তাকওয়াবান বান্দারা কেন আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়?
তাকওয়াবান বান্দারা কেন আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়?
কুরআন ও হাদীসের আলোকে তাকওয়ার গুরুত্ব ও বাস্তব জীবনে তাকওয়া অর্জনের সহজ পথ
পর্ব: ২
ভূমিকা
প্রতিটি মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো—আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া। কিন্তু আল্লাহ কাকে ভালোবাসেন, তার মানদণ্ড কী? কুরআন আমাদের খুব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়—আল্লাহর কাছে মর্যাদার মাপকাঠি কোনো সম্পদ, সৌন্দর্য বা সামাজিক অবস্থান নয়; বরং তাকওয়া।
আজকের সমাজে অনেকেই তাকওয়াকে শুধু আলেমদের বিষয় মনে করে। কিন্তু বাস্তবে তাকওয়া হলো প্রতিটি মুমিনের জীবনের মূল ভিত্তি। তাকওয়া ছাড়া ঈমান পূর্ণতা পায় না, আমল বরকত পায় না, হৃদয় শান্ত হয় না।
এই পর্বে আমরা কুরআন ও হাদীসের আলোকে জানবো—
✔ তাকওয়া কী
✔ কেন তাকওয়াবান বান্দারা আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়
✔ তাকওয়া মানুষের জীবন কীভাবে বদলায়
✔ বাস্তব জীবনে তাকওয়া অর্জনের সহজ উপায়
🕋 তাকওয়া কী? (সংজ্ঞা)
তাকওয়া শব্দের অর্থ হলো— আল্লাহকে ভয় করা,গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর সীমা রক্ষা করা, হারাম থেকে বেঁচে থাকা, হালাল পথে জীবন পরিচালনা করা।
তাকওয়া মানে শুধু মুখে “আল্লাহকে ভয় করি” বলা নয়, বরং জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে আল্লাহকে সামনে রাখা।
কুরআনের ঘোষণা
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে-ই, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।”
(সূরা হুজুরাত: ১৩)
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়—
আল্লাহর কাছে মর্যাদা নির্ধারণ হয় তাকওয়ার মাধ্যমে, পরিচয়ের মাধ্যমে নয়।
কেন তাকওয়াবান বান্দারা আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়?
১️. কারণ তারা গোপনে আল্লাহকে ভয় করে
মানুষ না দেখলেও তারা গুনাহ করে না।
লোক দেখানো আমল নয়, আল্লাহর জন্য আমল করে।
২️. কারণ তারা সীমা লঙ্ঘন করে না
হারাম থেকে বাঁচে, সন্দেহজনক বিষয় এড়িয়ে চলে।
৩️. কারণ তারা আত্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারে
রাগ, লোভ, কামনা—সবকিছুকে ঈমান দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে।
৪️. কারণ তারা আল্লাহকে জীবনের কেন্দ্রে রাখে
তাদের সিদ্ধান্ত, কথা, কাজ—সবকিছু আল্লাহর সন্তুষ্টিকে ঘিরে।
তাকওয়া মানুষের জীবন কীভাবে বদলায়?
✔ অন্তর নরম হয়
✔ গুনাহের প্রতি ঘৃণা তৈরি হয়
✔ ইবাদতে মজা আসে
✔ হারাম থেকে দূরে থাকার শক্তি আসে
✔ দোয়া কবুলের রাস্তা খুলে যায়
✔ অন্তরে প্রশান্তি আসে
তাকওয়াবান মানুষ কষ্টে ভেঙে পড়ে না, কারণ সে জানে—আল্লাহ দেখছেন।
বাস্তব জীবনে তাকওয়া অর্জনের ৫টি সহজ উপায়
১️. নিয়মিত নামাজ
নামাজ তাকওয়ার ভিত্তি তৈরি করে।
২️. কুরআনের সাথে সম্পর্ক
প্রতিদিন অন্তত কিছু আয়াত পড়া ও বোঝার চেষ্টা।
৩️. গুনাহের পরিবেশ থেকে দূরে থাকা
খারাপ সঙ্গ, খারাপ কনটেন্ট, হারাম মাধ্যম বর্জন।
৪️. ইস্তেগফার ও তওবা
ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া।
৫️. আল্লাহকে স্মরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া
“আল্লাহ এতে সন্তুষ্ট হবেন তো?” — এই প্রশ্ন করা।
উপসংহার
তাকওয়া কোনো বিশেষ মানুষের জন্য নয়—তাকওয়া প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাকওয়াবান বান্দাদের ভালোবাসেন, সাহায্য করেন, রক্ষা করেন এবং মর্যাদা দেন।
প্রশ্ন একটাই—
আমরা কি আমাদের জীবনের পথে তাকওয়াকে কেন্দ্র বানাচ্ছি?
যদি বানাই, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরাও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবো।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাকওয়াবান বান্দা হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।
