সুরা কাহাফের ফজিলত | কুরআন ও হাদীসের আলোকে জুমার দিনের বিশেষ আমল
সূরা কাহাফের ফজিলত
কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা
ভূমিকা
আলহামদুলিল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি আমাদেরকে কুরআনের মতো মহামূল্যবান নিয়ামত দান করেছেন। কুরআনের প্রতিটি সূরার রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও শিক্ষা। তন্মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা হলো সূরা কাহাফ। বিশেষ করে জুমার দিনে এই সূরা পাঠ করার ব্যাপারে কুরআন ও সহীহ হাদীসে বহু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আজ আমরা জানবো সূরা কাহাফের ফজিলত, শিক্ষা ও আমলের গুরুত্ব।
সূরা কাহাফ পরিচিতি
-
সূরা নম্বর: ১৮
-
আয়াত সংখ্যা: ১১০
-
নাযিলের স্থান: মক্কা
সূরা কাহাফে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রয়েছে—
১) আসহাবে কাহাফ
২) দুই বাগানের মালিক
৩) মূসা (আ.) ও খিজির (আ.)
৪) যুলকারনাইন (আ.)
এই ঘটনাগুলোর মাধ্যমে ঈমান, সবর, তাকওয়া ও আল্লাহর উপর ভরসার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
সূরা কাহাফ পাঠের ফজিলত (হাদীসের আলোকে)
১️, জুমা থেকে জুমা পর্যন্ত নূর
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর প্রদান করা হবে।”
(সহীহ মুসলিম)
এই নূর কেয়ামতের দিন তার জন্য আলো ও হেদায়েত হবে।
২️. দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপত্তা
নবী ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।”
(সহীহ মুসলিম)
আরেক বর্ণনায় শেষ দশ আয়াতের কথাও এসেছে।
৩️. গুনাহ মাফের কারণ
জুমার দিনে সূরা কাহাফ পাঠ করা গুনাহ মাফের মাধ্যম এবং ঈমান নবায়নের একটি বড় আমল।
কুরআনের আলোকে সূরা কাহাফের শিক্ষা
দুনিয়ার মোহ থেকে বাঁচার শিক্ষা
দুই বাগানের মালিকের ঘটনা আমাদের শেখায়— সম্পদ ও অহংকার ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
আল্লাহর হুকুমের উপর বিশ্বাস
মূসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ঘটনা শেখায়— আল্লাহ যা করেন, তাতেই কল্যাণ রয়েছে।
ধৈর্য ও ঈমানের শক্তি
আসহাবে কাহাফ আমাদের শেখায়— যুবক বয়সেও ঈমানের উপর অটল থাকা সম্ভব।
জুমার দিনে কীভাবে সূরা কাহাফ পড়বেন?
-
ফজর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত পড়া যায়
-
একা বা দেখে পড়া জায়েজ
-
বুঝে পড়লে সওয়াব আরও বেশি
-
অন্তত প্রথম বা শেষ ১০ আয়াত মুখস্থ করার চেষ্টা করা উচিত
আমাদের করণীয়
-
প্রতি জুমায় সূরা কাহাফ পড়ার অভ্যাস গড়া
-
পরিবারকে এই আমলে উদ্বুদ্ধ করা
-
শিশুদের মুখস্থ করানো
-
সূরার শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গঠন করা
উপসংহার
সূরা কাহাফ শুধু একটি সূরা নয়; বরং এটি একজন মুমিনের জন্য নূরের আলো, দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপত্তা এবং হেদায়েতের পথনির্দেশনা। তাই আসুন, আমরা নিয়মিত জুমার দিনে সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করি এবং এর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন
