নামাজের সালাম ফিরানোর পর দোয়া: সহিহ হাদীসসহ
নামাজের সালাম ফিরানোর পর কোন দোয়া পড়তে হয়? সহিহ হাদীসসহ ৬টি আমল
ভূমিকা
সালাম ফিরিয়েই অনেকে তাড়াহুড়া করে উঠে পড়েন। কেউ ফোন হাতে নেন, কেউ জুতা খুঁজতে শুরু করেন। অথচ নামাজ শেষের এই কয়েকটি মিনিট হতে পারে দিনের সবচেয়ে শান্ত ও বরকতময় সময়।
রাসূল ﷺ ফরজ নামাজ শেষে কিছু নির্দিষ্ট জিকির ও দোয়া পড়তেন এবং সাহাবিদেরও শিখিয়েছেন। এগুলোর বেশিরভাগই খুব ছোট, পড়তে এক-দুই মিনিটের বেশি লাগে না। কিন্তু হাদীসে এগুলোর যে ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, তা জানলে আর তাড়াহুড়া করে উঠতে ইচ্ছা করবে না।
এই লেখায় সহিহ হাদীসের আলোকে সালাম ফিরানোর পরের দোয়াগুলো আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলো। সঙ্গে থাকছে ব্যস্ত দিনে কোনগুলো আগে পড়বেন, তার একটি সহজ নির্দেশনাও।
১. নামাজের পর জিকিরের গুরুত্ব
সূরা আন-নিসার ১০৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যখন তোমরা নামাজ শেষ করবে, তখন দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করো। অর্থাৎ নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর স্মরণ শেষ হয়ে যায় না, বরং নতুনভাবে শুরু হয়।
সহিহ বুখারীর ৮৪১ নম্বর হাদীসে ইবনে আব্বাস (রা.) জানিয়েছেন, রাসূল ﷺ-এর যুগে ফরজ নামাজ শেষে মানুষের জিকিরের আওয়াজ শোনা যেত। এমনকি তিনি এই আওয়াজ শুনেই বুঝতে পারতেন যে নামাজ শেষ হয়েছে।
এ থেকে বোঝা যায়, সাহাবিদের কাছে নামাজের পরের জিকির কোনো ঐচ্ছিক বাড়তি বিষয় ছিল না, বরং নামাজেরই একটি স্বাভাবিক সমাপ্তি ছিল।
একটি বিষয় মনে রাখা ভালো। নিচের দোয়াগুলো ফরজ বা ওয়াজিব নয়, এগুলো সুন্নাত ও মুস্তাহাব আমল। না পড়লে নামাজের কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু পড়লে অনেক ফজিলতের আশা করা যায়। তাই চাপ নয়, বরং আগ্রহ নিয়ে ধীরে ধীরে এগুলো অভ্যাসে আনার চেষ্টা করুন।
২. প্রথম আমল: তিনবার ইস্তিগফার ও আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম
সালাম ফিরানোর পর সবার আগে যে আমলটি হাদীসে এসেছে, তা হলো তিনবার ইস্তিগফার এবং তারপর একটি ছোট দোয়া।
সহিহ মুসলিমের ৫৯১ নম্বর হাদীসে সাওবান (রা.) জানিয়েছেন, রাসূল ﷺ নামাজ শেষ করে তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, তারপর এই দোয়াটি পড়তেন:
প্রথমে তিনবার
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
তারপর একবার
اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনিই শান্তি, আর আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী, আপনি বরকতময়।
একটু ভাবুন, এইমাত্র নামাজের মতো একটি বড় ইবাদত শেষ হলো, আর প্রথম কাজই ক্ষমা চাওয়া। আলেমগণ এর হিকমত হিসেবে বলেছেন, নামাজে যত মনোযোগই থাকুক, কিছু না কিছু ত্রুটি থেকে যায়। সেই ত্রুটির জন্য বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা চাওয়াই একজন মুমিনের আদব।
