ তৈরি করে। অনেকে বছরের অন্য সময়ে কুরআন তিলাওয়াতের সময় করতে পারেন না কিন্তু রমজানে তারাবিহর মাধ্যমে পুরো কুরআনের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। দ্বিতীয়ত, এটি মসজিদে যাওয়ার একটি শক্তিশালী প্রেরণা। শুধু ফরজ নামাজের জন্য অনেকে মসজিদে যান না কিন্তু তারাবিহতে খতম শোনার আগ্রহে নিয়মিত মসজিদে যান।
তৃতীয়ত, এটি পরিবার ও সমাজে ধর্মীয় পরিবেশ তৈরি করে। যখন পরিবারের সবাই তারাবিহতে যান এবং কুরআন শোনেন তখন ঘরে ইসলামি পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বাচ্চারা ছোটবেলা থেকে এই অভ্যাস দেখে বড় হয় এবং তাদের মধ্যে কুরআনের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। চতুর্থত, এটি আত্মিক শান্তি ও প্রশান্তি দেয়। কুরআনের তিলাওয়াত মনে শান্তি আনে এবং জীবনের দুশ্চিন্তা ও সমস্যা থেকে কিছুটা মুক্তি দেয়। রমজানে প্রতিদিন তারাবিহতে কুরআন শোনা একটি আধ্যাত্মিক বিশ্রাম এবং আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্কের মাধ্যম।
তারাবিহ মিস হলে খতমের ফজিলত
কেউ যদি কোনো কারণে তারাবিহ মিস করেন বা পুরো খতম শুনতে না পারেন তাহলে কি করবেন? প্রথমত, যতটুকু সম্ভব শোনার চেষ্টা করা উচিত। যদি পুরো মাস না পারেন তাহলে যতদিন পারেন ততদিন শুনুন। আল্লাহ নিয়তের উপর সওয়াব দেন এবং যদি নিয়ত থাকে কিন্তু বৈধ কারণে পারা না যায় তাহলে সওয়াব পাওয়া যায় বলে আশা করা যায়। দ্বিতীয়ত, ঘরে বসে কুরআন তিলাওয়াত করা বা শোনা যায়। এখন অনেক অডিও কুরআন পাওয়া যায় যা শুনে ফজিলত লাভ করা সম্ভব।
তৃতীয়ত, যদি তারাবিহতে যাওয়া সম্ভব না হয় তাহলে ঘরে নিজে তারাবিহ পড়া যায়। ঘরে পড়ার সময় কুরআন দেখে তিলাওয়াত করলে নিজেই খতম করতে পারবেন। মহিলাদের জন্য ঘরে তারাবিহ পড়া এবং কুরআন তিলাওয়াত করা উত্তম। তারা ঘরে বসেই পুরো রমজানে কুরআন খতম করতে পারেন। চতুর্থত, রমজানের বাইরেও কুরআন তিলাওয়াত ও শোনার অভ্যাস চালিয়ে যাওয়া উচিত। তারাবিহতে খতম শোনা একটি সূচনা হতে পারে সারা বছর কুরআনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখার।
উপসংহার
তারাবিহতে কুরআন খতম শোনা রমজানের একটি মহান ইবাদত এবং বিশেষ ফজিলত। এটি কুরআনের সাথে নিয়মিত সংযোগ তৈরি করে, মসজিদে যাওয়ার প্রেরণা দেয় এবং আত্মিক শান্তি এনে দেয়। মনোযোগ সহকারে শোনা, বিনয় বজায় রাখা এবং নীরবতা রক্ষা করা এই ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ আদব। আরবি না বুঝলেও শোনার ফজিলত পাওয়া যায় তবে অনুবাদ পড়ে বুঝে শুনলে আরও উপকৃত হওয়া যায়।
আসুন, এই রমজানে আমরা নিয়মিত তারাবিহতে উপস্থিত হই এবং পুরো কুরআন খতম শোনার চেষ্টা করি। প্রতিটি আয়াত মনোযোগ দিয়ে শুনি এবং অন্তরে আল্লাহর বাণীকে স্থান দিই। যারা মসজিদে যেতে পারেন না তারা ঘরে তিলাওয়াত করুন বা শুনুন। কুরআন খতম শোনার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তারাবিহতে কুরআন খতম শোনার এবং এর ফজিলত লাভ করার তৌফিক দান করুন। তিনি আমাদের কুরআনের বাণী হৃদয়ে ধারণ করার এবং সে অনুযায়ী জীবন যাপন করার সামর্থ্য দিন। আমীন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. তারাবিহতে কুরআন খতম শুনলে কি বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, তারাবিহতে কুরআন খতম শোনা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত এবং বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায় বলে আশা করা যায়। কুরআনে বলা হয়েছে যে কুরআন শোনার সময় মনোযোগ দিলে এবং নীরব থাকলে রহমত লাভ করা যায় (সূরা আরাফ: ২০৪)। তারাবিহ নামাজে দাঁড়িয়ে কুরআন শোনার মাধ্যমে নামাজের সওয়াব এবং কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব উভয়ই পাওয়া যায়। রমজান মাসে কুরআনের বিশেষ সম্পর্ক থাকায় এই মাসে খতম শোনার ফজিলত আরও বেশি। তাই নিয়মিত তারাবিহতে উপস্থিত থেকে পুরো খতম শোনার চেষ্টা করা উচিত।
২. আরবি না বুঝলে তারাবিহতে কুরআন শোনার ফজিলত পাওয়া যাবে কি?
