সূরা মুলুক পাঠের ৪ ফজিলত | কবরের আজাব থেকে মুক্তি
সূরা মুলুক পাঠের ৪টি ফজিলত: কবরের আজাব থেকে মুক্তির আমল
ভূমিকা
সূরা মুলুক পবিত্র কুরআনের ২৯তম পারার একটি বিশেষ সূরা যা আল্লাহর মহত্ত্ব ও সৃষ্টিজগতের নিদর্শন নিয়ে আলোচনা করে। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে ৩০টি আয়াত রয়েছে। হাদিসে এই সূরার বিশেষ ফজিলত উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষত কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে কুরআনের একটি ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট সূরা আছে যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং তাকে ক্ষমা করিয়ে দেবে। এই সূরাটি নিয়মিত তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। এই লেখায় আমরা সূরা মুলুক পাঠের চারটি প্রধান ফজিলত, এর বিশেষত্ব এবং কীভাবে নিয়মিত পড়া যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
সূরা মুলুক পরিচিতি: নাম ও বিষয়বস্তু
সূরা মুলুকের অর্থ হলো 'রাজত্ব' বা 'সার্বভৌমত্ব'। এই নাম এসেছে প্রথম আয়াত থেকে যেখানে বলা হয়েছে "তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক" অর্থাৎ "মহিমান্বিত তিনি যাঁর হাতে রাজত্ব"। এই সূরায় আল্লাহ তায়ালা তাঁর ক্ষমতা, সৃষ্টিজগতের সৌন্দর্য এবং মানুষের পরীক্ষা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। সূরাটি মক্কি সূরা এবং এতে মূলত তাওহিদ, আখিরাত এবং আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে কথা বলা হয়েছে।
এই সূরায় আল্লাহ মানুষকে আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন। সাত আসমান সৃষ্টির কথা, তারকারাজির কথা এবং কীভাবে আল্লাহ প্রতিটি বস্তু নিখুঁতভাবে তৈরি করেছেন তা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও জাহান্নামের ভয়াবহতা এবং যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের জন্য ক্ষমা ও বিশাল পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে। সূরার শেষ দিকে আল্লাহ মানুষকে তাঁর উপর ভরসা করতে এবং তাঁর পথে চলতে উৎসাহিত করেছেন।
হাদিসে এই সূরাকে "আল-মুনজিয়াহ" বা "রক্ষাকারী" এবং "আল-মানিআহ" বা "প্রতিরোধকারী" বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এটি কবরের আজাব থেকে রক্ষা করে এবং আজাব প্রতিরোধ করে। তাই এই সূরা মুখস্থ করা এবং নিয়মিত পাঠ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
ফজিলত ১: কবরের আজাব থেকে মুক্তি
সূরা মুলুকের সবচেয়ে বড় এবং বিশেষ ফজিলত হলো কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়া। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে কুরআনের একটি সূরা আছে যা শুধুমাত্র ত্রিশ আয়াত, কিন্তু সে তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। আবু দাউদ ও তিরমিজিতে বর্ণিত এই হাদিসটি সূরা মুলুক সম্পর্কে (হাদিস নং: আবু দাউদ ১৪০০, তিরমিজি ২৮৯১)।
কবর হলো আখিরাতের প্রথম ধাপ। মৃত্যুর পর প্রতিটি মানুষকে কবরে প্রশ্ন করা হবে এবং তাদের আমল অনুযায়ী শাস্তি বা পুরস্কার দেওয়া হবে। যারা দুনিয়াতে আল্লাহর আদেশ মানেনি তাদের কবরে আজাব হবে। সূরা মুলুক নিয়মিত পাঠ করলে এই আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার আশা করা যায়।
এই ফজিলত পাওয়ার জন্য শুধু পড়াই যথেষ্ট নয়, বরং সূরার শিক্ষা অনুযায়ী জীবন যাপন করা জরুরি। সূরায় যে তাওহিদের কথা বলা হয়েছে, আল্লাহর ভয়ের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো মেনে চলা উচিত। তাহলেই এই সূরা কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে দাঁড়াবে বলে আশা করা যায়।
কবরের আজাব থেকে বাঁচার অন্যান্য আমল
সূরা মুলুক ছাড়াও কিছু আমল রয়েছে যা কবরের আজাব থেকে রক্ষা করে। যেমন: নিয়মিত নামাজ পড়া, মিথ্যা থেকে বিরত থাকা, গীবত না করা এবং পাক-পবিত্রতা বজায় রাখা। তবে সূরা মুলুক পাঠ একটি বিশেষ আমল যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
