সূরা আন-নাস আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও শানে নুযুল

 

সূরা আন-নাস: আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও শানে নুযুল (প্রেক্ষাপট)

surah-an-nas-arabi-bangla-uccharon-artho


ভূমিকা

সূরা আন-নাস পবিত্র কুরআনের ১১৪তম ও শেষ সূরা। এটি একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সূরা, যা মানুষের অন্তরের অদৃশ্য শত্রু—শয়তান ও কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা দেয়। সূরা আন-নাস ও সূরা আল-ফালাক একত্রে মু‘আউইযাতাইন নামে পরিচিত। এই সূরা মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।


সূরা আন-নাস (আরবি)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
مَلِكِ النَّاسِ
إِلَٰهِ النَّاسِ
مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ


বাংলা উচ্চারণ

কুল আ‘উযু বিরাব্বিন্নাস,
মালিকিন্নাস,
ইলাহিন্নাস,
মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস,
আল্লাযী ইউওয়াসওয়িসু ফী সুদূরিন্নাস,
মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্নাস।


বাংলা অর্থ

আমি আশ্রয় চাই মানুষের প্রতিপালকের,
মানুষের অধিপতির,
মানুষের উপাস্যের—
তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্মগোপন করে,
যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়,
সে জিন হোক বা মানুষ।

 সূরা আন-নাসের শানে নুযুল (অবতরণের প্রেক্ষাপট)

সহিহ হাদিস অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ ﷺ একবার জাদুর প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস নাযিল করেন।

হাদিস:

আয়িশা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এই দুই সূরা পড়ে নিজের শরীরে ফুঁ দিতেন এবং আরোগ্য লাভ করতেন।
📚 (সহিহ বুখারি: ৫৭৩৫)

এই প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায়, সূরা আন-নাস মানুষের আত্মিক ও মানসিক সুরক্ষার জন্য এক মহান নিয়ামত।


 সূরা আন-নাসের শিক্ষা ও গুরুত্ব

১️,. আল্লাহই একমাত্র আশ্রয়দাতা

মানুষ যত শক্তিশালী হোক না কেন, অদৃশ্য শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা একমাত্র আল্লাহই করতে পারেন।

২️. শয়তানের কুমন্ত্রণা বাস্তব

ইসলাম অনুযায়ী, শয়তান মানুষের অন্তরে ধীরে ধীরে সন্দেহ ও পাপের চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়।

৩️. নিয়মিত পড়ার ফজিলত

রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘুমানোর আগে সূরা আন-নাস পড়তেন।
📚 (সহিহ মুসলিম: ২১৯২)


 কখন সূরা আন-নাস পড়া উত্তম

  • ঘুমানোর আগে

  • ফজর ও মাগরিবের পর

  • ভয়, দুশ্চিন্তা বা কু-চিন্তা হলে

  • যাদু, বদনজর থেকে রক্ষার জন্য


 দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ

নিয়মিত সূরা আন-নাস পাঠ করলে:

  • মানসিক প্রশান্তি আসে

  • শয়তানের কুমন্ত্রণা কমে

  • ঈমান দৃঢ় হয়

  • পরিবার ও সন্তানদের সুরক্ষা পাওয়া যায়


 প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন 

সূরা আন-নাস কয় আয়াত?

৬ আয়াত।

সূরা আন-নাস কখন নাযিল হয়?

মক্কায় নাযিল হয়।

সূরা আন-নাস ও ফালাক একসাথে পড়া কেন?

এগুলো সম্মিলিতভাবে সব ধরনের অদৃশ্য অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে।

 উপসংহার

সূরা আন-নাস মুসলমানদের জন্য এক শক্তিশালী আত্মিক ঢাল। নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপদ থাকতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই সূরার শিক্ষা অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দিন। আমিন।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url