৩. দ্বিতীয় আমল: আল্লাহর একত্ব ও তাঁর দানের স্বীকৃতি
সহিহ বুখারী (৮৪৪) ও সহিহ মুসলিমের (৫৯৩) হাদীসে মুগীরা ইবনে শু‘বা (রা.) জানিয়েছেন, রাসূল ﷺ প্রতিটি ফরজ নামাজের পর এই দোয়াটি পড়তেন:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। আল্লাহুম্মা লা মানিআ লিমা আ‘তাইতা, ওয়া লা মু‘তিয়া লিমা মানা‘তা, ওয়া লা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আপনি যা দেন তা আটকানোর কেউ নেই, আর আপনি যা আটকে রাখেন তা দেওয়ার কেউ নেই। আপনার কাছে কোনো ধনী বা প্রভাবশালীর প্রভাব কোনো কাজে আসে না।
এই দোয়াটি মনের ভেতর একটি গভীর প্রশান্তি তৈরি করে। চাকরি, ব্যবসা বা রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে দিনে পাঁচবার এই কথাগুলো স্মরণ করা মনে করিয়ে দেয়, শেষ পর্যন্ত সবকিছু আল্লাহর হাতেই।
৪. তৃতীয় আমল: ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার
নামাজের পরের জিকিরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে পরিচিত। আমাদের দেশে অনেকে একে "তাসবীহে ফাতেমী" বলেন।
সহিহ মুসলিমের ৫৯৭ নম্বর হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি প্রতিটি নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পড়ে, তারপর একশ পূর্ণ করতে একবার নিচের কালিমাটি পড়ে, তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনার মতো অনেক হলেও ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
ধাপে ধাপে
- ৩৩ বার: سُبْحَانَ اللَّهِ (সুবহানাল্লাহ), অর্থ: আল্লাহ পবিত্র।
- ৩৩ বার: الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদুলিল্লাহ), অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর।
- ৩৩ বার: اللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার), অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
- একশ পূর্ণ করতে ১ বার: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
একটি ছোট তথ্য: ফাতিমা (রা.)-কে রাসূল ﷺ যে তাসবীহ শিখিয়েছিলেন, তা মূলত ঘুমানোর আগের আমল হিসেবে সহিহ বুখারীতে (৩১১৩) এসেছে, যেখানে আল্লাহু আকবার ৩৪ বার। নামাজের পরের জন্য উপরের মুসলিম শরিফের পদ্ধতিটি সরাসরি প্রমাণিত।
৫. চতুর্থ আমল: আয়াতুল কুরসি
সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত "আয়াতুল কুরসি" নামে পরিচিত। এতে আল্লাহর একত্ব, চিরঞ্জীবতা, জ্ঞান ও ক্ষমতার এক অসাধারণ বর্ণনা রয়েছে।
সহিহ মুসলিমের ৮১০ নম্বর হাদীসে রাসূল ﷺ উবাই ইবনে কা‘ব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কুরআনের কোন আয়াত সবচেয়ে মহান। তিনি আয়াতুল কুরসির কথা বললে রাসূল ﷺ খুশি হয়ে তাঁর জ্ঞানের প্রশংসা করেছিলেন।
ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি
প্রতিটি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার বিষয়ে একটি হাদীস ইমাম নাসায়ীর "আস-সুনানুল কুবরা" এবং "আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যে প্রতিটি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ে, মৃত্যু ছাড়া তার জান্নাতে প্রবেশের পথে আর কোনো বাধা থাকে না। শায়খ আলবানীসহ অনেক মুহাদ্দিস এই হাদীসকে সহিহ বলেছেন।
আয়াতুল কুরসি পড়তে এক মিনিটেরও কম সময় লাগে। যাদের এখনো মুখস্থ নেই, তারা প্রতিদিন একটি করে বাক্য শিখে এক সপ্তাহের মধ্যেই মুখস্থ করে ফেলতে পারেন।
৬. পঞ্চম আমল: সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস
কুরআনের শেষ তিনটি সূরা ছোট, প্রায় সবারই মুখস্থ। নামাজের পর এগুলো পড়ার কথাও হাদীসে এসেছে।
সুনানে আবু দাউদ (১৫২৩) ও জামে তিরমিযীর (২৯০৩) হাদীসে উকবা ইবনে আমের (রা.) জানিয়েছেন, রাসূল ﷺ তাঁকে প্রতিটি নামাজের পর "মুআউওয়িযাত" পড়তে বলেছেন। মুআউওয়িযাত বলতে সূরা ফালাক ও নাস বোঝায়, আর অনেক আলেম সূরা ইখলাসকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
কোন নামাজের পর কতবার
- সাধারণভাবে: প্রতিটি ফরজ নামাজের পর তিনটি সূরা একবার করে।
- ফজর ও মাগরিবের পর: অনেক আলেম তিনবার করে পড়ার কথা বলেছেন। এটি সকাল-সন্ধ্যার জিকিরের অংশ হিসেবে সুনানে আবু দাউদের (৫০৮২) হাদীসে এসেছে, যেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়লে তা সবকিছু থেকে যথেষ্ট হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই সূরাগুলোতে আল্লাহর কাছে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। তাই দিনে পাঁচবার এগুলো পড়া মনে নিরাপত্তার একটি অনুভূতি এনে দেয় এবং আল্লাহর ওপর ভরসা বাড়ায়।
৭. ষষ্ঠ আমল: মুআজ (রা.)-কে শেখানো বিশেষ দোয়া
এই দোয়াটির পেছনে একটি হৃদয়ছোঁয়া ঘটনা আছে।
সুনানে আবু দাউদ (১৫২২) ও সুনানে নাসায়ীর (১৩০৩) হাদীসে এসেছে, একদিন রাসূল ﷺ মুআজ ইবনে জাবাল (রা.)-এর হাত ধরে বললেন, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তারপর তিনি উপদেশ দিলেন, প্রতিটি নামাজের পর এই দোয়াটি পড়া যেন কখনো বাদ না যায়:
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আইন্নী আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিক।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনাকে স্মরণ করতে, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন।
লক্ষ করুন, রাসূল ﷺ উপদেশটি দেওয়ার আগে ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা দেওয়ার এই কোমল পদ্ধতি নিজেই একটি সুন্নাত।
দোয়াটি ছোট, কিন্তু এর অর্থ অনেক গভীর। এখানে আমরা নিজের শক্তিতে নয়, বরং আল্লাহর সাহায্যে ইবাদত করার তাওফিক চাইছি। যারা নামাজে মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট পান, তাদের জন্য এই দোয়াটি বিশেষভাবে উপযোগী।
৮. ব্যস্ত দিনে কোনগুলো পড়বেন এবং কিছু জরুরি নির্দেশনা
সব দোয়া একসঙ্গে পড়তে পাঁচ-ছয় মিনিট লাগতে পারে। অফিস, ক্লাস বা সফরের তাড়ায় সব সময় তা সম্ভব হয় না। তখন কী করবেন?