ফজিলত ২: জান্নাত লাভের মাধ্যম
সূরা মুলুক শুধু আজাব থেকে রক্ষাই করে না, বরং জান্নাত লাভেরও মাধ্যম হতে পারে। হাদিসে বলা হয়েছে যে এই সূরা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং তাকে ক্ষমা করিয়ে দেবে। যখন একজন মানুষ ক্ষমা পায়, তখন তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ হয়ে যায়। সূরা মুলুকে আল্লাহ বলেছেন যে যারা তাদের রবকে না দেখেও ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বিশাল পুরস্কার (সূরা মুলুক, আয়াত ১২)।
এই সূরায় জান্নাতিদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। যারা আল্লাহকে ভয় করে চলে, যারা তাঁর নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করে এবং যারা তাওবা করে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। তাই এই সূরা পাঠ করে এবং এর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন যাপন করলে জান্নাত লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
প্রতিদিন সূরা মুলুক পড়া একটি সহজ আমল কিন্তু এর প্রতিদান অসীম। মাত্র কয়েক মিনিটের এই তিলাওয়াত আমাদের আখিরাতকে সুন্দর করতে পারে। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত এই সূরা মুখস্থ করা এবং নিয়মিত পাঠ করা। রাতে ঘুমানোর আগে এই সূরা পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
ফজিলত ৩: প্রতিদিন ৩০টি নেকি অর্জন
কুরআনের প্রতিটি হরফ পড়ার জন্য ১০টি নেকি পাওয়া যায় বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। সূরা মুলুকে প্রায় ৩৩০টির মতো শব্দ রয়েছে। প্রতিটি শব্দে গড়ে ৩-৪টি হরফ থাকে। এর মানে একবার সূরা মুলুক পড়লে হাজারেরও বেশি নেকি পাওয়া যায়। যদি কেউ প্রতিদিন এই সূরা পড়ে, তাহলে তার আমলনামায় অসংখ্য নেকি জমা হতে থাকবে।
এই নেকি শুধু দুনিয়াতেই উপকারী নয়, বরং আখিরাতে এগুলোই আমাদের পাথেয় হবে। কিয়ামতের দিন যখন সবাই তাদের আমল খুঁজবে, তখন এই নেকিগুলো মিজানের পাল্লায় ওজন হবে। তাই ছোট মনে হলেও প্রতিদিনের এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূরা মুলুক পাঠ একটি সহজ আমল কিন্তু এর প্রতিদান বিশাল। মাত্র ৫-৭ মিনিটের এই তিলাওয়াত আমাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত করে। তাই যারা এখনো নিয়মিত এই সূরা পড়েন না, তাদের আজ থেকেই শুরু করা উচিত।
নেকি বৃদ্ধির অন্যান্য উপায়
সূরা মুলুক ছাড়াও কুরআনের অন্যান্য সূরা নিয়মিত পড়লে নেকি বৃদ্ধি পায়। বিশেষত সূরা বাকারা, সূরা ওয়াক্বিয়া, সূরা রহমান এবং ছোট ছোট সূরাগুলো নিয়মিত পাঠ করা উচিত। প্রতিটি সূরারই বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
ফজিলত ৪: ঈমান ও আল্লাহভীতি বৃদ্ধি
সূরা মুলুকের চতুর্থ বড় ফজিলত হলো এটি ঈমান বৃদ্ধি করে এবং আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত করে। এই সূরায় আল্লাহর ক্ষমতা, সৃষ্টিজগতের নিখুঁততা এবং জাহান্নামের ভয়াবহতা এত সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে যে কেউ মনোযোগ দিয়ে পড়লে তার অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হবে। সূরায় বারবার বলা হয়েছে আকাশের দিকে তাকাতে, সেখানে কোনো ত্রুটি আছে কিনা খুঁজে দেখতে। এভাবে আল্লাহ মানুষকে তাঁর সৃষ্টির নিখুঁততা নিয়ে চিন্তা করতে উৎসাহিত করেছেন।
যখন একজন মানুষ নিয়মিত এই সূরা পড়ে, তখন সে আল্লাহর মহত্ত্ব অনুভব করতে শুরু করে। সে বুঝতে পারে যে আল্লাহ কত শক্তিশালী এবং তিনি সবকিছুর উপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন। এই উপলব্ধি মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে এবং নেক কাজে উৎসাহিত করে। ঈমান বৃদ্ধি পেলে মানুষ আল্লাহর আদেশ মানতে আগ্রহী হয় এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকে।
