নামাজের সালাম ফিরানোর পর কোন দোয়া পড়তে হয়? | হাদীসসহ

 

সালাম ফিরানোর পর কোন দোয়া পড়তে হয়? (দলিলসহ)

salam-firanor-por-doa


ভূমিকা

নামাজ একজন মুমিনের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। ফরজ, সুন্নত বা নফল নামাজ শেষ করে ডানে ও বামে সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু অনেক মুসলমান জানেন না—সালাম ফিরানোর পর কোন দোয়া ও জিকির পড়া সুন্নত, এবং কোনগুলো হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এই পোস্টে কুরআন ও সহিহ হাদীসের আলোকে সালাম ফিরানোর পর পড়ার দোয়া ও জিকির দলিলসহ সহজভাবে তুলে ধরা হলো।


📖 নামাজের পর দোয়ার গুরুত্ব (কুরআনের আলোকে)

আল্লাহ তাআলা বলেন—

“নিশ্চয়ই নামাজ শেষ হলে তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করো দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে।”
(সূরা নিসা: ১০৩)

এই আয়াত প্রমাণ করে, নামাজ শেষের পর আল্লাহর জিকির ও দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।


 সালাম ফিরানোর পর সর্বপ্রথম যে দোয়াটি পড়া সুন্নত

১️. “আস্তাগফিরুল্লাহ” (৩ বার)

📿 সালাম ফিরানোর পর সুন্নত দোয়া

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

উচ্চারণ:
আস্তাগফিরুল্লাহ (৩ বার)

অর্থ:
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

📜 হাদীসের দলিল:
হযরত সাওবান (রা.) বলেন—

“রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাম ফিরানোর পর তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলতেন।”
(সহিহ মুসলিম: ৫৯১)


 এরপর যে দোয়াটি পড়তেন রাসূল ﷺ

২. “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম…”

📿 সালাম ফিরানোর পর সুন্নত দোয়া

اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ، وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম

অর্থ:
হে আল্লাহ! আপনি শান্তির উৎস, আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।

📜 হাদীস:
(সহিহ মুসলিম: ৫৯২)


 সালাম ফিরানোর পর পড়ার সুন্নত জিকিরসমূহ

৩️. তাসবিহ, তাহমিদ ও তাকবির

  • সুবহানাল্লাহ – ৩৩ বার

  • আলহামদুলিল্লাহ – ৩৩ বার

  • আল্লাহু আকবার – ৩৩ বার

📜 হাদীসের দলিল:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—

“যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পড়বে, তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।”
(সহিহ মুসলিম: ৫৯৭)


এরপর পড়া উত্তম দোয়া ও আয়াত

৪️. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা।

📿 সালাম ফিরানোর পর সুন্নত আমল

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۚ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۚ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

সূত্র:
সূরা বাকারা: ২৫৫

ফজিলত:
যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।

📖 সূরা বাকারা: ২৫৫

📜 হাদীস:

“যে ব্যক্তি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না।”
(নাসাঈ, সহিহ বলেছেন আলবানী)


৫️.তিন কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস)

📜 হাদীস:

রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তে নির্দেশ দিয়েছেন।
(সুনানে তিরমিজি: ২৯০৩)


❓ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করা কি সুন্নত?

🔹 ফরজ নামাজের পর সব সময় হাত তুলে দোয়া করা রাসূল ﷺ থেকে প্রমাণিত নয়
🔹 তবে কখনো বিশেষ প্রয়োজনে দোয়া করা জায়েজ।
🔹 সাধারণত রাসূল ﷺ জিকির ও মাসনূন দোয়া পড়তেন।


 নামাজের পর দোয়া কবুল হওয়ার কারণ

  • নামাজ ইবাদতের সর্বোচ্চ স্তর

  • সালামের পর সময়টি বরকতময়

  • বান্দা তখন আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে


 উপসংহার

সালাম ফিরানোর পর দোয়া ও জিকির করা রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। যদি আমরা নিয়মিতভাবে আস্তাগফিরুল্লাহ, আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, তাসবিহ-তাহমিদ-তাকবির, আয়াতুল কুরসি ও তিন কুল পড়ি—তবে ইনশাআল্লাহ আমাদের নামাজ পূর্ণতা পাবে এবং আল্লাহর রহমত লাভ হবে।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url