হ্যাঁ, আরবি না বুঝলেও তারাবিহতে কুরআন শোনার ফজিলত পাওয়া যাবে। কুরআন শোনার সওয়াব শুধু বুঝে শোনার জন্য নয় বরং আল্লাহর কালাম শোনার জন্যও। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন কুরআন শুনলে এবং নীরব থাকলে রহমত পাওয়া যায়, এখানে বুঝা শর্ত করা হয়নি। তবে অবশ্যই বুঝে শুনলে বেশি উপকৃত হওয়া যায় এবং কুরআনের উদ্দেশ্য পূর্ণভাবে অর্জিত হয়। তাই যারা আরবি বোঝেন না তাদের উচিত কুরআনের অনুবাদ পড়া এবং তাফসির পড়ে কুরআনের মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করা। রমজানে তারাবিহতে যে অংশ তিলাওয়াত হবে তার অনুবাদ আগে বা পরে পড়ে নিলে আরও উপকৃত হওয়া যায়।
৩. তারাবিহতে কুরআন শোনার সময় কী আদব মেনে চলা উচিত?
তারাবিহতে কুরআন শোনার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদব মেনে চলা উচিত। প্রথমত, মনোযোগ সহকারে শোনা এবং অন্যমনস্ক না হওয়া। দ্বিতীয়ত, সম্পূর্ণ নীরবতা রক্ষা করা এবং কথা না বলা। তৃতীয়ত, বিনয় ও খুশু বজায় রাখা এবং অন্তরে আল্লাহর ভয় রাখা। চতুর্থত, মোবাইল বন্ধ রাখা বা সাইলেন্ট মোডে রাখা যাতে নিজের এবং অন্যদের ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটে। পঞ্চমত, যখন জান্নাত বা জাহান্নামের আয়াত তিলাওয়াত হয় তখন অন্তর সেই অনুযায়ী প্রভাবিত হওয়ার চেষ্টা করা। ষষ্ঠত, খতমের দোয়ায় মনোযোগ সহকারে অংশগ্রহণ করা এবং আমিন বলা।
৪. পুরো রমজানে তারাবিহ মিস হলে কি খতমের ফজিলত পাওয়া যাবে না?
যদি কোনো বৈধ কারণে (অসুস্থতা, কাজ, দূরত্ব) তারাবিহ মিস হয় এবং নিয়ত থাকে তাহলে আল্লাহ সওয়াব দেবেন বলে আশা করা যায়। তবে যতটুকু সম্ভব তারাবিহতে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। যদি মসজিদে যাওয়া সম্ভব না হয় তাহলে ঘরে বসে কুরআন তিলাওয়াত করা বা অডিও শোনা যায়। মহিলাদের জন্য ঘরে তারাবিহ পড়া এবং কুরআন তিলাওয়াত করা উত্তম। যারা ঘরে তারাবিহ পড়েন তারা কুরআন দেখে তিলাওয়াত করে নিজেই খতম করতে পারেন। পুরো মাস না পারলে যতদিন পারেন ততদিন শুনুন এবং বাকি সময় ঘরে তিলাওয়াত করুন। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়ত এবং চেষ্টা।
৫. তারাবিহতে খতম শোনার পাশাপাশি নিজে কি কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত?
হ্যাঁ, তারাবিহতে খতম শোনার পাশাপাশি নিজে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত উত্তম এবং উৎসাহিত করা হয়েছে। তারাবিহতে শোনা এবং নিজে তিলাওয়াত করা দুটি আলাদা ইবাদত এবং উভয়ের আলাদা ফজিলত রয়েছে। রমজানে কুরআন তিলাওয়াতের বিশেষ সওয়াব এবং প্রতিটি হরফে দশটি নেকি পাওয়া যায়। তাই দিনের বেলা বা অন্য সময়ে নিজে কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত। অনেকে রমজানে আলাদাভাবে একবার বা একাধিকবার কুরআন খতম করেন। তারাবিহতে শোনা এবং নিজে তিলাওয়াত করা - উভয়ই করলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হওয়া যায়। এভাবে কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।