সূরা মুলুক পাঠ করার সময় অর্থ বুঝে পড়া উচিত। তাহলে এর প্রভাব আরও বেশি হবে। বাংলা অনুবাদ বা তাফসির পড়লে সূরার গভীর অর্থ বুঝা যায়। যখন আমরা বুঝি যে আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করছেন, তখন আমরা আমাদের জীবন সংশোধন করতে চেষ্টা করি। এভাবে সূরা মুলুক আমাদের চরিত্র গঠনে সাহায্য করে এবং আমাদের ভালো মানুষ হতে সাহায্য করে।
সূরা মুলুক পাঠের সঠিক সময় ও নিয়ম
সূরা মুলুক যেকোনো সময় পড়া যায়, তবে কিছু বিশেষ সময় রয়েছে যখন পড়লে বেশি ফজিলত পাওয়া যায়। হাদিসে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে ঘুমানোর আগে এই সূরা পড়তেন। তাই ঘুমানোর আগে সূরা মুলুক পড়া একটি উত্তম সুন্নত। এতে রাতে শয়তান থেকে রক্ষা পায় এবং ভালো ঘুম হয়।
ফজরের নামাজের পর এই সূরা পড়া যেতে পারে। সকালে কুরআন তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এছাড়া মাগরিব ও এশার নামাজের পর এই সূরা পড়া ভালো। তবে মূল কথা হলো নিয়মিত পড়া। যেকোনো একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিয়ে প্রতিদিন সেই সময়ে পড়ার অভ্যাস করা উচিত।
পড়ার নিয়ম হলো পবিত্র অবস্থায় ওজু করে কিবলামুখী হয়ে বসা। আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা শুরু করা উচিত। ধীরে ধীরে তারতিলের সাথে পড়া উত্তম। তাড়াহুড়া না করে প্রতিটি শব্দ স্পষ্ট করে পড়া উচিত। সূরা শেষে দোয়া করা যেতে পারে।
মুখস্থ করার টিপস
যারা সূরা মুলুক মুখস্থ করতে চান, তারা ছোট ছোট অংশে ভাগ করে শিখতে পারেন। প্রথম ৫ আয়াত প্রথম দিন, পরের ৫ আয়াত পরের দিন এভাবে ধীরে ধীরে পুরো সূরা মুখস্থ করা যায়। নিয়মিত অনুশীলন করলে ১-২ মাসে পুরো সূরা মুখস্থ হয়ে যাবে। অডিও শুনে শুনেও শেখা যায়।
সূরা মুলুকের শিক্ষা ও আমাদের জীবনে প্রয়োগ
সূরা মুলুক শুধু পড়ার জন্য নয়, বরং এর শিক্ষা আমাদের জীবনে প্রয়োগ করা উচিত। প্রথম শিক্ষা হলো আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহিদে বিশ্বাস করা। সূরায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে আল্লাহই একমাত্র রাজা এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমাদের শুধু তাঁরই ইবাদত করা উচিত এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া উচিত।
দ্বিতীয় শিক্ষা হলো আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করা। সূরায় আকাশ, তারকা, পৃথিবী এবং প্রাণিজগত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের চারপাশের প্রকৃতি দেখে আল্লাহর মহত্ত্ব অনুভব করা উচিত। এতে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জাগে।
তৃতীয় শিক্ষা হলো আখিরাত সম্পর্কে সচেতন হওয়া। সূরায় জাহান্নামের বর্ণনা এবং জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী এবং আসল জীবন হলো আখিরাত। তাই আমাদের আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। নেক কাজ করতে হবে এবং পাপ থেকে বিরত থাকতে হবে। এভাবে সূরা মুলুকের শিক্ষা আমাদের জীবনকে সুন্দর ও অর্থবহ করে তোলে।
উপসংহার
সূরা মুলুক আল্লাহর এক বিশেষ রহমত যা আমাদের কবরের আজাব থেকে রক্ষা করতে পারে এবং জান্নাতের পথ সহজ করতে পারে। এই সূরার চারটি প্রধান ফজিলত - কবরের আজাব থেকে মুক্তি, জান্নাত লাভ, অসংখ্য নেকি অর্জন এবং ঈমান বৃদ্ধি - আমাদের উৎসাহিত করা উচিত নিয়মিত এই সূরা পাঠ করতে।
আসুন, আমরা আজ থেকেই সূরা মুলুক নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করি। যারা মুখস্থ করেননি তারা মুখস্থ করার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এই সূরা পড়ুন। এর অর্থ বুঝুন এবং শিক্ষা জীবনে প্রয়োগ করুন। মনে রাখবেন, এই ছোট্ট আমল আপনার আখিরাতকে সুন্দর করতে পারে এবং কবরের ভয়াবহ আজাব থেকে রক্ষা করতে পারে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সূরা মুলুক নিয়মিত পাঠ করার এবং এর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
সূরা মুলুক প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. সূরা মুলুক কোন পারায় এবং এতে কয়টি আয়াত আছে?