সময় কম হলে এই ক্রমে পড়ুন
- তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ ও আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম (৩০ সেকেন্ড)।
- আয়াতুল কুরসি (৪০ সেকেন্ড)।
- ৩৩-৩৩-৩৩ তাসবীহ (দেড় থেকে দুই মিনিট)।
অবশিষ্টগুলো সময় পেলে পড়ুন। দাঁড়িয়ে চলে যাওয়ার সময় বা হাঁটতে হাঁটতেও তাসবীহ পূর্ণ করা যায়।
আঙুলে গণনা
সুনানে আবু দাউদের (১৫০২) হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) জানিয়েছেন, তিনি রাসূল ﷺ-কে ডান হাতের আঙুলে তাসবীহ গুনতে দেখেছেন।
সম্মিলিত মুনাজাত প্রসঙ্গে
ফরজ নামাজের পর দোয়া কবুলের আশা বেশি বলে জামে তিরমিযীর (৩৪৯৯) হাদীসে ইঙ্গিত এসেছে। তবে ইমামের সঙ্গে নিয়মিত সম্মিলিত হাত তুলে মুনাজাত নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে। ব্যক্তিগতভাবে দোয়া করা নিয়ে কোনো মতভেদ নেই। এ বিষয়ে নিজ এলাকার নির্ভরযোগ্য আলেমের মত অনুসরণ করুন এবং অন্যের মতকে সম্মান করুন।
উপসংহার
সালাম ফিরানোর পরের কয়েকটি মিনিট নামাজের সৌন্দর্যকে পূর্ণতা দেয়। তিনবার ইস্তিগফার, আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, তাওহিদের দোয়া, ৩৩-৩৩-৩৩ তাসবীহ, আয়াতুল কুরসি, তিন কুল এবং মুআজ (রা.)-কে শেখানো দোয়া, এই সবগুলোই সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
একসঙ্গে সব শুরু করা কঠিন মনে হলে এভাবে এগোতে পারেন:
- প্রথম সপ্তাহ: প্রতিটি নামাজের পর শুধু তিনবার ইস্তিগফার ও আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম পড়ুন।
- দ্বিতীয় সপ্তাহ: এর সঙ্গে ৩৩-৩৩-৩৩ তাসবীহ যোগ করুন।
- তৃতীয় সপ্তাহ: আয়াতুল কুরসি ও বাকি দোয়াগুলো একটি একটি করে যোগ করুন।
এই লেখার দোয়াগুলো স্ক্রিনশট নিয়ে বা লিখে জায়নামাজের পাশে রাখতে পারেন, যাতে শুরুর দিকে দেখে দেখে পড়া যায়।
আশা করা যায়, ধীরে ধীরে এই কয়েক মিনিট আপনার দিনের সবচেয়ে প্রিয় সময় হয়ে উঠবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নামাজের পর তাঁর স্মরণে কিছুক্ষণ বসে থাকার তাওফিক দান করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. নামাজের সালাম ফিরানোর পর প্রথমে কী পড়তে হয়?
সহিহ মুসলিমের (৫৯১) হাদীস অনুযায়ী, প্রথমে তিনবার "আস্তাগফিরুল্লাহ" পড়া এবং তারপর "আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম" পড়া সুন্নাত।
২. নামাজের পর তাসবীহ কতবার পড়তে হয়?
সহিহ মুসলিমের (৫৯৭) হাদীস অনুযায়ী, ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার, এবং একশ পূর্ণ করতে একবার "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু..." পড়া যায়।
৩. প্রতিটি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত কী?
ইমাম নাসায়ীর "আস-সুনানুল কুবরা" গ্রন্থে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, প্রতিটি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠকারীর জন্য মৃত্যু ছাড়া জান্নাতে প্রবেশে আর কোনো বাধা থাকে না। অনেক মুহাদ্দিস এই হাদীসকে সহিহ বলেছেন।
৪. নামাজের পরের দোয়াগুলো কি বাধ্যতামূলক?
না, এগুলো ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং সুন্নাত ও মুস্তাহাব আমল। না পড়লে নামাজের কোনো ক্ষতি হয় না, তবে নিয়মিত পড়তে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।
৫. তাসবীহ কি আঙুলে গুনে পড়া উত্তম?
সুনানে আবু দাউদের (১৫০২) হাদীসে রাসূল ﷺ-কে ডান হাতের আঙুলে তাসবীহ গুনতে দেখা গেছে বলে বর্ণিত হয়েছে। তাই আঙুলে গোনা সুন্নাতের কাছাকাছি। তবে তাসবীহ দানা ব্যবহার নিয়েও অনেক আলেম অনুমতি দিয়েছেন।