সূরা মুলুক পবিত্র কুরআনের ২৯তম পারায় অবস্থিত এবং এটি ৬৭তম সূরা। এই সূরায় মোট ৩০টি আয়াত রয়েছে। এটি একটি মক্কি সূরা অর্থাৎ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। সূরার প্রথম আয়াত "তাবারাকাল্লাজি বিয়াদিহিল মুলক" থেকে এর নাম নেওয়া হয়েছে। সূরাটি তুলনামূলক ছোট এবং সহজে মুখস্থ করা যায়। প্রতিদিন পাঠ করলে মাত্র ৫-৭ মিনিট সময় লাগে।
২. সূরা মুলুক কখন পড়া উত্তম?
হাদিসে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে ঘুমানোর আগে সূরা মুলুক পড়তেন। তাই রাতে ঘুমানোর আগে এই সূরা পড়া সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ। এছাড়া ফজরের নামাজের পর, মাগরিব বা এশার পর যেকোনো সময় পড়া যায়। মূল কথা হলো নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট সময়ে পড়ার অভ্যাস করা। যেকোনো সময়ই পড়লে ফজিলত পাওয়া যায়, তবে রাতে পড়া বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।
৩. সূরা মুলুক মুখস্থ করা কি জরুরি?
সূরা মুলুক মুখস্থ করা ফরজ নয় কিন্তু অত্যন্ত উপকারী এবং ফজিলতপূর্ণ। মুখস্থ করলে যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় পড়া যায়। কুরআন দেখে দেখেও পড়া যায়, তাতেও একই ফজিলত পাওয়া যাবে। তবে যারা সামর্থ্য রাখেন তাদের মুখস্থ করার চেষ্টা করা উচিত। ছোট ছোট অংশে ভাগ করে ধীরে ধীরে শিখলে সহজ হয়। নিয়মিত অনুশীলন করলে ১-২ মাসে পুরো সূরা মুখস্থ হয়ে যাবে।
৪. কবরের আজাব থেকে বাঁচতে আর কী করা উচিত?
কবরের আজাব থেকে বাঁচার জন্য সূরা মুলুক পাঠ ছাড়াও আরও কিছু আমল রয়েছে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকা, গীবত না করা, পবিত্রতা বজায় রাখা বিশেষত পেশাব-পায়খানার পর ভালোভাবে পবিত্র হওয়া। এছাড়া নিয়মিত তওবা করা, দান-সদকা করা এবং আল্লাহর পথে জীবন যাপন করা। সব আমল মিলিয়ে একজন সৎ মুসলমান হওয়ার চেষ্টা করলেই কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার আশা করা যায়।
৫. সূরা মুলুক বাংলা অনুবাদসহ পড়া কি ভালো?
হ্যাঁ, সূরা মুলুক বাংলা অনুবাদসহ পড়া অত্যন্ত ভালো এবং উপকারী। আরবিতে পড়ার পাশাপাশি অর্থ জানা থাকলে সূরার শিক্ষা বুঝা যায় এবং এর প্রভাব অন্তরে গভীরভাবে পড়ে। প্রথমে আরবি পড়ে তারপর বাংলা অনুবাদ পড়া যেতে পারে। অথবা তাফসির বই পড়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানা যায়। অর্থ বুঝে পড়লে ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর মহত্ত্ব অনুভব করা যায়। তবে মূল সওয়াব আরবিতে পড়লেই পাওয়া যায়।
